মহেশখালীর ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি পান

মহেশখালীর মিষ্টি পান

মহেশখালী, কক্সবাজার : কক্সবাজার জেলার সাগরকন্যা দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী ১টি পৌরসভা ও ৮টি জনবসতিপূর্ণ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ দ্বীপে প্রায় সকল পেশার মানুষ বসবাস করে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অধিকাংশ মানুষের পেশা হচ্ছে মিষ্টি পান উৎপাদন।

উপজেলার পানিরছড়া, বড় মহেশখালী, হোয়ানক, কালারমারছড়া, শাপলাপুর, ছোট মহেশখালী ইউনিয়ন সমূহ পাহাড়ীয়া ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিত। মিষ্টি পানের ফলন এবং স্থায়িত্ব সমতল ভূমির চেয়ে পাহাড়ী ভূমিতে বেশী হওয়ায় এসব ইউনিয়নে বসবাসরত একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবন ধারণের জন্য প্রধান পেশা হয়ে দাড়িয়েছে পান চাষ।

বর্তমানে লেবার খরচ, সার, কিটনাশক, বাঁশ, চন সহ পানবরজ তৈরীর সরঞ্জামাদির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিতের তুলনায় পান বরজ তৈরী করতে চাষীদের তিনগুন খরচ হচ্ছে বলে পানচাষী সূত্রে জানা যায়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান বাজারে ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি পানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় মহেশখালী উপজেলার পানচাষীরা হতাশায় ভূগছেন।

ছোটমহেশখালী ইউনিয়নের একাধিক পানচাষী জানান, সমতল ভূমির চেয়ে পাহাড়ী ভূমিতে পানবরজের স্থায়িত্ব বেশী থাকে। একটি পানবরজের জন্য সাধারণত ১০/১৫শতক জায়গার প্রয়োজন এবং এতে খরচ পড়বে আনুমানিক দেড় থেকে ২লক্ষ টাকার অধিক। বেশীর ভাগ দরিদ্র পানচাষী মহাজন থেকে উচ্চসূদে টাকা নিয়ে পান চাষ করছে।

এখন মিষ্টি পানের বাজার দর কম হওয়ায় অধিকাংশ চাষীরা মহাজন থেকে নেওয়া টাকা পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে এবং অভাব, অনটনে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ এ মিষ্টি পান চাষ থেকে বিরত থেকে অন্য পেশায় নির্ভরশীল হতে হবে এ দ্বীপের অধিকাংশ দরিদ্র পানচাষীদের। যার ফলে মহেশখালীর মিষ্টি পানের ঐতিহ্য চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে বলে দ্বীপে বসবাসরত নাগরিক সমাজ মনে করে।

পানচাষী সমিতির সভাপতি মোঃ শাহ আলম এ প্রতিনিধিকে জানান, মিষ্টি পানের সঠিক বাজার মূল্য না পাওয়া চাষীরা চরম ক্ষতির সম্মূখিন হচ্ছে। ভবিষ্যতে এভাবে চলতে থাকলে অধিকাংশ চাষীরা মিষ্টি পান চাষাবাদ বন্ধ করে দিতে পারে এবং যার ফলে সরকার হারাবে রাজস্ব। তাই দরিদ্র চাষীদের ভবিষ্যৎ এর কথা বিবেচনা করে পানের ন্যায্যমূল্য পেতে উচ্চ মহলের সহযোগীতা কামনা করছি।

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/২১১০২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য