শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মস্থলে কিশোরীর যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার সুপারিশ

আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে মানববন্ধন

ঢাকা, ১৫ অক্টোবর ২০১৬। আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে আজ ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানব বন্ধন ও সমাবেশ করেছে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উদ্যাপন জাতীয় কমিটি। মানব বন্ধন ও র‌্যালি থেকে দেশের স্কুল-কলেজ শিক্ষাক্রমে কিশোরীর যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষার বিষয়টি কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করা এবং এই শিক্ষা যেন কিশোরীরা যথাযথভাবে পেতে পারে তার পরিবেশ তৈরির দাবি জানান। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মস্থলে কিশোরীরা যেন যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য লাভ করতে পারে তা নিশ্চিত করারও সুপারিশ করা হয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, আজ বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় উদ্যাপন করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারও সারাদেশে র‌্যালি, সেমিনার, মানববন্ধন, মেলা আয়োজন এবং গ্রামীণ নারীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য সম্মাননা প্রদান সহ নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে এ বছর আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উদ্যাপন করা হচ্ছে। তারা আরও জানান, বাংলাদেশে ২০০০ সাল থেকে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) সম্পূর্ণ নিজেদের অর্থায়নে গ্রামীণ নারী দিবস উদ্যাপন করে আসছে। জাতীয় উদ্যাপন কমিটি’র ব্যানারে প্রতিবছর জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে তারা আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস পালন করা হয়ে থাকে।

আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উদ্যাপন জাতীয় কমিটির সচিবালয় সমন্বয়কারী মোস্তফা কামাল আকন্দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানব বন্ধন ও সমাবেশে আয়োকজকদের পক্ষ থেকে মূলবক্তব্য উপস্থাপন করেন জাতীয় কমিটির সচিবালয় সম্পাদক ফেরদৌস আরা রুমী। ‘কিশোরীর যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার অধিকার আমাদের অঙ্গিকার’ শীর্ষক এই মানব বন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে এতে আরও বক্তব্য উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের আমিনুর রসুল বাবুল, কোস্ট ট্রাস্টের সনত কুমার ভৌমিক ও শওকত আলী টুটুল এবং জাতীয় কমিটির সভাপ্রধান শামীমা আক্তার।

ফেরদৌস আরা রুমি উল্লেখ করেন, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ১০ থেকে ১৯ বছর বয়স পর্যন্ত সময়কে কৈশোর বলে। ১০ বছর এবং ১৯ বছর বয়সের মাঝামাঝি সময়টাকে বয়ঃসন্ধিকাল বলে। বাংলাদেশের মোট জনসংখার প্রায় এক-চতুর্থাংশ কিশোর কিশোরী। তাদের শিক্ষা, জীবন-দক্ষতা ও স্বাস্থ্যের উপর নির্ভর করছে আমাদের দেশের ভবিষ্যত। এই কিশোর-কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালে তার শরীরে ও মনে নানা ধরণের পরিবর্তন হতে শুরু করে। আমাদের স্কুল পাঠ্যবইয়ে বিষয়টি স্বল্প পরিসরে থাকলেও তার আলোচনা এবং কার্যকর শিক্ষা প্রদানে এখনও অনেক বাধা রয়ে গেছে।

সনত কুমার ভৌমিক বলেন, প্রজনন ও যৌন স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কিশোর-কিশোরী বতা তরুণ-তরুণীদের একটি অধিকার। এই সময়ে বিশেষ স্বাস্থ্য সেবা খুবই গুরত্বপূর্ণ হলেও নানা কারণে, বিশেষ করে সচেতনতার অভাব, গোপনীয়তা রক্ষার প্রবণতা, প্রকাশ্য আলোচনার সংকোচ ইত্যাদি কারণে উপযুক্তসেবা কিশোর-কিশোরীরা পাওয়ারক্ষেত্রে নানা সমস্যায় পড়ে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং কর্মস্থলে কিশোরীরা যেন প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা পায় তার পরিবেশ এখনও খুবই অপ্রতুল।

আমিনুর রসুর বাবুল বলেন, ১৯৯৮ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস হিসেবে এটি পালিত হচ্ছে। ২০০৭ সালে এসে এই দিবসটি এক বিশেষ স্বীকৃতি লাভ করে। জাতিসংঘ ২০০৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ পরিষদের সভায় ১৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস পালনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়। বিশ্বব্যাপী গ্রামীণ নারীর নানা সমস্য া সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদেরদৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশে এই বছর কিশোরী-তরুণ-তরুণীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে এবার এই দিবসটির প্রতিপাদ্য করা হয়েছে। কারণ এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো গেলে দেশের কোটি নারীর জন্য একটি স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে।

শামীমা আক্তার বলেন, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে এক ধরনের গোপনীয়তা রক্ষা করাই যেন আমাদের সংস্কৃতি হয়ে গেছে । অনেকেই মনে করেন, কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের এ ব্যাপারে এত বেশি জানানোর দরকার নেই। কখনও কখনও চিকিৎসকেরাও কিশোর-কিশোরী বা তরুণ-তরুণীদেরকে অভিভাবক সাথে আনতে বলেন বলে তারা এসংক্রান্ত সেবা গ্রহণে আগ্রহী হয় না। অভিভাবকেরাও তাদের সন্তানদের সঙ্গে বিষয়টি নিেিয় স্পষ্টভাবে আলোচনা করতে চান না অনেক সময়। এসব কারণে বিশেষ করে কিশোরীরা এ সংক্রান্ত স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণের প্রয়োজন হলেও সংকোচ বোধ করে। ফলে তাদের মধ্যে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা দেখা দেয়। এই বিষয়ে আমাদের গোপনীয়তা ভাংতে হবে।

শওকত আলী টুটুল বলেন, কিশোরীদের জন্য বিদ্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে সামগ্রিক যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে তারা অনাকাংক্সিক্ষত গর্ভধারণ ও যৌনবাহিত বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারে।

//উপকূল বাংলাদেশ/১৫১০২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য