সবুজ উপকূল ২০১৬, মহেশখালীর পড়ুয়া তাছিকা বললো সবুজ বনায়ন উপকূলবাসীর রক্ষাকবজ

বক্তব্য দিচ্ছে আসমাউল হুসনা তাছিকা

মহেশখালী, কক্সবাজার, ৬ অক্টোবর ২০১৬ : উপকূলীয় জেলা কক্সবাজারের মহেশখালীতে অনুষ্ঠিত ‘ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক সবুজ উপকূল ২০১৬’ কর্মসূচিতে পড়ুয়াদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দিতে গিয়ে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আসমাউল হুসনা তাছিকা বললো, সবুজ বনায়ন উপকুলবাসীর রক্ষাকবজ। ৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বড় মহেশখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে উৎসবমূখর পরিবেশে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচির আওতায় ছিল রচনা লিখন, কবিতা/ছড়া লিখন, পত্র লিখন, ছবি আঁকা ও সংবাদ লিখন প্রতিযোগিতা। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এছাড়াও ‘নতুন প্রজন্মের জন্য চাই সবুজ উপকূল’ বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয় এবং গাছের চারা রোপণ করা হয়। কর্মসূচি উপলক্ষে বিদ্যালয়ে প্রকাশিত হয় দেয়াল পত্রিকা ‘বেলাভূমি’র প্রথম সংখ্যা।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে আসমাউল হুসনা তাছিকা বললো, সাধারণত কূলের সমীপে যে অঞ্চল, তাকে বলা হয় উপকূল। অর্থাৎ নদী বা সাগরের পাড় থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত যে অঞ্চল, তাকে বলা হয় উপকূল। বাংলাদেশে ১৯টি উপকূলীয় জেলা রয়েছে। যার মধ্যে সুনিবিড় সাগরকণ্যা দ্বীপ কক্সবাজার জেলা অন্যতম। এই কক্সবাজার জেলায় লুকিয়ে আছে অপার সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী। এই মহেশখালী বহুকাল ধরে বহু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছে। আজ এই মহেশখালী দ্বীপটি বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ^ দরবারেও সুপরিচিত। তার পরিচিতির কারণগুলো হলো, পৃথিবী খ্যাত মিষ্টি পান, চিংড়ি, শুটকি, উৎপাদিত লবন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আদিনাথ মন্দির, বৌদ্ধবিহার এবং সমুদ্র সৈকত। এই দ্বীপটি আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল করে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
আসমাউল হুসনা তাছিকা আরও উল্লেখ করে, এত সম্ভাবনার পরেও এখানে বৃক্ষ নিধন আর বন নিধন প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন কারণে এখানকার বনভূমি ধ্বংসের পথে। যে গাছপালার ওপর আমাদের জীবন নির্ভর করে, যে গাছপালার জন্য আজ এই অঞ্চলগুলো উপকূল বলে পরিচিতি পেয়েছে, সে বনভূমি ধ্বংসের পথে। এই বনাঞ্চল রক্ষা করতে সরকার ও জনগনকে এগিয়ে আসতে হবে।

তাছিকা বলে, সবুজ বনায়ন উপকূলীয় মানুষের জন্য রক্ষাকবজ। তাই এই সবুজ বেষ্টনিকে রক্ষা করতে হবে। আমাদের এই অঞ্চল প্রতিনিয়ত ঘূর্ণিঝড়ের সম্মুখীন হচ্ছে। সবুজ বেষ্টনি পারে এই ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি অনেকাংশে কমাতে। তাই উপকূলবাসীর পক্ষে আমরা আকুল আবেদন জানাই যে, ‘গাছ লাগান, উপকূলীয় পরিবেশকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচান।’ আমাদের উপকূলকে গড়ে তুলুন সবুজ শ্যামল সোনার উপকূল।

তাছিকা উল্লেখ করে, আমি সবুজ উপকূল কর্মসূচির উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমাদের জাগিয়ে তোলার জন্যে। এই কর্মসূচির আগে আমাদের মাঝে এমন কোন চেতনাবোধ ছিল না। বুঝিনি কেন আবার উপকূলকে রক্ষা করতে হবে। আমরা ডুবেছিলাম অজ্ঞতার চার দেয়ালে। কিন্তু এই কর্মসূচি আমাদেরকে আলোর পথ দেখিয়েছে। এই কর্মসূচি আমাদের মাঝে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত প্রতিভা বিকাশেও সহায়তা করছে। এই উদ্যোগ আমাদেরকে মানুষের মত মানুষ হতে অনুপ্রাণিত করবে।

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/০৭১০২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য