সবুজ উপকূল ২০১৬, সন্দ্বীপে পড়ুয়াদের প্রতি উপকূলের সবুজ সুরক্ষার আহবান

অতিথিগণের কাছ থেকে পুরস্কার নিচ্ছেন এক পড়ুয়া

সেনেরহাট, সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম, ২৬ সেপ্টেম্বর : সবুজ সুরক্ষার স্কুল পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের পরিবেশ সুরক্ষায় এগিয়ে আসার আহবানের মধ্যদিয়ে চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের প্রাণকেন্দ্র সেনেরহাটে মুছাপুর হাজী আবদুল বাতেন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হল ‘ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক সবুজ উপকূল ২০১৬’ কর্মসূচি। সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এ উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানমালার আওতায় ছিল আলোচনা সভা, গাছের চারা রোপণ, পুরস্কার বিতরণ, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ। কর্মসূচি উপলক্ষে প্রকাশিত দেয়াল পত্রিকা ‘বেলাভূমি’র প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়। এতে চারপাশের পরিবেশ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের লেখা প্রকাশিত হয়।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় এই কর্মসূচির আয়োজন উপকূল বিষয়ক সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান ‘উপকূল বাংলাদেশ’। উপকূলের পড়ুয়াদের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানো, সৃজনশীল মেধার বিকাশ, লেখালেখি চর্চার মাধ্যমে তথ্যে প্রবেশাধিকারসহ প্রান্তিকের পড়ুয়াদের জীবন দক্ষতা বাড়ানো এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

মুছাপুর হাজী আব্দুল বাতেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাঈনুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সন্দ্বীপ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা এ বি এম সিদ্দিকুর রহমান। বক্তব্য দেন স›দ্বীপ পৌরসভার কাউন্সিলর মো. মোবারক হোসেন মাহমুদ, সন্দ্বীপ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. রহিমউল্লাহ, সেনেরহাট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. সোহরাব হোসেন, সন্দ্বীপ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস কামাল বাবু, সন্দ্বীপের কারিতাস কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন প্রমূখ।

সবুজ উপকূল ২০১৬ কর্মসূচি উপলক্ষে প্রকাশিত দেয়াল পত্রিকা বেলাভূমি

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সবুজ উপকূল ২০১৬ কর্মসূচির স্থানীয় বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও বেসরকারি সংস্থা ইপসা’র উপজেলা ম্যানেজার মো. সেলিম উল্লাহ। কর্মসূচির প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন উপকূল সাংবাদিক ও সবুজ উপকূল কর্মসূচির উদ্যোক্তা রফিকুল ইসলাম মন্টু। শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরে মুছাপুর হাজী আব্দুল বাতেন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র এস এম সিফাত উল্লাহ ফেরদৌস।

পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত, গীতা পাঠ ও সমবেত জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবর্গ বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন। এছাড়া অংশগ্রহনকারী বিদ্যালয়গুলোর প্রধানদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করে। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ রক্ষায় আগামী প্রজন্মের ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে বক্তারা বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও উপকূলের সবুজ বাঁচিয়ে রাখতে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে তরুণ প্রজন্মকে। গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছ কাটা রোধের ওপর জোর দেন বক্তারা। অনুষ্ঠানে স্কুল পড়ুয়াদের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষার্থীদের লেখালেখি চর্চা অব্যাহত রাখার আহবান জানানো হয়।

গাছের চারা বিতরণ করছেন প্রধান অতিথি

সবুজ উপকূল ২০১৬ কর্মসূচির আওতায় ৯ম-১০ম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ‘চারপাশের পরিবেশ সমস্যা ও উত্তরণের উপায়’ বিষয়ে রচনা লিখন প্রতিযোগিতায় ১ম হয়েছে মুছাপুর হাজী আবদুল বাতেন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর মার্জিয়া রহমান মিষ্টি, ২য় হয়েছে একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শাহরিয়ার আফরিন পূর্না, ৩য় হয়েছে একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর তনিমা রহমান ক্যাথি। একই শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ‘উপকূল’ বিষয়ে কবিতা/ছড়া প্রতিযোগিতায় ১ম হয়েছে মুছাপুর হাজী আবদুল বাতেন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর নূসরাত জাহান মমতা, ২য় হয়েছে রহমতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর মারিয়া ইয়াসমিন মিমু, ৩য় হয়েছে মুছাপুর হাজী আবদুল বাতেন উচ্চ বিদ্যালয় তাসমিম জাহান শাম্মী।

কর্মসূচির আওতায় ৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ‘সবুজ উপকূল সুরক্ষায় আমিও অংশীদার’ বিষয়ে পত্র লিখন প্রতিযোগিতায় ১ম হয়েছে মুছাপুর হাজী আবদুল বাতেন উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর রাবেয়া সুলতানা রাব্বী, ২য় হয়েছে একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর তাহমিদ হাসান সজীব, ৩য় হয়েছে রহমতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর সাদিয়া আক্তার। একই শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ‘আমার স্বপ্নের উপকূল’ বিষয়ে ছবি আঁকা প্রতিযোগিতায় ১ম হয়েছে মুছাপুর হাজী আবদুল বাতেন উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর মো. নাদিম উদ্দিন রবিন, ২য় হয়েছে রহমতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ফারহানা আক্তার, ৩য় হয়েছে মুছাপুর হাজী আবদুল বাতেন উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর নব চন্দ্র দাস।

বক্তব্য দিচ্ছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি

৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ‘চারপাশের যেকোন বিষয়’ নিয়ে সংবাদ লিখন প্রতিযোগিতায় ১ম হয়েছে মুছাপুর হাজী আবদুল বাতেন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর এস এম সিফাত উল্লাহ ফেরদৌস, ২য় হয়েছে রহমতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ফারিয়া ইসলাম ইমু, ৩য় হয়েছে মুছাপুর হাজী আবদুল বাতেন উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর সুমাইয়া নুরাইন রশ্মি।

কর্মসূচির আওতায় মেধাবী দশজন শিক্ষার্থীকে দেয়া হয় স্কুল ব্যাগ। এরা হলো, মুছাপুর হাজী আবদুল বাতেন উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর মো. ফয়সাল, জান্নাতুল ফেরদৌস, নূর নাহার পলি, মো. আরমান, সাজ্জাদ হোসেন, ষষ্ঠ শ্রেণীর তানজিনা আক্তার, মো. মামুন, অষ্টম শ্রেণীর আলিফ লাইলা, মো. হৃদয়, এবং আয়েশা বেগম।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে উপকূল বাংলাদেশ। এতে মিডিয়া পার্টনার হিসাবে ছিল একুশে টেলিভিশন, দৈনিক ইত্তেফাক, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস, রেডিও ভূমি ও বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম। আইটি পার্টনার ছিল আইটি প্রতিষ্ঠান ডটসিলিকন। আয়োজনে সহযোগিতা করেছে স্কুল পড়ুয়াদের লেখালেখির সংগঠণ আলোকযাত্রা।

কর্মসূচিতে স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের পরিবেশ সচেতনতার পাশাপাশি সৃজনশীল মেধা বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে পড়ুয়ারা লেখালেখির মাধ্যমে নিজেদের ভাবনা প্রকাশ করে।

বক্তব্য দিচ্ছে পড়ুয়া সিফাত ফেরদৌস

গত বছর সবুজ উপকূল ২০১৫ কর্মসূচির সফল সমাপ্তির ধারাবাহিকতায় এবার সবুজ উপকূল ২০১৬ কর্মসূচির যাত্রা শুরু হয়। এবার কর্মসূচির আওতায় এসেছে উপকূলের ১৪ জেলার ২৫টি উপজেলা। ২৬টি স্থানের ১১৬টি স্কুলের প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশ নিচ্ছে।

এবার স্কুল-ভিত্তিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে ভোলার সদর, তজুমদ্দিন, মনপুরা, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ, পটুয়াখালীর গলাচিপা ও কলাপাড়া, বরগুনার বেতাগী, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, বাগেরহাটের সদর, শরণখোলা, মোড়েলগঞ্জ, সাতক্ষীরার তালা, শ্যামনগর, খুলনার কয়রা, পাইকগাছা, লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের তোরাবগঞ্জ, হাজীরহাট, নোয়াখালীর হাতিয়া, সুবর্ণচর, ফেনীর সোনাগাজী, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, বাঁশখালী, এবং কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও টেকনাফ।

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/২৬০৯২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য