প্রান্তিকে পথ চলা!

মহেশখালীর ধলঘাটের যোগাযোগ চিত্র

মহেশখালী, কক্সবাজার : অবহেলিত মহেশখালী ধলঘাটা ও মাতারবাড়িতে দেড় লাখ মানুষ। সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে গড়ে ওঠা দ্বীপ কক্সবাজার জেলার মহেশখালী থানার অন্তর্গত দুটি ইউনিয়ন। প্রকৃতির অপূর্ব মনোমুগ্ধ পরিবেশ বিরাজমান। পাখির কিচিমিচি, সোনালীঁ ধানের দূলন, বর্ষার মৌসুমে চিংড়িতে ভরপুর নদী, নালা, খাল, বিল। গ্রীষ্মে সাদা লবনের মনোরম দৃশ্য মায়াবী বন্ধন আকাশে সূর্যের সাথে । শীতের হিমেল হাওয়া, নবান্নের আনন্দে গোলাভরা ধান। শীতেৱ সকাল মাতাৱবাড়ি অপূর্ব মায়াবী দৃশ্য সবুজ মাঠ জুড়ে।

বঙ্গপোসাগরের উত্তাল ডেউ বড়ই হিংস্র। তীর ভেঙ্গে চূর্ণবিচূর্ন করে দিল। তীর ভাঙ্গা সাগরের বুকে বেঁচে আছে হতদরিদ্র মানুষগুলো। ঘূর্নীঝড় রোনুয়ার আঘাতে লন্ডভন্ড গ্রাম দুটি, রাস্তা, ঘাট, ইত্যাদি। তবুও মানুষ মাঠির বন্ধ ছেড়ে যাচ্ছেনা। বর্ষার জোয়ারের পানিতে ভাসছে হত দরিদ্র মানুষ গুলো। ঘূর্নীঝড়, প্রকৃতিক দুর্যোগ, লোনাজল প্রবেশে সবুজ অরন্য কমে যাচ্ছে। পরিবেশ রক্ষার গাছপালা কমে যাচ্ছে। পর্যাক্রমে মাটিতে লবনাক্ততা বৃদ্ধি  পাচ্ছে।

জমি চলে গেছে সরকারি উন্নয়ন কর্মকান্ডে। সোনার মত জমি হারিয়ে মানুষের কর্মহীনতায় ভোগান্তির শেষ নেই। বেকারত্বের অভিশাপে গ্রাম ছেড়ে ছুটছে যুবক শহরে। কয়লা বিদুৎ প্রকল্পের কাজ চলছে ধীর গতিতে। ক্ষতিপূরণ তো মিলছেই না, পাশাপাশি রাস্তার বেহাল অবস্থায় মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। হতাশ মানুষ, হতাশ দরিদ্র নীপিড়িত মানুষ। চাইল্যাতলী সড়কে রোগী ও গর্ভবতী বোনদের চলার দৃশ্য, মানবতার পরাজয়। ধলঘাট, মাতারবাড়ির মানুষ হতাশায় ভূগছে। বর্ষায় ভাসছে। ভোগান্তির শেষ নেই।

এলাকাবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হোক, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও বেড়িবাঁধ নির্মাণের জোরলো দাবি এলাকাবাসীর।

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/১৭০৯২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য