সবুজ উপকূল ২০১৬, কয়রার তৌহিদ বললো আগামী প্রজন্মের তরুণদের সচেতন হতে হবে

বক্তব্য দিচ্ছে আমাদীর পড়ুয়া মো. তৌহিদুজ্জামান

আমাদী, কয়রা, খুলনা, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ : খুলনা জেলা সদর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে সুন্দরবন লাগোয়া উপজেলা কয়রার আমাদী তকিমউদ্দীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র মো. তৌহিদুজ্জামান উপকূলের পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী প্রজন্মের তরুণদের সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছে। বলেছে, একমাত্র আগামী প্রজন্মের উদ্যোগেই উপকূলের পরিবেশ সবুজ থাকতে পারে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরণের ব্যবস্থা নিতে হবে।

বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) খুলনার কয়রায় আমাদী তকিমউদ্দীন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক সবুজ উপকূল ২০১৬’ কর্মসূচির অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরতে গিয়ে মো. তৌহিদুজ্জামান এসব কথা বলেছে।

এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে তৌহিদুজ্জামান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে উপকূলের তুণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক অনুষ্ঠানের প্রথম নজির। এবং তা সত্যি চোখে পড়ার মত। এ ধরণের ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান করার জন্য আমাদী জায়গীরমহল তকিমউদ্দীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সবুজ উপকূল ২০১৬-কে ধন্যবাদ জানাই।

জলবায়ু পরিবর্তন একটি মারাত্মক সমস্যা উল্লেখ করে তৌহিদুজ্জামান বলে, জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত একটি বিষয়। কেননা জলবায়ু পরিবর্তন তৃতীয় বিশ্বের সকল দেশের জন্যএক বিরাট চ্যালেঞ্জ। বছর খানেক আগে পৃথিবী থেকে অস্তিত্বের অবসান ঘটিয়ে হারিয়ে যাওয়া বিশাল প্রাণী ডােইনোসরের মতোই আজ তৃতীয় বিশ্বের প্রযুক্তি ও জ্ঞান ভিত্তিক মানুষ ও অন্যান্য জীব প্রকৃতি অস্তিত্বের হুমকির মুখে পৌঁছেছে। এর একটিই মাত্র কারণ বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন। পৃথিবীর সকল দেশেই জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব কমবেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে বাংলাদেশে এর উপলব্ধি অনেকখানি বেশি। এর একটি অন্যতম কারণ, বনাঞ্চলের পরিমাণ ২৫ শতাংশের মধ্যে বাংলাদেশে মাত্র ১৩ শতাংশ।

তৌহিদুজ্জামান তার বক্তৃতায় আরও বলে, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঝড়-ঝাপটা বেড়েছে। বদলে গেছে আবহাওয়ার গতি-প্রকৃতি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, গত ৫০ বছরে দেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। এমনকি ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের তাপমাত্রা গড়ে ২ দশমিক ৪ ডিগ্রি বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পানির বাস্পায়নের হার বেড়ে যাবে এবং বাতাসের জলীয়বাস্পের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া মানে বাতাসের আদ্র্দ্রতা বৃদ্ধি পাওয়া। আর এর প্রভাবে তাপমাত্রা না বাড়লেও অনুভূত তাপমাত্রা বেড়ে যাবে। ফলে তাপমাত্রার তূলনায় বেশি গরম অনুভূত হবে। যার প্রভাব আমরা বর্তমানে এবং বিগত বছরগুলোতে অনুভব করতে পেরেছি।

তৌহিদুজ্জামান উল্লেখ করে, ২০১৪ সালে জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক প্যানেল জানায়, ত্বরিৎ ব্যবস্থা গ্রহন না করলে আগামী একুশ শতকের মধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াতে পারে এক দশমিক ৮ থেকে ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াসে। ফলে পর্বতের চূড়ার বরফ ও মেরু অঞ্চলের বরফ গলে পানিতে প্লাবিত হবে বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপের মত অনেক উপকূলীয় অংশ। বৈজ্ঞানিক এক সমীক্ষায় জানা গেছে, গ্রীনহাউস ইফেক্টের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এক মিটার বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে বাংলাদেশের  উপকূলীয় এলাকার প্রায় ২২ হাজার ৮৮৯ বর্গকিলোমিটার পানির নিচে চলে যেতে পারে।

তৌহিদুজ্জামান আরও বলে, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার অধিকাংশ মানুষ নিরক্ষর, স্বল্প শিক্ষিত এবং দারিদ্র্যপীড়িত। দারিদ্র্যতার কারণে তারা শিক্ষা থেকে পিছিয়ে আছে। তাদের ছেলেমেয়েরাও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। পরিবেশ বিপর্যয় বিষয়ে এদের ধারণা নেই। ধারণা নেই পরিশে বিপর্যয়ের কারণে সৃষ্ট ঝড়ের প্রস্তুতি সম্পর্ক। দুরোযগের সময়ে, এবং পরে কী করতে হবে, সে বিষয়েও এদের ধারণা সীমিত। তারা পরিবেশ সংরক্ষণেও সচেতন নয়। তারা শুধু জানে প্রকৃতিকে ব্যবহার করে খেয়ে পড়ে বাঁচতে। পরিবেশ সংরক্ষণে এদের এতটুকুও চিন্তাভাবনা নেই।

তৌহিদুজ্জামানের আহবান, এ অবস্থায় উপকূলের নতুন প্রজন্মের মাঝে সচেতনতার আলো ছড়াতে হবে। পরিবেশ বিষয়ে তাদেরকে যথাযথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তারা জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কমানো সম্ভব।

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/০৭০৯২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য