ঝুঁকিপূর্ন ভবন, পড়ুয়াদের স্কুলে যেতে ভয়!

ঝুঁকিতে ভবন, তাই বাইরে খোলা আকাশের নিচেই পাঠদান

জিয়ানগর, পিরোজপুর : পরিত্যক্ত ঘোষিত হলেও স্থানাভাবে মৃত্যু ঝুকি নিয়ে ক্লাশ চলে জিয়ানগরের পূর্ব চন্ডিপুর ও মধ্য কলারণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ২ টিতে। যে কোন মুহুর্তে ভবন ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে এ বিদ্যালয় দু’টির দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী। কাছাকাছি বিকল্প জায়গা না থাকায় এবং বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে নিমজ্জিত থাকায় বাধ্য হয়ে এক প্রকার জীবন হাতে নিয়ে এখানে ক্লাশ করছে শিক্ষার্থীরা ।

ঘটনা ১: উত্তর চন্ডিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়
চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না এমন করুন দশা উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের উত্তর চন্ডিপুর ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ১৯৯৫ সালে নির্মিত এ বিদ্যালয় ভননটি ২০ বছরের মাথায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় দেড় বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে।

বিদ্যালয়টির ২২ টি পিলার এবং ৭টি গ্রেড ভীমের প্রতিটি ফেটে লোহার রড় বের হয়ে গেছে। প্রতিটি কক্ষ ও বরান্দার বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরা সহ পলেস্তারা খসে পড়েছে। লিংটন গুলো ধ্বসে পড়ে লোহার রড বেড়িয়ে গেছে। ভেঙে গেছে প্রতিটি কক্ষের দরজা জানালা। ক্লাস চলাকালীন উপরের পলেস্তারা খসে পড়ে ছাত্রছাত্রীদের আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে ভবনটির পুরো ছাদ চুসে পানি পড়ায় বিদ্যালয়ের চেয়ার টেবিল, আসবাবপত্র ও বই খাতা ভিজে নস্ট হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এ বেহাল অবস্থার কারনে গত এক বছর আগে যেখানে ১০৫ জন শিক্ষার্থী ছিল সেখানে বর্তমানে ৬০ জন শিক্ষার্থী আছে। তাও আবার প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ জনের বেশি স্কুলে আসছে না।

অভিভাবকরা ভয়ে তাদের সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। কখনো বিদ্যালয়ের সামনে খোলা আকশের নিচে পাঠদান চালাতে হচ্ছে আবার কখনো নিরুপায় হয়ে বৃস্টির সময়ে ঐ পরিত্যাক্ত ভবনেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে তাদের।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোতালেব হোসেন কাজী জানান, বিদ্যালয়টির বর্তমান অনস্থা বর্ননা করে উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দেড় বছর আগে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। বিদ্যালয়ের পরিদর্শন খাতায় দেখা যায়, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিধানচন্দ্র গত ০২/৩/১৫, ০৬/৬/১৬ এবং ৩০/৮/১৬ তারিখ বিদ্যালয়টি পরিদর্শনকালে প্রতিবারই ভবনের অবস্থা জরাজীর্ণ উল্লেখ কওে সাবধানে ক্লাশকরার কথা লিখে এসেছেন।

ঘটনা ২: মধ্য কলারণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে মধ্য কলারণ রেজি: (বর্তমানে সরকারী) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি নির্মিত হয়। ২ বছর আগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফকরুল ইসলাম বিদ্যালয়টি  ঝুকিপূর্ণ মর্মে লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। কোন প্রতিকার না হওয়ায় জীবনের ঝুকি নিয়ে ঐ পরিত্যক্ত ভবনেই ক্লাশ চলে কোমলমতি শিশুদের।

সরজমিনে ঐ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় ছাত্র ছাত্রীরা ক্লাশ করছে। প্রতিটি কক্ষের ছাদের বীম ফেটে রড় বের হয়ে গেছে। পিলারগুলোতে বড় বড় ফাটল। শিক্ষার্থীরা জানালেন প্রায়ই ছাদ থেকে পলেস্তরা খসে পড়ে। বীম থেকে বেশি পলেস্তরা খসে পড়ে বলে প্রধান শিক্ষক সরাসরি বীমের নীচে কাউকে বসতে নিষেধ করেছেন। বিদ্যালয়ের মাঠ দেখা গেল হাটু পানিতে নিমজ্জিত। প্রতিবেশীরা মাঠের পানিতে মাছ ধরার জন্য একটা ফেরী জালও পেতেছেন। প্রধান শিক্ষক জানালেন, গত কয়েকদিন মাঠে আরো বেশি পানি ছিল। বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তাটি পানিতে তলানো। রাস্তায় একটি সুপারি গাছের সাকো দেয়া থাকলেও সেটা পানিতে ভেসে গেছে।

এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা জানান, বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়টি স্বাভাবিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। ভাল কোন রাস্তা-ঘাট নাই। রাস্তাগুলো খানা খন্দকে ভরা এবং পানিতে নিমজ্জিত থাকায় জোবার সময় (তেজ কটালে) অনেকটা জোয়ার ভাটার উপর নির্ভর করে বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের আসা যাওয়া করতে হয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) পূরবী রাণী দাস এ ব্যাপারে বলেন, কিছুদিন আগে আমি বিদ্যালয়  ২টি পরিদর্শণ করেছি। ভবনের অবকাঠামোগত অবস্থা খুবই বেহাল হয়ে পড়ায় তা পরিত্যাক্ত ঘোষনা করা হয়েছে।

// প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/০৭০৯২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য