সবুজ উপকূল ২০১৬, আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর পৃথিবী রেখে যাওয়ার প্রত্যাশা হাসনা হেনার

হাসনা হেনা (তুলি)

পাইকগাছা, খুলনা, ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ : খুলনার প্রান্তিক উপজেলা পাইকগাছার শহীদ জিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী হাসনা হেনা (তুলি) উপকূল সুরক্ষায় গাছ লাগানোর জন্য সবার প্রতি আহবান জানিয়েছে। বলেছে, আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে হবে সুন্দর পৃথিবী।

শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) খুলনার পাইকগাছায় ভোলানাথ সুখদা সুন্দরী মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক সবুজ উপকূল ২০১৬’ কর্মসূচির অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরতে গিয়ে হাসনা হেনা (তুলি) এসব কথা বলেছে।

হাসনা হেনা তার বক্তব্যে উল্লেখ করে, পৃথিবীর মানচিত্রে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই দেশ আয়তনে ক্ষুদ্র হলেও এখানে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যরে আাঁধার। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন এখানে অবস্থিত। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকতও আমাদের গর্ব। কিন্তু বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে সুজলা-সুফলা এই দেশ হারিয়ে ফেলছে তার আপন মহিমা। বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য যেখানে ইউরোপ আমেরিকার মত উষ্ণ দেশ দায়ী, সেখানে বেশি ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছি আমরা।

হাসনা হেনা আরও বলে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে আমাদের প্রকৃতির ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে আমাদের প্রকৃতি। পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে প্লাবিত হচ্ছে উপকূল এলাকা। বিলুপ্ত হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী। দেখা দিচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যাগ। বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে উপকূলীয় এলাকার মানুষ বেশি ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ছে। বৃক্ষ নিধন বৈশ্বিক উষ্ণতার একটি অন্যতম কারণ। একটি দেশের শতকরা ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকার কথা থাকলেও বাংলাদেশে এর পরিমাণ মাত্র ১৭ ভাগ।

গাছের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে হাসনা হেনা বলে, গাছ আমাদের পরম বন্ধু। গাছকে ভালোবাসার মধ্যদিয়ে আমরা প্রকৃতির সান্নিধ্য লাভ করি। গাছ থেকে আমরা আমাদের বেঁচে থাকার মূল উপাদান অক্সিজেন পাই। গাছ থেকে আমরা ফল-মূল পাই, যা আমাদের শরীরের পুষ্টি যোগায়। সবুজ গাছপালা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য বাড়ায়। গাছপালার কারণে প্রকৃতি থাকে সতেজ। তারপরও মানুষ নিজেদের স্বার্থ গাছপালা নিধন করছে। অথচ এই গাছ না থাকলে মানুষ কীভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহন করতো? মানুষ বা পশুপাখি কী খেয়ে বেঁচে থাকতো? কীভাবে জীবনধারণ করতো? গাছ না থাকলে আমরাই বা কীভাবে পৃথিবীতে বেঁচে থাকতাম? এটা আমাদের বোঝা উচিত।

হাসনা হেনা উল্লেখ করে, তাই, আমাদের সকলের উচিত বেশি পরিমাণে গাছ লাগানো। গাছপালা না থাকলে আমরাই ধ্বংস হয়ে যাবো। শেষ হয়ে যাবে আমাদের এই সুন্দর প্রকৃতি। থমকে যাবে আমাদের প্রত্যাশিত নতুন প্রজন্ম। আমরা যদি সবুজ উপকূল সুরক্ষা করতে না পারি, তাহলে বিপন্ন হয়ে যাবে আমাদের এই ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড়। বিপন্ন হবে আমাদের আগামী প্রজন্ম। আমরা আমাদের আগামী প্রজন্মকে টিকিয়ে রাখতে পারবো না।

হাসনাহেনা বলে, তাই আসুন, সবাই মিলে পরিবেশ সচেতনতা বাড়িয়ে তুলি। আমরা যারা তরুণ প্রজন্ম আছি, সবাই মিলে দায়িত্ব নেই। যার যতটুকু জায়গা আছে, তাতে প্রচূর বৃক্ষ রোপণ করি। ভবিষ্যত প্রজন্মকে একটি নির্মল প্রকৃতি ও নিরাপদ বিশ্ব উপহার দেয়া আমাদের সবার দায়িত্ব।

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/০৩০৯২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য