খুলনা মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স, কবে আসবে খেলাধূলার সুযোগ?

খুলনা বিভাগীয় মহিলা কমপ্লেক্স

খুলনা : অনেক বড় সবুজ মাঠ, দৃষ্টি নন্দন ভবন, খোলোয়াড়দের জন্য আবাসিক হোস্টেল, সুইমিংপুলসহ আছে নানা ব্যবস্থা। কিন্তু খেলাধুলা নেই খুলনা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে। এমনকি অবহেলা, রক্ষণাবেক্ষণ আর অব্যস্থাপনায় ধ্বংসের পথে যাচ্ছে এটি। ৬ বছর আগে ২০ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মান কাজ শুরু হলেও এখনও শেষ হয়নি। এতে করে ভালো খেলোয়াড় তৈরীর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে খুলনা বিভাগের নারীরা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি খেলাধুলার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বাকি কাজগুলো সমাপ্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

নারীদের খেলাধুলার উন্নয়নে খুলনার সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালের উত্তর পর্শ্বে প্রায় ৯ একর জমির ওপর ১৯৯৮ সালে তৈরী হয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স। এরপর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ২০১১ সালে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যায়ে উদ্যোগ নেয় ভবন সম্প্রসারণ, হোস্টেল নির্মান, সীমানা প্রাচীর, জিমনেসিয়াম ও সুইমিং পুল নির্মাণের। ২ বছর মেয়াদের এই প্রকল্পের নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর কয়েক দফা সময় বাড়নো হয়। আর তাতে প্রকল্প ব্যায় বেড়ে দাড়ায় ২০ কোটিতে। সে সময়ও পার হয়েছে প্রায় ২ বছর আগে। কিন্তু এখনও খেলার উপযোগী হয়নি। এমনকি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রকৌশল বিভাগ আনুষ্ঠানিক ভাবে কাউকে নির্মিত অবকাঠামো হস্তান্তরও করেনি।

মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কতটা বেহাল দশায় রয়েছে এটি। জিমনেসিয়াম ও সুইমিং পুলের জন্য দুটি পৃথক ভবন তৈরী হয়েছে। কিন্তু সুইমিং পুলে পানি নেই। আর জিমনেসিয়ামের কাজ এখনও অসুম্পূর্ণ। সেখানকার কনফাসেন্স রুমে ৮-১২টি চেয়ার ও ওয়ারড্রপ রয়েছে, আছে কিছু ফ্যানও, কিন্তু বিদ্যুৎ নেই। জিম রুমে শরীর চর্চার অল্প সংখ্যক কিছু মেশিন থাকলেও অযত্নে তা নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া গ্যালারী থাকলেও নাই চেয়ারের কোন বন্দোবাস্ত। এছাড়া ২৩ লক্ষ টাকায় কেনা একটি রোলার ও ঘাষ কাটার মেশির বছরের পর বছর অকেজো। গোটা এলাকা পরিণত হয়েছে গরু ছাগলের চারণভূমিতে। হস্তান্তরের আগেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভবনের অনেক যায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে, খসে পড়ছে পলেস্তরা। তবে ক্রীড়া কমপ্লেক্সের ২৪ জন কর্মী রয়েছে। সংগত কারনে প্রশ্ন তাহলে তারা কি করছে?

মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের হোস্টেল সুপার বাবুল হোসেন জানান, সুইমিং পুলের জন্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স অভ্যন্তরে বিদ্যুতের একটি সাবষ্টেশন তৈরী করা হয়েছে। কিন্তু এটি নির্মাণের তিন মাসের মধ্যে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে পুড়ে যায়, যা এখনও মেরামত করা হয়নি। ফলে সুইমিং পুল তৈরী হলেও পানির অভাবে সেটি চালু হচ্ছে না। আর জিমনেসিয়ামের নানা ইকুয়েভমেন্ট এখনও না কেনার ফলে সেটি ও ব্যবহার করা যাচ্ছে না।  অফিস সহকারী মোঃ নয়ন আলী বলেন, সারা মাঠে বড় বড় ঘাসআর ঝোপঝাড়ে ভরে গেছে। যেখানে সাপে আস্তানা গেড়েছে। অর্থের ও লোকবলের অভাবে পরিস্কার করা যাচ্ছে না।

বর্তমানে এখানে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় শুধু ভলিবল প্রশিক্ষণ হয়। উদীয়মান ক্রীড়াবিদ মেয়েরা নিজেরা এক প্রান্তে পরিস্কার করে প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। ভলিবল কোচ এস এম রেজাউল করিম জানান, মাঠ আর খেলাকে ভালোবেসে তিনি ২০-২৫ জন মেয়েকে নিয়ে নিজ উদ্যোগে ভলিবল প্রশিক্ষণ করান। নিজের টাকায় বল ও নেট কিনে মেয়েদের জড়ো করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে ভলিবল খেলোয়াড় রানু পারভীন বলেন, মেয়েরা হাজারো বাধা পেরিয়ে পরিবার ও সমাজের সাথে যুদ্ধ করে এক এক জন খেলোয়াড় হয়। তারপর থাকে মাঠসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের অভাব। কিন্তু এখানে অনেক কিছু থাকতেও হয় না কোন খেলা।

বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আবদুস সামাদ বলেন, মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সেকে খেলার উপযোগী করা ও খেলার প্রাণ ফিরিয়ে আনতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের সাথে তাঁর কথা হয়েছে। অচিরেই সব কিছুর সমাধান করে আনুষ্ঠানিক ভাবে সবকিছু হস্তান্তর করা হবে। কিন্তু কবে নাগাত হবে তা সঠিক ভাবে বলতে পারেননি তিনি।

খুলনা বিভাগের নারীদের জন্য একমাত্র ক্রীড়া কমপ্লেক্স এটি; চালু হলে বেরিয়ে আসবে উদীয়মান অনেক নারী খেলোয়াড়। যারা আগামীতে জাতীয় দলে অংশ নিয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে এমনটি মনে করেন এ অঞ্চলের মানুষ। তাই অতি দ্রুত সব কিছু ঠিক করে এটি নারীদের খেলার জন্য উন্মোক্ত করে দেয়ার দাবি ক্রীড়া প্রেমীদের।

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/০৪০৯২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য