নতুন প্রজন্মের জন্য ‘সবুজ উপকূল’

প্রকাশ ঘোষ বিধান

উপকূল সুরক্ষায় সবুজ আন্দোলন। সবুজ বলতে সব সময় তরতাজা। গাছপালা লাগানো, আর বাঁচিয়ে রেখে সবুজে ভোরের তোলা। আমরা চাই সুস্থ সবল একটা উপকূল, তাজা উপকূল। যেখানে দুর্যোগের বিধ্বংসী রূপ আর দেখা যাবে না। মানুষ নিরাপদে থাকবে সারা মৌসুম। স্বাস্থ্য-শিল্প থেকে শুরু করে কোন অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়। সারা মৌসুম বিরাজ করবে এক শান্তির পরিবেশ। আর এই কাজটির জন্য সব উদ্যোগের সঙ্গে আগামী প্রজন্মকে এগিয়ে আসার তাগিদটা যেন অনিবার্য হয়ে উঠেছে। ঠিক এই ধারণা ঘিরেই ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচির যাত্রা।

পিঁছিয়ে থাকা উপকূল অঞ্চলকে দেশের মূলধারার সঙ্গে আরো নিবিড় ভাবে সম্পৃক্ত করতে প্রায় ৫ বছর ধরে উপকূলের তথ্য প্রকাশে নিয়জিত রয়েছে ‘উপকূল বাংলাদেশ’। দেশের সমগ্র উপকূল অঞ্চল নিয়ে কাজ করছে উপকূল ভিত্তিক অনলাইন ওয়েব জার্নাল ‘উপকূল বাংলাদেশ’। সমগ্র উপকূল অঞ্চল নিয়ে এ ধরণের ব্যতিক্রমী গণমাধ্যম উদ্যোগ এটাই প্রথম।

পরিবেশ সুরক্ষাই উপকূলের স্কুল পড়-য়া ছেলে-মেয়েদের সচেতন করে তুলতে উপকূল জুড়ে ২০১৫ সাল থেকে সবুজ উপকূল কর্মসূচি শুরু হয়েছে। যার পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক লিঃ। আর এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে উপকূল নিয়ে কর্মরত প্রতিষ্ঠান ‘উপকূল বাংলাদেশ’। প্রথম বছরের সফলতার পথ ধরে দ্বিতীয় বছরে আরও বি¯তৃত পরিসরে সবুজ উপকূল ২০১৬ কর্মসূচি এগিয়ে চলেছে। এবার এই কর্মসূচির আওতায় দুইটি কেন্দ্রীয় কর্মসূচি, ১৪ জেলার ২৫টি উপজেলার ১১৬টি স্কুলের ৭৭৯২৩ শিক্ষার্থী, ১৬টি মাঠ কর্মসূচি, ২৭৬জন স্বেচ্ছাসেবক। কর্মসূচির আওতায় স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে ৫টি বিষয়ে সৃজনশীল প্রতিযোগিতা রয়েছে। এতে রয়েছে ‘চারপাশের পরিবেশ সমস্যা ও উত্তরণের উপায়’ বিষয়ে রচনা লিখন, ‘সবুজ উপকূল সুরক্ষায় আমিও অংশীদার’ বিষয়ে বন্ধুর কাছে পত্র লেখা, ‘উপকূল’ বিষয়ে কবিতা ও ছড়া লেখা, ‘চারপাশের যেকোন বিষয়ে’ সংবাদ লিখন এবং ‘আমার স্বপ্নের সবুজ উপকূল’ বিষয়ে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা। আরো রয়েছে গাছের চারা রোপন, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ ছাড়াও মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ। ‘উপকূল বাংলাদেশ’ এই অঞ্চলের তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চায় লেখালেখির ভাবনা। আর এ লক্ষে উপকূল বিভিন্ন স্কুলে প্রকাশ করা হচ্ছে দেয়াল পত্রিকা “বেলাভূমি”। দেয়াল পত্রিকার মাধ্যমে স্কুল পড়ুয়ারা লেখালেখিতেও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি চার পাশের পরিবেশ সম্পর্কেও সচেতন হচ্ছে। ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচির বাইরেও উপকূলের অন্তত অর্ধশত স্কুলে নিয়মিত বের হচ্ছে এই পত্রিকা।

সরকারি হিসাবে দেশের ১৯টি জেলার ১৪৮ উপজেলা উপকূলের অর্ন্তভূক্ত। তবে পশ্চাৎপদতার বিচারে ১৫ জেলার ১২১টি উপজেলা তথ্য-উপাত্ত প্রকাশে গুরুত্বারোপ করেছে উপকূল বাংলাদেশ। পিছিয়ে পড়া এই বৃহৎ অঞ্চলের সমস্যা-সম্ভাবনা ভিত্তিক খবরাখবর প্রকাশের পাশাপাশি এ অঞ্চলের উন্নয়নের খবরের দিকেও বিশেষ নজর রাখছে ওয়েব জার্নাল উপকূল বাংলাদেশ। সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে সমান গুরুত্বের সঙ্গে। বিশ্বে প্রায় ৭০টি দেশ থেকে উপকূল বাংলাদেশ ভিজিট করা হয়।

উপকূলের এ উন্নয়নে যার সব থেকে বড় উদ্যোগ তিনি উপকূল বাংলাদেশের পরিচালক ও উপকূল সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম মন্টু। তিনি ইতিমধ্যে উপকূল অঞ্চলে উপকূল সাংবাদিক হিসাবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। এই কর্মযজ্ঞকে সফল করতে তার সঙ্গে রয়েছে উপকূলের কর্মঠ, দক্ষ, নিষ্ঠাবান সাংবাদিকবৃন্দ।

সবুজ উপকূল কর্মসূচি উপকূলকে সবুজ রাখার আন্দোলন। গত বছর এই কর্মসূচি উপকূলের পড়ুয়াদের মাঝে যে সাড়া ফেলেছিল, এবারের কর্মসূচি সেই সচেতনতার পরিধি আরও বাড়িয়ে তুলেছে। উপকূলের পিছিয়ে থাকা জনপদের পড়ুয়াদের পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানো, সৃজনশীল মেধার বিকাশ আর জীবন দক্ষতা উন্নয়নে এই কর্মসূচি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আর সে কারণেই ব্যতিক্রমী ধারার সচেতনতা কার্যক্রম ‘সবুজ উপকূল’-এর যাত্রা যেন অব্যাহত থাকে, এমন প্রত্যাশা উপকূলবাসীর।

//উপকূল বাংলাদেশ/০৪০৯২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য