সবুজ উপকূল ২০১৬, ‘গাছ লাগাও, উপকূল বাঁচাও’ আহবান শরণখোলার পড়ুয়া শিহাবের

শরণখোলার রাজাপুরে সবুজ উপকূল ২০১৬ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছে এইচ এম মাসরিফ হাসান শিহাব

শরণখোলা, বাগেরহাট, ২৯ আগষ্ট ২০১৬ : বাগেরহাটের সিডর বিধ্বস্ত উপজেলা শরণখোলার রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র এইচ এম মাসরিফ হাসান শিহাব আহবান জানালো, গাছ লাগাও, পরিবেশ বাঁচাও। সহপাঠীদের প্রতি সবুজ উপকূল সুরক্ষার এই আহবান জানিয়ে শিহাব বললো, পরিবেশ সমস্যা থেকে উত্তরণের অন্যতম উপায় গাছ লাগানো।

সোমবার (২৯ আগষ্ট) বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক সবুজ উপকূল ২০১৬’ কর্মসূচির অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরতে গিয়ে শিহাব এসব কথা বলেছে।

শিহাব তার বক্তব্যে উল্লেখ করে, উপকূল সুরক্ষায় আমরাও অংশীদার। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপকূল সুরক্ষায় আমাদের প্রত্যেকের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা প্রয়োজন। প্রত্যেকেরই উচিত বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ ও উপকূলকে সবুজে সবুজে ভরিয়ে তোলা। প্রকৃতির রুক্ষতায় যখন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ভয়াল কবলেউপকূল অসহায়, ঠিক তখনই বৃক্ষ তার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে সবাইকে রক্ষা করছে। অথচ এই বৃক্ষকে আমরা অকাতরে দয়ামায়াহীনভাবে নিধন করছি। বিপদে পড়লে মানুষ আল্লাহর নাম করে; কিন্তু বিপদ কেটে গেলে তাকে ভুলে যায়। তেমনি প্রাকৃতিক বিপদের সময় বৃক্ষ নিধন না হলেও বিপদ কেটে গেলেই মানুষ বৃক্ষ নিধন শুরু করে। বন্যা-জলোচ্ছ্বাস সবই বৃক্ষ নিধনের ফল।

শিহাব আরও বলে, আমরা জানি প্রায় সব ধরণের প্রাকৃতিক বিপদেই আক্রান্ত হয় উপকূলবাসী। তাছাড়া প্রত্যেকবার প্রাকৃতিক বিপদে বহু মানুষ তাদের জীবিকার প্রধান উৎস্য হারায়। বর্তমান, অতীত ও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করলে দেখতে পাই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার বাস্তব রূপ জলোচ্ছ্বাসের মত বিপদ।

শিহাব তার বক্তব্যে বলে, বাংলাদেশের মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদও ভয়াবহতার কবলে পড়ে আজ বিধ্বংসী হচ্ছে। প্রভাবশালী কুচক্রী মহলের তৎপরতায় কিছু লোক সুন্দরবন ধ্বংস করছে। এছাড়া বালু উত্তোলন, জলাভূমি ভরাট, ট্যানারির বর্জ্য পরিবেশ দূষণের প্রধান কারণ। আর এই পরিবেশ দূষণই পরিবেশ ধ্বংসের প্রধান কারণ। তাই এই ভয়াবহতার হাত থেকে পরিবেশকে বাঁচাতে হবে। যা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

শিহাব বলে, উপকূলকে সবুজ রাখার লক্ষ্যে কাজ করছে ‘সবুজ উপকূল’ নামের ব্যতিক্রমী কর্মসূচি। সৃজনশীল মেধা বিকাশ আর পরিবেশ সচেতনতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। তাদের কথায় সুর মিলিয়ে বলতে চাই, পরিবেশ সমস্যা উত্তরণে বৃক্ষরোপণই প্রধান কাজ। গাছ লাগাবো, উপকূল বাঁচাবো। তাহলেই উপকূল থাকবে সবুজ।

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/২৯০৮২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য