সবুজ উপকুল ২০১৬, শরণখোলায় পড়ুয়ার কণ্ঠে উপকূলের পরিবেশ সুরক্ষার আহবান

শরণখোলার রাজাপুরে সবুজ উপকূল ২০১৬ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছে ইসরাত জাহান মিমি

শরণখোলা, বাগেরহাট, ২৮ আগষ্ট ২০১৬ : বাগেরহাটের সিডর বিধ্বস্ত উপজেলা শরণখোলার রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী ইসরাত জাহান মিমি সহপাঠীদের প্রতি সবুজ উপকূল সুরক্ষার আহবান জানালো। সবাইকে পরিবেশ বাঁচানোর লক্ষ্যে ব্যাপকহারে গাছ লাগানোর আহবান জানালো। আহবান জানালো পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানোর।

সোমবার (২৯ আগষ্ট) বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক সবুজ উপকূল ২০১৬’ কর্মসূচির অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরতে গিয়ে িইসরাত জাহান এসব কথা বলেছে।

বক্তব্য দিতে গিয়ে ইসরাত জাহার বললো, সবুজ উপকূল কী? এ বিষয়ে হয়তো কমবেশি আমরা সকলেই জানি। সবুজ বলতে আমরা সাধারণত গাছপালাকেই বুঝি। আর উপকূল হচ্ছে নদী বা সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল; অর্থাৎ সবুজ উপকূল হচ্ছে সমুদ্র তীরবর্তী গাছপালায় আচ্ছাদিত অঞ্চল বাএলাকা। দেশের দক্ষিণের ১৪৮টিউপজেলাউপকূলের অন্তর্ভূক্ত। আরএ উপকূলীয় এলাকার গুরুত্বপূর্ন অংশ হচ্ছে সুন্দরবন। যে সুন্দরবন ২০০৭ সালের সিডর ও ২০০৯ সালের আইলার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ থেকে আমাদেরকে রক্ষা করেছে। অথচ সেই সুন্দরবন আজ চোরাকারবারী ও অসচেতন মৌয়ালদের দ্বারা বিপন্ন। কিছুদিন আগেও সুন্দরবনে আগুন লেগে কয়েকশত কিলোমিটার জায়গার গাছপালা পুড়ে গেছে। এভাবে বনের গাছের সংখ্যা দিনকে দিন কমছে। পশুপাখি ও অন্যান্য জীবজন্তুও ক্ষতির মুখে পড়েছে।

ইসরাত তার বক্তব্যে আরও বলে, বৃক্ষ আমাদের কী না দেয়? আমাদের জীবন ধারণের জন্য অক্সিজেন, বাসস্থান, আসবাবপত্র ইত্যাদি সবই আমরা পাই গাছপালা থেকে। তাছাড়া বৃক্ষ কার্বনডাই অক্সাইডের মত বিষাক্ত গ্যাসকে শোষণ করে নিয়ে পৃথিবীকে বসবাসের উপযোগী করে তুলছে। বৃক্ষ ঝড়, বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি ইত্যাদির হাত থেকে আমাদের রক্ষা করছে।

ইসরাত বলে, যে বৃক্ষ আমাদের এত উপকারে আসে সেই বৃক্ষরাজিকে আমরা অকারণে কেটে ফেলছি। তাছাড়া উপকূলীয় এলাকার অধিকাংশ মানুষ বৃক্ষের গুরুত্ব বিষয়ে সচেতন নয়। যেখানে সরকার ঘোষণা করেছে একটি গাছ কাটার বিপরীতে ৫টি গাছের চারা রোপণ করতে, সেখানে অসচেতনতার কারণে মানুষ তা করছে না। এ রকম চলছে থাকলে উপকূলীয় এলাকায় অদূর ভবিষ্যতে ভয়ানক পরিস্থিতি ধারণ করবে।

সবার প্রতি পরিবেশ সুরক্ষার আহবান জানিয়ে ইসরাত বলে, আমাদের উচিৎ ব্যক্তিগত, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে উপকূলীয় এলাকার পতিত জমিতে, বসতবাড়ির আঙিনায়, রাস্তার দু’ধারে, নদীর পাড়ে বৃক্ষ রোপণ করে সবুজ উপকূল সৃষ্টি করা। এরফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে। আসুন, আমরা গাছ লাগাই, পরিবেশ বাঁচাই।

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/২৯০৮২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য