সবুজ উপকূল ২০১৬, বাগেরহাটে পড়ুয়ার কণ্ঠে সবুজ উপকূল রক্ষার আহবান

বক্তব্য দিচ্ছে কে. বি ফতেপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী নাসরিন আক্তার

বাগেরহাট, ২৮ আগষ্ট ২০১৬ : বাগেরহাটের কে. বি ফতেপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী নাসরিন আক্তার সবুজ উপকূল রক্ষার আহবান জানালো। বললো আমাদের অস্তিত্বের প্রয়োজনেই আমাদের উচিত সবুজ উপকূল রক্ষা করা। এজন্য আমাদের উচিত গণসচেতনতা সৃষ্টি করার তাগিদ তার।

রবিবার (২৮ আগষ্ট) বাগেরহাট সদরের বৈটপুরে উদ্দীপন বদর-সামছু বিদ্যানিকেতনে ‘ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক সবুজ উপকূল ২০১৬’ কর্মসূচির অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরতে গিয়ে নাসরিন এসব কথা বলেছে। বৈটপুরে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে কে. বি ফতেপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও অংশ নেয়।

বক্তব্য দিতে গিয়ে নাসরিন বললো, সবুজ উপকূল সম্পর্কে কিছু বলতে গেলে প্রথমেই মনে পড়ে সবুজ উপকূল কী? সবুজ উপকূল হচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চলের বনায়ন প্রকল্প ক্রিয়া। এই বনায়ন প্রকল্প ক্রিয়া ধীরে ধীরে আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা হারিয়ে ফেলছি আমাদের সবুজ উপকূলকে। বাংলাদেশ উপকূলবর্তী অঞ্চলের দেশ। এই দেশটি বর্তমানে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার। যেমন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, খরা, বন্যা ও লবনাক্ততা। ঘূর্ণিঝড় ও লবনাক্ততা এরমধ্যে অন্যতম। এরফলে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। আর জীববৈচিত্র্য ছাড়া পরিবেশ অস্তিত্বহীন।এতো গেল প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কথা। এর পাশাপাশি আবার মানুষেরাও সবুজ উপকূল ধ্বংস করছে। ব্যাপকহারে বৃক্ষ নিধন ও বন উজাড় করছে। যার ফলে পরিবেশের তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, আগামী ৮০ বছরে পরিবেশের তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস বৃদ্ধি পাবে। ফলে পৃথিবীর মেরু অঞ্চলের ৬০ লাখ বর্গমাইল এলাকার পৃথিবীর জলভাগের ৭০ শতাংশ যে পানির বরফস্তর জমে আছে,  তা পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে গলতে শুরু করবে। সাগরের জলরশি যদি ১ মিটার হারে বাড়ে তাহলে বাংলাদেশও মিশরের মত নিচু অঞ্চল ১০ মিটার সমুদ্রের নিচে নিমজ্জিত হবে।

তাই আমাদের উচিত সবুজ উপকূল রক্ষা করা। এজন্য আমাদের উচিত গণসচেতনতা সৃষ্টি করা। নিরক্ষর লোকদের সবুজ উপকূল বিষয়ে জ্ঞান দিতে হবে। কয়লা, তেল ইত্যাদির মত বিষাক্ত জ্বালানি ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে। সৌরশক্তির মত নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করতে হবে। তাহলে আমরা সবুজ উপকূল রক্ষা করতে পারবো।

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/২৮০৮২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য