সবুজ উপকূল ২০১৬, বাগেরহাটের বৈটপুরে স্কুল-শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতন হওয়ার আহবান

বাগেরহাটে সবুজ উপকূল ২০১৬ কর্মসূচিতে অংশগ্রহনকারীরা চিত্র প্রদর্শনীর ছবি দেখছে

বাগেরহাট, ২৮ আগষ্ট ২০১৬ : স্কুল পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের সবুজ সুরক্ষার আহবানের মধ্যদিয়ে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাট সদরের বৈটপুরে উদ্দীপন বদর-সামছু উদ্দীপন বিদ্যানিকেতন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হল ‘ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক সবুজ উপকূল ২০১৬’ কর্মসূচি। রোববার (২৮ আগষ্ট) এ উপলক্ষে বিদ্যালয় মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উপকূল বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক ও উন্নয়ন) মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন খানজাহান আলী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) খোন্দকার আছিফউদ্দিন রাখী এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক বাগেরহাট শাখার ব্যবস্থাপক মো. সাউদ রানা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সামছউদ্দীন নাহার ট্রাষ্টের প্রধান উপদেষ্টা সেখ আব্দুর ছত্তার।

অনুষ্ঠানে কর্মসূচির প্রেক্ষাপট ও উপকূলের সার্বিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন সবুজ উপকূল ২০১৬ কর্মসূচির কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ও উপকূল বিষয়ক ওয়েব জার্নাল উপকূল বাংলাদেশ-এর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মন্টু। স্বাগত বক্তব্য দেন কে. বি ফতেপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হরষিত চন্দ্র সাহা। এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরে কে বি ফতেপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী নাসরিন আক্তার। অনুষ্ঠান উপস্থাপন করেন বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম-এর বাগেরহাটের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ইনজামামুল হক।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করে উদ্দীপন বদর-সামছু বিদ্যানিকেতনের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র তরিকুল ইসলাম এবং পবিত্র গীতা পাঠ করে কে বি ফতেপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একই শ্রেণীর অভিষেক পাল।

বাগেরহাটে সবুজ উপকূল ২০১৬ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির কাছ থেকে পুরস্কার নিচ্ছে একজন বিজয়ী

আলোচনা সভায় বক্তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, উপকূল সুরক্ষায় আগামী প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। উপকূল অঞ্চল বিভিন্ন ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস এ অঞ্চলে প্রতি বছর হানা দেয়। এইসব কারণে আজকের পড়ুয়ারা ঝুঁকির মুখে আছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে তাদের রয়েছে নানান সমস্যা। এইসব সমস্যা মোকাবেলায় আগামী প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু গাছ লাগানো নয়, এর পাশাপাশি চারপাশের পরিবেশ রক্ষায় সজাগ হতে হবে। পরিবেশ ও ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। লেখালেখির মধ্যদিয়ে শিক্ষার্থীরা অনেক তথ্য আহরণের পাশাপাশি সচেতন হয়ে উঠতে পারে।

অনুষ্ঠানে বক্তাদের আলোচনা শেষে প্রতিযোগিতার পাঁচটি বিষয়ে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া লেখাপড়ায় অনুপ্রেরণা যোগাতে ১০জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে স্কুল ব্যাগ, খাতা ও কলম বিতরণ করা হয়। কর্মসূচি উপলক্ষে বিদ্যালয়ে দেয়াল পত্রিকা ‘বেলাভূমি’র ৩য় সংখ্যা প্রকাশিত হয়।

বাগেরহাটে সবুজ উপকূল ২০১৬ কর্মসূচিতে অংশগ্রহনকারী

সবুজ উপকূল ২০১৬ কর্মসূচির আওতায় ৯ম-১০ম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ‘পরিবেশ সমস্যা ও উত্তরণের উপায়’ শিরোনামে রচনা লিখন প্রতিযোগিতায় ১ম হয়েছে কে বি ফতেপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর সুমাইয়া আক্তার, ২য় হয়েছে বৈটপুর এম ইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর মুনমুন খাতুন, ৩য় হয়েছে কে বি ফতেপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর তহিজুল ইসলাম। একই শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত উপকূল বিষয়ে কবিতা/ছড়া প্রতিযোগিতায় ১ম হয়েছে নবম উদ্দীপন বদর-সামছু বিদ্যানিকেতনের নবম শ্রেণীর নাইম পাইক, ২য় হয়েছে একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর অনন্যা রহমান, ৩য় হয়েছে একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর মেঘলা আক্তার।

কর্মসূচির আওতায় ৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ‘সবুজ উপকূল সুরক্ষায় আমিও অংশীদার’ বিষয়ে পত্র লিখন প্রতিযোগিতায় ১ম হয়েছে কে বি ফতেপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর মিথিলা তালুকদার ইলা, ২য় হয়েছে একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর অভিষেক পাল, ৩য় হয়েছে বৈটপুর এম ইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর মেহেরুন নেছা মেরী। একই শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ‘আমার স্বপ্নের সবুজ উপকূল’ বিষয়ে ছবি আঁকা প্রতিযোগিতায় ১ম হয়েছে বৈটপুর এম ইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর নুসাইবা তাসনিম, ২য় হয়েছে একই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর নাবিল মাহমুদ, ৩য় হয়েছে একই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর আয়শা আক্তার।

বাগেরহাটে সবুজ উপকূল ২০১৬ কর্মসূচিতে বিজয়ীরা

কর্মসূচির আওতায় ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত নিজ এলাকার যে কোন বিষয়ে সংবাদ লিখন প্রতিযোগিতায় ১ম হয়েছে উদ্দীপন বদর-সামছু বিদ্যানিকেতনের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছামিন আক্তার, ২য় হয়েছে কে বি ফতেপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর সুমাইয়া আক্তার, ৩য় হয়েছে বৈটপুর এম ইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর শারমিন আক্তার।

মেধার ভিত্তিতে দশ শিক্ষার্থীকে স্কুল ব্যাগ দেওয়া হয়। এরা হচ্ছে : বৈটপুর এম ইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর মো. আল আমীন শেখ,নবম শ্রেণীর মুনমুন খাতুন, নবম শ্রেণীর মো. মাহাবুবুল ইসলাম, উদ্দীপন বদর-সামছু বিদ্যানিকেতনের ষষ্ঠ শ্রেণীর কাজল আক্তার, একই শ্রেণীর আজিজুল হাকিম, সপ্তম শ্রেণীর উম্মে হাবিবা, কে বি ফতেপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর নিয়ামুল ইসলাম, সপ্তম শ্রেণীর নাইম শেখ, নবম শ্রেণীর বৃষ্টি আক্তার এবং নবম শ্রেণীর নাসরিন আক্তার।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে উপকূল বাংলাদেশ। এতে মিডিয়া পার্টনার হিসাবে ছিল একুশে টেলিভিশন, দৈনিক ইত্তেফাক, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস, রেডিও ভূমি ও বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম। আইটি পার্টনার ছিল আইটি প্রতিষ্ঠান ডটসিলিকন। আয়োজনে সহযোগিতা করেছে স্কুল পড়ুয়াদের লেখালেখির সংগঠণ আলোকযাত্রা।

বাগেরহাটে সবুজ উপকূল ২০১৬ কর্মসূচির শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অংশ বিশেষ

কর্মসূচিতে স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের পরিবেশ সচেতনতার পাশাপাশি সৃজনশীল মেধা বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে পড়ুয়ারা লেখালেখির মাধ্যমে নিজেদের ভাবনা প্রকাশ করে।

গত বছর সবুজ উপকূল ২০১৫ কর্মসূচির সফল সমাপ্তির ধারাবাহিকতায় এবার সবুজ উপকূল ২০১৬ কর্মসূচির যাত্রা শুরু হয়। এবার কর্মসূচির আওতায় এসেছে উপকূলের ১৪ জেলার ২৫টি উপজেলা। ২৬টি স্থানের ১১৬টি স্কুলের প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশ নিচ্ছে।

এবার স্কুল-ভিত্তিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে ভোলার সদর, তজুমদ্দিন, মনপুরা, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ, পটুয়াখালীর গলাচিপা ও কলাপাড়া, বরগুনার বেতাগী, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, বাগেরহাটের সদর, শরণখোলা, মোড়েলগঞ্জ, সাতক্ষীরার তালা, শ্যামনগর, খুলনার কয়রা, পাইকগাছা, লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের তোরাবগঞ্জ, হাজীরহাট, নোয়াখালীর হাতিয়া, সুবর্ণচর, ফেনীর সোনাগাজী, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, বাঁশখালী, এবং কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও টেকনাফ।

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/২৮০৮২০১৬/

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য