মনপুরায় সবুজ উপকূল কর্মসূচিতে স্কুল পড়ুয়াদের পরিবেশ সচেতন হওয়ার তাগিদ

সবুজ উপকূল ২০১৬, মনপুরায় উৎসবমূখর পরিবেশ

মনপুরা, ভোলা, ১১ আগষ্ট ২০১৬ ।। ‘নতুন প্রজন্মের জন্য চাই সবুজ উপকূল’ এই স্লোগান সামনে রেখে দ্বীপ জেলা ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় অনুষ্ঠিত হল ‘ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক সবুজ উপকূল ২০১৬’ কর্মসূচি। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১১ আগষ্ট) সকালে মনপুরার প্রাণকেন্দ্রে হাজীরহাট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় অঙ্গণে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, গাছের চারা রোপণ, পুরস্কার বিতরণ, দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক ছাত্রছাত্রীর অংশগ্রহনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। কর্মসূচি উপলক্ষে বিদ্যালয়ের আলোকযাত্রা দল প্রকাশ করে দেয়াল পত্রিকা ‘বেলাভূমি’। এতে শিক্ষার্থীদের লেখা পরিবেশসহ চারপাশের বিষয়ক লেখা প্রকাশিত হয়।

সবুজ উপকূল ২০১৬ এর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মনপুরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একেএম শাহজাহান মিয়া। সভাপতিত্ব করেন হাজীরহাট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ২নং হাজীরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহরিয়ার চৌধুরী দ্বিপক।

অনুষ্ঠানে জলবায়ু পরিবর্তনে চরম ঝুঁকিতে থাকা উপকূল সুরক্ষার ওপর জোর দেন বক্তারা। তারা বলেন, উপকূল প্রতিনিয়ত চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস এই এলাকার মানুষ বার বার ক্ষতির সম্মুখীন হয়। একমাত্র দুর্যোগের কারণে এই এলাকা ছেড়ে বহু মানুষ জীবিকার সন্ধানে শহরে ছুঁটেছে। দুর্যোগে সংকটাপন্ন অবস্থায় বেড়ে উঠছে উপকূলের পড়ুয়ারা। এ অবস্থায় পরিবেশ সংরক্ষণে আগামী প্রজন্ম, বিশেষ করে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে। তাদেরকে সচেতন হতে হবে। গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে।

বক্তব্য দেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহমুদুর রশীদ, মনপুরা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার আবুল কাসেম মাতাব্বর, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শামসুর রহমান, মনপুরা থানার অফিসার্স ইনচার্জ শাহীন খান, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ভোলা শাখার ব্যবস্থাপক মো. মনজুরুল আহসান, উপজেলা বন কর্মকর্তা সুকুমার চন্দ্র শীল, হাজীরহাট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শুভেন্দু মজুমদার এবং সহকারী শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন।

সবুজ উপকূল ২০১৬, মনপুরায় বক্তব্য দিচ্ছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি

হাজীরহাট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সবুজ উপকূল ২০১৫ কর্মসূচির স্থানীয় বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক মো. আলমগীর হোসেন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। কর্মসূচির সার্বিক চিত্র এবং লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তুলে ধরেন আয়োজক প্রতিষ্ঠান উপকূল বাংলাদেশ-এর প্রধান রফিকুল ইসলাম মন্টু। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. সজীব উপকূলের সংকট নিয়ে বক্তব্য দেয়।

সকালে জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে। এরপর বক্তাদের আলোচনা শেষে রচনা লিখন, কবিতা/ছড়া লিখন, পত্র লিখন, ছবি আঁকা এবং সংবাদ লিখন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এরপর বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গাছের চারা রোপণ করা হয়। কর্মসূচি উপলক্ষে বিদ্যালয়ে ‘বেলাভূমি’ নামে একটি দেয়াল পত্রিকা প্রকাশিত হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে উপকূল বাংলাদেশ। এতে মিডিয়া পার্টনার হিসাবে ছিল একুশে টেলিভিশন, দৈনিক ইত্তেফাক, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস, রেডিও ভূমি ও বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম। আইটি পার্টনার ছিল আইটি প্রতিষ্ঠান ডটসিলিকন। আয়োজনে সহযোগিতা করেছে স্কুল পড়ুয়াদের লেখালেখির সংগঠণ আলোকযাত্রা।

সবুজ উপকূল ২০১৬, মনপুরায় বিজয়ীর হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে পুরস্কার

প্রধানত ৬ কারণে এই উপকূলের শিক্ষার্থীদের সামনে এ ধরণের একটি কর্মসূচি হাজির করা হয়েছে। কারণগুলো হচ্ছে, ১) উপকূল অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে আছে; ২) পরিবেশ সম্পর্কে তাদের সচেতনতা অনেক কম; ৩) জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা নেই; ৪) চাপাশের সাধারণ জ্ঞানের অভাব রয়েছে; ৫) সচেতনতামূলক তথ্য প্রাপ্তির সুযোগ কম; এবং ৬) পরিবর্তন সম্পর্কে উদ্যোগ গ্রহনের অভাব। প্রত্যক্ষভাবে উপকূলের স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির লক্ষ্য জনগোষ্ঠী হলেও পরোক্ষাভাবে এর সুফল পৌঁছাবে অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় নাগরিকদের মাঝে।

কর্মসূচিতে স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের পরিবেশ সচেতনতার পাশাপাশি সৃজনশীল মেধা বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে পড়ুয়ারা লেখালেখির মাধ্যমে নিজেদের ভাবনা প্রকাশ করে।

মনপুরায় সবুজ উপকূল ২০১৬ কর্মসূচিতে গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে

গত বছর সবুজ উপকূল ২০১৫ কর্মসূচির সফল সমাপ্তির ধারাবাহিকতায় এবার সবুজ উপকূল ২০১৬ কর্মসূচির যাত্রা শুরু হয়। এবার কর্মসূচির আওতায় এসেছে উপকূলের ১৪ জেলার ২৫টি উপজেলা। ২৬টি স্থানের ১১৬টি স্কুলের প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশ নিচ্ছে।

এবার স্কুল-ভিত্তিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে ভোলার সদর, তজুমদ্দিন, মনপুরা, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ, পটুয়াখালীর গলাচিপা ও কলাপাড়া, বরগুনার বেতাগী, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, বাগেরহাটের সদর, শরণখোলা, মোড়েলগঞ্জ, সাতক্ষীরার তালা, শ্যামনগর, খুলনার কয়রা, পাইকগাছা, লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের তোরাবগঞ্জ, হাজীরহাট, নোয়াখালীর হাতিয়া, সুবর্ণচর, ফেনীর সোনাগাজী, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, বাঁশখালী, এবং কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও টেকনাফ।

২৬টি মাঠ কর্মসূচি শেষে ডিসেম্বরে ঢাকায় সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে সবুজ উপকূল ২০১৬ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/১১০৮২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য