কমলনগরে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ ও বেড়িবাঁধ সংকটে জনদুর্ভোগ

ঝূঁকিপূর্ন বাঁধকমলনগর, লক্ষ্মীপুর : উপকূলের প্রান্তিকের বিপন্ন জনপদ লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা। মেঘনার তীব্র ভাঙ্গনে বেশ কয়েকটি বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে গেছে। ভারী বর্ষন আর জোয়ারের পানির প্রবল ধাক্কায় বর্তমানে বেড়িবাঁধগুলো ধ্বসে পড়ছে।এসব বেড়িবাঁধ ঘুরলে জানা যায় বেশ কয়েকবার বিধ্বস্তের শিকার হওয়ার পর সংস্কার করেও সঠিক সমাধান মিলছেনা।এসব বেড়িবাঁধ একদিকে যেমন চওড়া করে বাঁধ দেওয়া হচ্ছেনা অন্যদিকে বেড়িবাঁধগুলো নির্মাণের সময় যে পরিমাণ ফুট হিসেবে বাঁধ দেওয়া কথা তাও হচ্ছেনা। এতে,জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে এসব বেড়িবাঁধগুলোর উপর দিয়ে পানি গড়িয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করে।

এতে, ক্ষতির সম্মুক্ষীণ হয় এলাকার কৃষি ক্ষেতগুলো এবং এই প্রান্তিকে বসাবসরত সাধারণ মানুষগুলো।মেঘনার প্রবল ভাঙ্গনে ইতিমধ্যে কমলনগরের বেশ কয়েকটি বিলীন হওয়ায় ঈদ আনন্দ যেন স্লান হয়ে গেছে।

উপজেলার মার্টিন, কালকিনি, সাহেবের হাট, চর ফলকনসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষগুলো পানিবন্দি হওয়ায় প্রতিক্ষণ দূর্ভোগ যেন বেড়েই চলছে। অন্যদিকে বিলীন হওয়া বেড়িবাঁগুলো ছাড়াও এলাকায় রয়েছে বেড়িবাঁধ সংকট।

যার ফলে পানির সাথে প্রতিক্ষণ যুদ্ধ করতে হচ্ছে তাদের। ভাত রান্নার চুলা গুলো এখন দৈনিক দুইবার পরিষ্কার করে যাচ্ছে জোয়ারের পানি।

স্থানীয় মার্টিন ৮নং ওয়ার্ড ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংলগ্ন বাসিন্দা মো.সায়েদল হক জানান, আমাদের দূর্ভোগ যেন কোন বছরেই কমতেছেনা। প্রতিবছর আমরা ভোগান্তিতে পড়া ছাড়া আর কোন বিকল্প উপায় থাকেনা।

এ সর্ম্পকে মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডা.আলী আহম্মদ জানান, অধিক জোয়ার হওয়ায় বেড়িবাঁধগুলো সংস্কার করা যাচ্ছেনা।

বিষয়টি সম্পর্কে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম মজুমদার দুঃখ প্রকাশ করে জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি আমলে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়ে হয়েছে।

অতএব, অনতিবিলম্বে নিম্মাঞ্চলের এই অন্যতম সমস্যাটুকু প্রশাসন আমলে নিবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

//প্রতিবেদন// উপকূল বাংলাদেশ/২১০৭২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য