তজুমদ্দিনে জোয়ারে প্লাবিত ২০ গ্রাম, ঈদ-আনন্দ ম্লান

তজুমদ্দিন ভাসছে জোয়ারের পানিতেতজুমদ্দিন, ভোলা : ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই জোয়ারের পানিতে প্লাবিত তজুমদ্দিনের অন্তত ২০ টি গ্রাম। জোয়ার আসলেই ঘর বাড়ি রাস্তা ঘাট সবই পানিতে ভরপুর। এসময় মানুষ থাকে পানি বন্দি হয়ে।

পবিত্র মাহে রমজান মাস  এভাবেই পানির সাথে যুদ্ধ করে কোন মতে দিন যাপন  করেছে পানি বন্ধি প্রায় ২০ হাজার মানুষ। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে এসব ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে নেই ঈদের আনন্দ । ব্যস্ততা নেই ঈদের কেনাকাটা নিয়ে। মানবেতর জীবন যাপন করা এসব পরিবারের চোঁখে মুখে শুধু হতাশার ছাপ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের চৌমহনী ও হাজি কান্দি গ্রামে মেঘনা নদীর ভাঙ্গনের ফলে এই দুটি স্পটে বেড়ী বাঁধ হুমকির মুখে পড়ে। কর্তৃপক্ষ শুল্ক মৌসুমে ভেঙ্গে যাওয়া বেড়ীবাঁধ মেরামত না করায় অরক্ষিত হয়ে পড়ে  তজুমদ্দিন উপজেলা সদরসহ ৫টি ইউনিয়ন । গত ২১ মে রোয়ানুর প্রভাবে মেঘনায় অস্বাভাবিক জোয়ারের চাপে এই দুটি স্পটে বেঁড়ি বাঁধ ভেঙ্গে হু-হু করে লোকালয়ে পানি ঢুকে অন্তত ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়।

অমাবশ্যার সৃষ্ট জোয়ারের প্রভাবে নদীতে স্বাভাবিকতার চেয়ে ৩-৪ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রবিবার থেকে নতুন করে উপজেলা সদর সহ আরো প্রায় ১০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ঘর বাড়ি রাস্তা ঘাট সবই জোয়ারের পানিতে টুইটুম্বর। বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।  পানি বন্ধি এসব মানুষগুলো দূর্ভোগের শেষ নেই। পরিবার পরিজন নিয়ে মানবতের জীবন যাপন করছে। আর কদিন পরেই ঈদ। এসব পরিবার গুলোর মাঝে নেই কোন ঈদের আনন্দ। ঈদের আনন্দের পরিবর্তে বিরাজ করছে হতাশা।

একদিকে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ অন্যদিকে জোয়ারের পানির সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে বেঁচে থাকা। সব মিলিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে এসব পরিবার গুলো। তারা সবার মতো করে ঈদের আনন্দ ভোগ করতে পারবেনা বলে হতাশা হয়ে পড়েছে। আর এভাবেই দুঃখ - দূর্দশার মধ্যে দিয়েই কাটাতে হবে ঈদ।

কথা হয় জেলে রফিজল মাঝির সাথে। ছেলে সন্তান নিয়ে ৬ জনের। একমাত্র আয়ের উৎস্য হলো নদীতে মাছ ধরে জীবীকা নির্বাহ করা।  তিনি বলেন, মৌসুমের শুরু থেকেই নদীতে তেমন মাছ পাওয়া যায় না। আয় উর্পাজন নেই ছেলে ময়েদের জন্য নতুন জামা কাপড় কিনমু কি সংসার চালতেই হয় ধার কর্জ করে।

পানি বন্ধি সুলতান আহম্মেদ ও জাকির বলেন, গত কয়েকদিন পূর্বে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আমাদের ঘর দুয়ার সব শেষ করে দেয়। সব কিছু ঘুছিয়ে উঠতে না উঠতেই ঘরের ভিতরে এখন আবার হাটু পরিমান জোয়ারের পানি। দৈনিক দুই বার করে জোয়ারের পানিতে ডুবে থাকে ঘর ভিটা। কেউ খোঁজ খবর নিতে পর্যন্ত আসে না। সন্তানদের নিয়ে নির্ঘম রাত কাটাতে হয়। এবার মনে হয় আমাদের ঈদ কাটাতে হবে পানির ভিতরে।

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/০৪০৭২০১৬//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য