নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইলিশ ধরতে জেলেরা নদীতে

corbis-42-28890460.jpgপয়লা বৈশাখ সামনে রেখে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর তীরের মাছঘাটগুলোতে চারটি (এক হালি) ইলিশ দুই থেকে আট হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের এমন আকাশছোঁয়া দাম দেখে জেলেরা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দিন-রাত নদীতে মাছ ধরছেন। অথচ মার্চ-এপ্রিল-এই দুই মাস মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে জাল ফেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসন রাজনৈতিক সংঘাত মোকাবিলায় মাঠে ব্যস্ত। নদীতে অভিযান চালানোর তাই কেউ নেই বলে স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ভোলা জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, জাটকাসহ অন্যান্য মাছের রেণপোনা রক্ষার জন্য বছরের সাত মাস (নভেম্বর-মে) জাটকা সংরক্ষণ মৌসুম ধরা হয়েছে। এর মধ্যে মার্চ-এপ্রিল-এই দুই মাস মেঘনা ও তেঁতুলিয়ার ১৯০ কিলোমিটার জলসীমানায় জাল ফেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত বছরগুলোতে মাছ ধরার নিষিদ্ধ মৌসুমে অভিযান চললেও এ বছর অভিযান চালানো হয়নি বললেই চলে। সম্প্রতি সরেজমিনে ভোলার মেঘনা নদীর ইলিশা বিশ্বরোডের মাথা মাছঘাটে, কাচিয়া কাঠির মাথা, ধনিয়া তুলাতুলি, নাছিরমাঝি, শিবপুর ভোলা খালের মাথা, মাঝের চর; দৌলতখানের মাঝিরহাট, মুন্সিরহাট, গুপ্তমুন্সি, চৌকিঘাটা, পাতারখাল, হাজিরহাটসহ বোরহানউদ্দিন, তজুমদ্দিন, মনপুরা, চরফ্যাশন ও তেঁতুলিয়ার তীরে শান্তিরহাট, গঙ্গাপুর, ব্যাংকেরহাটসহ ১৩০টি মাছঘাটে ইলিশ, জাটকাসহ পোনামাছ কেনাবেচা করতে দেখা গেছে। মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে কয়েক হাজার নৌকায় করে ইলিশ ও জাটকা ধরা হচ্ছে। সেই মাছ লঞ্চ, ট্রলার ও ট্রাকে করে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু নদীতে জাল ফেলা নিষিদ্ধের সঙ্গে সঙ্গে মৎস্য অধিদপ্তর ইলিশ বহন, ক্রয়-বিক্রয়ও নিষিদ্ধ করেছে। বোরহানউদ্দিনের সাচড়া ইউনিয়নের চর সামসুদ্দিনের সাহে আলম মাঝি, জাহাঙ্গীর হোসেন, আবুল হোসেন মাঝি; হাসান নগর ইউনিয়নের হাকিমউদ্দিন মাছঘাটের আবদুল মালেক মাঝিসহ কয়েক হাজার জেলে নদীতে মাছ ধরছিলেন। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কেন মাছ ধরছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তাঁরা বলেন, মার্চ মাসে মাছ ধরেননি। অভাবে সংসার চলেনি। অনেকে ঋণী হয়ে পড়েছেন। যারা চুরি করে মাছ ধরছে, তারা ভালো দামে বিক্রি করছে। তাই দেখে তাঁরা নদীতে নেমেছেন।
লালমোহন উপজেলার বাত্তির খালের মৎস্য আড়তের ফারুক পিটার বলেন, এখন নদীতে ভালোই ইলিশ পড়ছে। এখানে এক হালি ইলিশ চার থেকে আট হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জাটকা বিক্রি হচ্ছে হালি দুই হাজার টাকায়। জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি জেলা শাখার সভাপতি নুরুল ইসলামের ভাষ্য, মার্চের শুরুর দিকে কিছু অভিযান চালানো হয়েছিল। পরে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মেঘনায় কোনো অভিযান চালায়নি। মৎস্য অধিদপ্তরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রীতিশ কুমার মল্লিক ও দৌলতখান উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামাল জানান, এ বছর তাঁরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকদের সহযোগিতা না পাওয়ায় কম অভিযান করেছেন। কোস্টগার্ড অভিযান চালায় কি না, তা তাঁরা বলতে পারেন না।
কোস্টগার্ড দক্ষিণাঞ্চলের জোনাল কমান্ডার সেলিম রেজা বলেন, ‘আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। জলসীমানায় আমাদের অনেক কাজ করতে হয়। তার পরও আমরা জাটকা সংরক্ষণকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।’ ভোলার পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান বলেন, ‘দেশে হরতাল, লংমার্চ, রাজনৈতিক সংঘাত মোকাবিলায় পুলিশ বাহিনী মাঠে রয়েছে সত্য। তবে আমরা ওসিদের জাটকা সংরক্ষণে নদীতে অভিযান চালাতে বলেছি।’ অভিযান কম হওয়ার সত্যতা স্বীকার করে ভোলার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, ‘জাল ফেলা বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত নদীতে পাঠানোর চেষ্টা করছি।’ - প্রথম আলো

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য