আকর্ষণীয় ইলিশ পার্ক, দ্বার খুলছে কুয়াকাটায়

, কুয়াকাটার ইলিশ পার্ক, মস্তবড় এক ইলিশকুয়াকাটা : পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণে পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় এবার দ্বার খুলছে ইলিশ পার্ক এন্ড রিসোর্ট। এখানে রয়েছে সুবিশাল ইলিশ রেস্তোরাঁ। যেখানে ইলিশের পেটের ভেতরে বসেই খাওয়া যাবে ইলিশের হরেক পদ। উদ্বোধন হয়নি এখনও, তবুও বহু মানুষের ভিড় জমছে এখানে। যেন এমন একটি বিনোদন উদ্যোগের জন্যেই আগন্তুকেরা অপেক্ষা করেছিলেন।

গোটা উপকূল জুড়ে পর্যটকদের আকর্ষণে এ ধরণের উদ্যোগ এটাই প্রথম। কুয়াকাটা তো দূরের কথা, বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারেও এর আগে ধরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সমুদ্র পাড়ের পর্যটনে ইলিশ কেন্দ্রিক বিশেষ এই উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে এলাকাবাসী মনে করছেন।

ইলিশ পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাংবাদিক রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানালেন, পর্যটকদের বিনোদনে বাড়তি কিছু যোগ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ইলিশ কেন্দ্রিক কিছুই এখানে ছিল না। সমুদ্র পাড়ে ইলিশকে বাদ দিয়ে কিছু হতে পারে না। তাই ইলিশের আকৃতিতে একটি রেস্তোরাঁ থাকছে এখানে। থাকছে ইলশ পার্ক।

তিনি জানান, সমুদ্র পাড়ে এ ধরণের একটি উদ্যোগের ভাবনা ছিল অনেক আগে থেকেই। কিন্তু সময় ও সুযোগের অভাবে এতদিন করা সম্ভব হয়নি। চলতি মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে পার্কটির দ্বার খুলবে বলে জানালেন তিনি।

ইলিশ পার্ক, কুয়াকাটাসূত্র বলেছে, ইলিশ পার্কের জমির পরিমান ২ বিঘা। পার্কিং ও পার্ক সহ পার্কে আসতে মহা সড়ক ও সী বীচ  থেকে  চারটি রাস্তা রয়েছে। ২০১৫ সালের শুরুর দিকে পার্কের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে পার্কের বেশিরভাগ কাজই শেষের পথে। ইতোমধ্যে ৭২ ফুট লম্বা ইলিশ ক্যাফেটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

ইলিশ অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষন ইলিশ পার্কে পর্যটকদের জন্য রয়েছে ৫টি গোল ঘর, ইলিশ ক্যাফে, লেক, ফিস মিউজিয়াম, ফটোগ্যালারী, সাম্পান মঞ্চ, জুস কর্নার সহ লাইভ এ্যনিমল ও বিভিন্ন প্রানীর ভাষ্কর্য। এছাড়াও তৈরি হচ্ছে উডেন কটেজ, শিশুদের বিনোদন পার্ক। পার্কে ছন , বাঁশ ও কাঠের তৈরি ঘর ও আসবাবপত্রগুলো পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষন।

ইলিশ পার্ক, কুয়াকাটাইলিশ পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, ইলিশ কুয়াকাটা সহ উপকূলের মানুষের অন্যতম সম্পদ। কুয়াকাটাকে আরো পরিচিত করতে ইলিশ পার্ক নাম করণ করা হয়েছে। ইলিশ পার্কের ইলিশ ক্যাফেতে পর্যটকদের জন্য থাকবে ইলিশর সব রকমের মজাদার খাবার। এছাড়াও সামুদ্রিক মাছের ফ্রাই সহ থাকবে বারবিকিউ। পিকনিক, কনফারেন্স, কনসার্ট, বিয়েসহ যে কোন অনুষ্ঠানের জন্য পার্কটি ভাড়া নেয়ারও সুযোগ থাকবে।

কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। উদ্বোধন হয়নি ইলিশ পার্ক। তবুও মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। এখনই এটি দেখার জন্য প্রচুর পর্যটক ভিড় করছেন।

//প্রতিবেদক উপকূল বাংলাদেশ/কুয়াকাটা/১২১২২০১৫//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য