গঙ্গাস্নান ও রাস মেলা, উৎসব মুখরিত কুয়াকাটা

কুয়াকাটায় রাস উৎসবের আমেজকুয়াকাটা : ব্যাপক নিরাপত্তা, উৎসাহ উদ্দিপনা, ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্য, রাতভর শ্রী কৃষ্ণের নাম যজ্ঞ ও উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে কুয়াকাটায় উৎযাপিত হলো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় অনুষ্ঠান গঙ্গাস্নান ও শ্রী কৃঞ্চের রাস লীলা উৎসব।

বুধবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল ৫ টায় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোঃ গাউস গঙ্গাস্নান ও রাস মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

তিন দিন ব্যাপী এ রাস লীলা উৎসবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক পূন্যার্থী ও দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাস উদযাপন কমিটি।

বুধবার সকাল ৬ টা ৪২ মিনিটে পূর্ণিমার লগ্ন লাগার সাথে হাজার হাজার পূন্যার্থীরা উলু ধ্বনি দিতে দিতে এক যোগে সমুদ্রে গঙ্গাস্নানে ঝাঁপিয়ে পরেন। সমুদ্রে স্নান শেরে শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণের যূগল দর্শন শেষে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত পূণ্যার্থী ও দর্শনার্থীরা নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে শুরু করেন। তবে শ্রী শ্রী রাধা কৃঞ্চ মন্দির কমিটি জানিয়েছেন বুধবার দিনগত রাত ৪ টা ৪৬ মিনিটে পূর্নিমার লগ্ন থাকাকালীন পর্যন্ত  গঙ্গাস্নান উৎসব চলবে। বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) সকালে শেষ হবে এ উৎসব।

স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদার শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ মন্দির ও মেলা পরিদর্শন করেছেন।

মেলায় বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৩ শতাধিক ভাসমান দোকানিরা রং বে রংঙের বাহারি মেলার সামগ্রীর পসরা বসিয়ে ছিল। অপরদিকে কুয়াকাটা হোটেল মোটেল সুত্রে জানান,এ বছর রাস মেলা ও গঙ্গাস্নান উৎসবে একাধিক আবাসিক হোটেলের রুম খালী পরে রয়েছে। মেলা উপলক্ষ্যে ভিআইপি ও প্রথম শ্রেনীর পর্যটক এবং দর্শনার্থীরা কুয়াকাটায় এবার খুবই কম এসেছে।

অন্যান্য বারের চেয়ে এ বছর মেলায় ব্যবসায়ীদের বেচা কেনা খুবই ভাল হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। গত বারের চেয়ে এবছর পূণ্যার্থীদের আগমন ছিল অনেক কম। প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাস মেলায় আগত পূণ্যার্থীদের নিরাপত্তা দিতে আনসার ভিডিপি, পুলিশ, র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে  ফেলে পর্যটন নগরী কুয়াকাটাকে। বিভিন্ন পয়েন্টে চেক পোষ্ট এর মাধ্যমে পূন্যার্থীদের নজর রাখা হয়েছে।

কুয়াকাটা শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ মন্দিরের পরিচালক ও পুরোহিত ভ্রম্রচারী শিশির মহারাজ জানান, বুধবার সকালে পূর্ণিমার লগ্ন শুরু হওয়ার পর পরই বেশির ভাগ পূণ্যার্থীরা স্নান সেরে যার যার গন্তব্যে চলে গেছে। বুধবার যে সব পূন্যার্থীরা রাস উৎসবে যোগ দিতে এসেছেন, তারা পূর্ণিমার লগ্ন শেষ হওয়া পর্যন্ত স্নান সেরে বৃহস্পতিবার ভোরে কুয়াকাটা ত্যাগ করবেন।

//কাজী সাঈদ/উপকূল বাংলাদেশ/কুয়াকাটা/২৫১১২০১৫//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য