কুয়াকাটা সৈকতের সানসেট পয়েন্ট ক্ষতবিক্ষত!

কুয়াকাটা সৈকতের সানসেট পয়েন্ট এভাবেই ক্ষতবিক্ষত হয়ে আছেকলাপাড়া (পটুয়াখালী) : কুয়াকাটা সৈকতের সানসেট পয়েন্ট এখন পর্যটকদের কাছে ডেনজার পয়েন্ট। বালু ক্ষয়ের কারনে সৈকতের পশ্চিম দিকের বিস্তীর্ন এলাকা জুড়ে সাগরের ভাঙ্গনে বিলীন হওয়া বনাঞ্চলের গাছের গুঁড়ি জেগে ওঠায় সৈকতে পায়ে হাঁটা এখন বিপদজনক হয়ে পড়েছে। সেই সাথে বালুচরে জেগে ওঠা গাছের গুড়ি উত্তোলন করতে মূল সৈকত খোড়াখুড়ি করা এবং মাছ শিকারের জন্য জেলেরা গভীর সমুদ্রে জাল ফেলার জন্য সৈকতে লোহার প্রাফি পুতে রাখায় প্রতিদিনই পর্যটকরা দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সৈকতকে ঘিরে সরকারের মাষ্টারপ্লান থাকলেও সৈকতকে রক্ষার কোন প্লান বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। সৈকত ঘেষা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত নারিকেল বাগান ও তাল বাগানটি সাগরের ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে কয়েক বছর আগেই। ইকোপার্ক ঘেষা ঝাউবাগানটি সমুদ্রের ঢেউয়ের তান্ডবে ইতিমধ্যে দুই তৃতীয়াংশ বিলীন হয়ে গেছে। কিন্তু সৈকত ও সৈকত ঘেষা প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে নতুন কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছেনা।

সরেজমিনে কুয়াকাটা সৈকত ঘুরে দেখা যায়, পশ্চিম দিকের সাসসেট পয়েন্টের বিস্তীর্ন সৈকত জুড়ে নতুন করে জেগে উঠেছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের গোড়া। সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে সৈকতের বালুর স্তর ধুইয়ে মাটি বের হয়ে যাওয়ায় সৈকতের মাইলের পর মাইল এলাকা জুড়ে ২/৩ ফুট উচুতে জেগে উঠেছেন এ গোড়া। কুয়াকাটা শুটকি পল্লী থেকে খাজুরা বনাঞ্চল পর্যন্ত গত ২/৩ মাস পূর্বে এ গাছের গুঁড়ি জেগে উঠেছে বলে স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান।

কুয়াকাটা গ্রামের বাসিন্দা আনাসার মিয়া জানান, সৈকতের পশ্চিম দিক থেকে বালু উত্তোলন ও এখানকার বাসিন্দারা রান্নার কাঠ সংগ্রহের জন্য গাছের গুঁড়ি খোঁজার জন্য বেপরোয়া ভাবে সৈকত খ্োঁড়াখুড়ি করায় সৈকতের বালুর স্তর আলগা হয়ে গেছে। জোয়ারের সময় এ বালু সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে যাওয়ায় এখন মাটি বের হয়ে যাওয়ায় এক সময়ে এখানে থাকা বনাঞ্চলের (বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে) গাছের গোড়া জেগে উঠেছে।

কুয়াকাটায় ভ্রমনে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অর্নব জানান, গত বর্ষায় কুয়াকাটায় তারা ঘুরতে এলেও এ গাছের গোড়া দেখেননি। এবার রাতে এখানে ঘুরতে এসে তাদের সহপাঠীরা এ গাছের গোড়ায় পা আটকে দূর্ঘটনার শিকার হয়েছে।

জেলে সুজন তালুকদার, হিরন মিয়া বলেন, রাতে আমরা মাছ ধইর‌্যা আগে এইহান দিয়া (সানসেট পয়েন্ট) হাইট্রা যাইতাম। এ্যাহন আর এইহানে ট্রলার ভিড়াইতে পারিনা। অনেক দূরে ভিড়াইতে হয়। রাইতে অনেক জেলের এই গাছের শিকরে পা কাইট্রা গেছে।

কুয়াকাটায় ভ্রমনে আসা পর্যটক তিহাম নূর, আনিমা ইসলাম, জ্যোতি জানান, সৈকতের জিড়ো পয়েন্ট থেকে তারা সানসেট পয়েন্টে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন। তারা সন্ধায় হাঁটতে গিয়ে দেখেন ২/৫ ইঞ্চি সাইজের ম্যানগ্রোভ গাছের শিকড় ও বিভিন্ন গাছের গুড়ি জেগে আছে। এ গুঁড়িতে পা আটকে তাদের পাঁচ সঙ্গী আহত হয়েছে।

কুয়াকাটায় ভ্রমনে আসা একাধিক পর্যটক জানান, কুয়াকাটা সৈকত পর্যটকদের ভ্রমনের জন্য নিরাপদ হলেও এখানের প্রাকৃতিক জঞ্জাল তাদের বিপাকে ফেলছে। কুয়াকাটা বিচের সৌন্দর্য রক্ষায় মূল সৈকত থেকে এ গাছের গোঁড়া ও বালুতে আটকা পড়া শতশত খুটা উঠিয়ে ফেললে অন্ধকারেও সৈকতে তারা নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াতে পারবে।

খাজুরা বিট কর্মকর্তা পলাশ চক্রবর্তী জানান, খাজুরা বনাঞ্চলের সৈকত ঘেষা অংশ সমুদ্রের ভাঙ্গনে বিলীন হওয়ায় ওই গাছের গোড়া জেগে উঠেছে। এ গাছের গুঁড়ি বালুর স্তরে ঢাকা থাকলেও গত বর্ষায় সৈকতের বাস্তর স্তর ক্ষয়ের কারনে এখন জেগে উঠেছে।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, সৈকতের সানসেট পয়েন্টের গাছের গুড়ির কারনে পর্যটকরা দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। জরুরী ভিত্তিতে সৈকত পরিস্কারের উদ্যেগ নেয়া উচিত।

কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.আবুল খায়ের জানান, কুয়াকাটা সৈকতের জিড়ো পয়েন্ট ও ভাঙ্গন রোধে একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। সৈকত রক্ষার কাজ শুরু হলে পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমনে আর কোন সমস্যা হবে না।

//মিলন কর্মকার রাজু/উপকূল বাংলাদেশ/কলাপাড়া-পটুয়াখালী/২২১১২০১৫//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য