মূলধন সংকটে শরণখোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের সুপারির ব্যবসা

মোকামে নেওয়ার জন্য সুপারি ওজন দেয়া হচ্ছেশরণখোলা (বাগেরহাট) : বাগেরহাটের শরণখোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলে চলতি বছরে অর্থকরী ফসল হিসাবে খ্যাত সুপারির বাম্পার ফলন হলেও বাজার মূল্য কম থাকায় তেমন খুশি নন এ অঞ্চলের চাষী ও ব্যাবসায়ীরা। পাশাপাশি মূলধন সংকটের কারনে ইচ্ছা মাফিক ব্যাবসার প্রসার ঘটাতে পারছেনা এ অঞ্চলের ব্যাবসায়ীরা।

চলতি বছর শরণখোলাসহ  জেলার বিভিন্ন এলাকায় গত বছরের তুলনায় সুপারির ব্যাপক ফলন পেয়ে প্রাথমিক পর্যায় চাষীরা খুশি হলেও বাজারে দাম কম থাকার কারনে তা মলিন হচ্ছে। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ২২০ পিচ সুপারি (এককুড়ি) ১৫০/২০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও গত বছর একই পরিমান সুপারির দাম ছিল ৩৫০/৪০০ টাকা। বাজারে বিক্রি ছাড়াও গ্রাম গঞ্জে অতিথি আপ্যায়নে পান সুপারির বেশ চাহিদা রয়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি বছর উপজেলার ৫০ হেক্টর জমিতে ৩ শতাধিক চাষীর প্রায় ৭ মেট্রিক টন সুপারির ফলন হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুন। এবছর বাজারে সুপারির দাম কম থাকায় তেমন খুশি নন চাষীরা।

তবে ফলন ভালো হওয়ায় তারা উচ্ছাসিত। উপজেলার মঠেরপাড় এলাকার বাসিন্দা চাষী মোঃ আনোয়ার  হোসেন ও শরণখোলা এলাকার বাসিন্দা চাষী মোঃ আবুল আসলাম তুহিন বয়াতী বলেন, সুপারির ফলন খুব ভালো হলেও দাম কম থাকায় চাষীদের মুখে পূর্বের মত হাসি নেই।

অপরদিকে, রায়েন্দা এলাকার ব্যাবসায়ী রফিকুল শিকদার, নাসির মোল্লা, আঃ জব্বার, আঃ জলিলসহ অনেকে বলেন, তারা মৌসুম শুরুতে গ্রাম গঞ্জের বিভিন্ন হাট বাজার হতে পাকা সুপারি ক্রয় করে রোদে শুকানোর পর স্থানীয় পদ্ধতিতে প্রসেসিং করে এ,বি,সি তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেন।

পরবর্তীতে বাগেরহাট, খুলনা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, রংপুর, দিনাজপুর, সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন আড়তে মন হিসাবে বিক্রি করেন। ১৫০/২০০ টাকায় ২২০ পিচ সুপারি ক্রয়ের পর পরিবহন খরচ, রোদে শুকানোর খরচ, স্থানীয় শ্রমিকদের মাধ্যমে ৩/৪ টাকা কেজিতে খরচ ধরে সুপারির উপরের অংশের আবরন খসানোসহ বিভিন্ন খরচ মেটাতে হয়। সকল খরচ বাদ দিয়ে সুপারি বাছাই শেষে বিক্রি করতে গেলে চলতি মৌসুমে তেমন লাভ করতে পারবেন না বলে আশংঙ্কা তাদের।

তবে এ শিল্পকে প্রসারিত করতে সরকারী/বেসরকারী উদ্দোগ্যে সহজ শর্তে ঋণের প্রয়োজন বলে অভিমত তাদের। ঋণ সুবিধা না থাকায় স্থানীয় মহাজনদের নিকট থেকে বাধ্য হয়ে প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা দাদন নিতে হয় এ অঞ্চলের ব্যাবসায়ীদের। সারা মৌসুম ধরে কষ্ট করে ২/৪ টাকা লাভ করতে পারলেও তার একটি বড় অংশ তুলে দিতে হয় দাদন ব্যবসায়ীদের হাতে।

এ বিষয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌমিত্র সরকার বলেন, চলতি বছর সুপারির বাম্পার ফলন হওয়ায় চাষীরা উচ্ছাসিত। তবে বাজারে দাম কম থাকলে সেখানে কৃষি বিভাগের করার কিছু নেই। চাষীদের কোন সমস্যা হলে তারা শুধু পরামর্শ দিতে পারেন। মূলধন সংকটের বিষয় সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের মালিক কেবল মাত্র সরকারও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক।

//শেখ মোহাম্মদ আলী/উপকূল বাংলাদেশ/শরণখোলা-বাগেরহাট/০৫১১২০১৫//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য