বাগেরহাটে এফএসআইবিএল সবুজ উপকূল কর্মসূচি ২০১৫ অনুষ্ঠিত

সবুজ উপকূল ২০১৫ কর্মসূচিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানবাগেরহাট : স্কুল পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের সবুজ সুরক্ষার আহবানের মধ্যদিয়ে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাট সদরের বৈটপুরে উদ্দীপন বদ-সামছু বিদ্যানিকেতনে অনুষ্ঠিত হল ‘ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক সবুজ উপকূল ২০১৫’ কর্মসূচি। ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার এ উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্কুলের শিক্ষার্থীরা সঙ্গীত, জারিগান ও নৃত্যে মাতিয়ে তোলে অনুষ্ঠানস্থল।

অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, গাছের চারা রোপণ, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কর্মসূচি উপলক্ষে বিদ্যালয়ের ‘আলোকযাত্রা’ দল প্রকাশ করে ‘বেলাভূমি’ নামের দেয়াল পত্রিকা। এতে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ বিষয়ক লেখা প্রকাশিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আজমুল হক ভেন্যু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে গাছের চারা হস্তান্তর করেন এবং বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গাছের চারা রোপণ করে গাছ লাগানো কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে ২টি স্কুলের সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। স্কুলগুলো হচ্ছে : উদ্দীপন বদ-সামছু বিদ্যানিকেতনে ও কে বি ফতেহপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উপকূল বাংলাদেশ।

‘সবুজ বাঁচাই, সবুজে বাঁচি’ স্লোগান সামনে রেখে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে আলোচনার নির্ধারিত বিষয় ছিল ‘সবুজ উপকূল সুরক্ষায় আগামী প্রজন্মের করণীয়’। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আজমুল হক। উদ্দীপন বদ-সামছু বিদ্যানিকেতনের প্রধান উপদেষ্টা শেখ আবদুস সাত্তার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাগেরহাটের সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. হারুন অর রশিদ মজুমদার, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের বাগেরহাট শাখা ব্যবস্থাপক মো. সাউদ রানা হাওলাদার এবং বেমরতা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সেখ জহিরুল ইসলাম মিঠু। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উন্মেষ-এর পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, কে বি ফতেহপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হরষিৎ চন্দ্র সাহা, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের বাগেরহাট প্রতিনিধি আহাদ হায়দার, খানজাহান আলী ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক খন্দকার আসিফ উদ্দিন রাখি, এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য তুলে ধরে অনন্যা রহমান ও স্বপ্না আক্তার। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজক প্রতিষ্ঠান উপকূল বাংলাদেশ-এর পরিচালক রফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উদ্দীপন বদর-সামছু বিদ্যানিকেতনের সহকারী শিক্ষক সুবল কুমার বনিক ও বদর-সামছু ট্রাস্টের রিলেশনস অফিসার তাছফিয়া জাহান দীপা।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ রক্ষায় আগামী প্রজন্মের ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে বক্তারা বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও উপকূলের সবুজ বাঁচিয়ে রাখতে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে তরুণ প্রজন্মকে। গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছ কাটা রোধের ওপর জোর দেন বক্তারা। অনুষ্ঠানে স্কুল পড়ুয়াদের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষার্থীদের লেখালেখি চর্চা অব্যাহত রাখার আহবান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে ‘সবুজ উপকূল সুরক্ষায় আমার ভাবনা’ বিষয়ে রচনা লিখন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে কে বি ফতেহপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর মেহেদী হাসান, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর তাইজুল ইসলাম, তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে উদ্দীপন বদর-সামছু বিদ্যানিকেতনের নবম শ্রেণীর অনন্যা রহমান।

একই বিষয়ে পত্র লিখন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে কে বি ফতেহপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর রায়হানাতুল জান্নাত, দ্বিতীয় হয়েছে একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর তাইজুল ইসলাম, তৃতীয় হয়েছে উদ্দীপন বদর-সামছু বিদ্যানিকেতনের অনন্যা রহমান।

দেয়াল পত্রিকা লিখন প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে উদ্দীপন বদর-সামছু বিদ্যানিকেতনের অস্টম শ্রেণীর নাঈম পাইক, দ্বিতীয় হয়েছে একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর রাহাতুল ইসলাম, তৃতীয় হয়েছে একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর মেঘলা আকতার।

বিজয়ীদের পুরস্কার হিসাবে বই ও সাফল্য সনদ দেয়া হয়। এছাড়া সকল অংশগ্রহনকারীদের বিশেষ পুরস্কার এবং অংশগ্রহনকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানকে অংশগ্রহনকারী সনদ দেয়া হয়।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের পর জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে। আর অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে। এ অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল কবিতা আবৃত্তি, দলীয় কৌতুক, একক সঙ্গীত, দলীয় সঙ্গীত ও নৃত্য।

অনুষ্ঠানে মিডিয়া পার্টনার হিসাবে ছিল এটিএন বাংলা, এটিএন নিউজ ও দৈনিক সমকাল, আইটি পার্টনার ছিল আইটি প্রতিষ্ঠান ডট সিলিকন। আয়োজনে সহযোগিতা করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কোস্টট্রাস্ট ও স্কুল পড়–য়াদের লেখালেখির সংগঠণ আলোকযাত্রা।

উপকূলের ১০ জেলার ১৩টি উপজেলা এই কর্মসূচির আওতায় এসেছে। ১৫টি স্থানের ৭০টি স্কুলের প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশ নিচ্ছে। স্কুল-ভিত্তিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে ভোলার তজুমদ্দিন, মনপুরা, বরগুনা সদর, পটুয়াখালীর কলাপাড়া, সাতক্ষীরার তালা, খুলনার পাইকগাছা, বাগেরহাটের সদর, মোরেলগঞ্জ, পিরোজপুরের কাউখালী, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর (২টি), চট্টগ্রামের বাঁশখালী এবং কক্সবাজারের সদর ও মহেশখালীতে। ১৪টি স্কুল-ভিত্তিক কর্মসূচি শেষে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে দ্বীপ জেলা ভোলা সদরে। ৮ সেপ্টেম্বর ভোলার তজুমদ্দিন থেকে এই কর্মসূচির সূচনা ঘটে।

কর্মসূচিতে স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের সৃজনশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রচনা লিখন, পত্র লিখন এবং দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে শিক্ষার্থীরা। লেখালেখির মাধ্যমে ওরা প্রকাশ করেছে নিজেদের কথা।

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য