সুন্দরবন রক্ষায় পেশাজীবীদের কোরআন শপথ

সুন্দরবনশরণখোলা (বাগেরহাট) : বিষ প্রয়োগ করে মৎস সম্পদ আহরণ ও বন ধ্বংসকারী আর কোনো কর্মকান্ড করবেন না বলে শপথ নিয়েছেন সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল বাগেরহাটের শরণখোলার জেলে ও মহাজনরা। বুধবার (২৬ আগস্ট) সহস্রাধিক জেলে ও মহাজন স্থানীয় একটি মসজিদের সামনে কোরআন শপথ করে এমন প্রতিজ্ঞা করেন।

এদিন বেলা ১১টায় পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন ও চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের বন কর্মকর্তাদের যৌথ আয়োজনে ‘সুন্দরবন সুরক্ষা, মৎস ও বন্যপ্রাণি রক্ষায় করনীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা শেষে এ শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

সম্প্রতি বিভিন্ন পত্রিকায় ‘সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মৎস সম্পদ নিধনের মহোৎসব’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হলে টনক নড়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের। একপর্যায় মৎস্য আহরণে জেলেদের অনুমতি (পাস) দিতেও অনীহা প্রকাশ করে বনবিভাগ।

পরবর্তীতে বনকর্তৃপক্ষ পেশাজীবীদের জীবন জীবিকার কথা বিবেচনা করে দুই স্টেশনের বন কর্মকর্তাদের উদ্যোগে ওই যৌথ সভার আয়োজন করেন। ধানসাগর স্টেশনের আওতাধীন উপজেলার উত্তর রাজাপুর এলাকায় অনুষ্ঠিত ওই সভায় বক্তব্য দেন শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. কামাল আহমেদ, ধানসাগর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই মামুন, ধানাসাগর ষ্টেশন কর্মকর্তা মো. সুলতান মাহমুদ, স্থানীয় ইউপি সদস্য সিদ্দিকুর রহমান, সাবেক ইউপি সদস্য পান্না মিয়া, সাংবাদিক হুমায়ুন কবির, এমাদুল হক শামীম, মৎস ব্যবসায়ী জাকির হোসেন, মো. চানামিয়া, সগির আকন ও ইউনুস ফরাজী।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিষ দিয়ে মাছ নিধন, বাঘ হরিণ সহ বন্য প্রাণি পাচারের কারনে গোটা সুন্দরবন আজ হুমকির মুখে পড়েছে। এসময় উপস্থিত পেশাজীবীরা বলেন, সুন্দরবনের পাস পারমিট বন্ধ করা হলে তারা পবিবার পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়বেন। মহাজনদের দেয়া দাদনের লাখ লাখ টাকা অনাদায়ী হয়ে পড়বে। তাই তারা ভাবিষ্যতে এ ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে আর যুক্ত হবেন না মর্মে শপথ করেন। যারা এ ধরণের অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত হবেন তাদেরকে চিহ্নিত করে বনবিভাগ ও প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে আশ্বাস দেন উপাস্থিত পেশাজীবীরা।

সভা শেষে উত্তর রাজাপুর স্লুইচ গেট সংলগ্ন জামে মসজিদ স্বাক্ষী রেখে কোরআন শপথ করেন তারা।

সুন্দরবন পুর্ব বিভাগের ডি এফ ও মো. সাইদুল ইসলাম জানান, সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া সুন্দরবন রক্ষা করা সম্ভব নয়। বনের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তি ছাড়াও সকলকে এবিষয়ে সচেতন হতে হবে। জনসচেতনতা সৃৃষ্টির এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

//শেখ মোহাম্মদ আলী/উপকূল বাংলাদেশ/শরণখোলা-বাগেরহাট/২৬০৮২০১৫//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য