শরণখোলায় রিকশা চালক ‘নাজমুল’ এখন কুমারী মাতা

কুমারী মাতা নাজমা ও তার নবজাতক সন্তানশরণখোলা (বাগেরহাট) : শার্ট-প্যান্ট পরা। মাথার চুল ছেলেদের মতো করেই ছাঁটা। দেখতে অবিকল ছেলে। নাম তার নাজমা আক্তার। বর্তমান বয়স ১৫বছর। পেটের দায়ে বছর দুই আগে নিজের নাম পরিবর্তন করে নাজমুল ইসলাম নাম দিয়ে ছেলের ছদ্মবেশে রিকশা-ভ্যান চালাতে শুরু করে সে।

কিন্তু জীবন সংগ্রামে হেরে গিয়ে  এক লম্পটের লালসার শিকার হয়ে সে এখন কুমারী মাতা। সোমবার (২৪ আগস্ট) দিনগত রাত ১টার দিকে বাগেরহাটের শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছে।

পুরুষের পেটে সন্তান হয়েছে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে তা দেখার জন্য সকাল থেকে হাসপাতালে দুর-দুরান্ত থেকে ছুঁটে আসছে শত শত মানুষ। হাসপাতালে নারী-পুরুষের ঢল নেমেছে।

এই ঘটনার জন্য দায়ী মৃত শামছু তালুকদারের ছেলে ও উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজারের হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম তালুকদারকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নাজমা আক্তার ওরফে নাজমুল (১৫) উপজেলার খোন্তাকাটা গ্রামের মৃত আ. খালেকের মেয়ে।

হাসপাতালের বেডে শুয়ে নাজমা জানায়, চার বছর বয়সে তার বাবা মারা যায়। মা মরিয়ম বেগম বছর পাঁচেক আগে অন্যাত্র বিয়ে করে তাকে ছেড়ে চলে যায়। সব হারিয়ে নাজমার আশ্রয় হয় বৃদ্ধ দাদীর কাছে। এরপর গত এক বছর ধরে জীবিকার তাগিদে সে বেছে নেয় রিকশা-ভ্যান চালানোর সংগ্রাম। একারনে মানুষরূপী পশুদের হাত থেকে বাঁচতে নাজমা পুরুষের ছদ্মবেশ ধারণ করে। নিজের নাম রাখে নাজমুল। কিন্তু এরপরও সে নিজেকে রক্ষা করতে পারেনি।

উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজারের হার্ডওয়ার ব্যাবসায়ী রফিকুলের লালসার শিকার হয় নাজমা। আবশেষে সে অন্তঃসত্তা হয়ে পড়ে। একথা বহুবার বলা হলেও রফিকুল তাকে গ্রহন করতে অস্বীকৃতি জানায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রসব বেদনা নিয়ে হাসপাতালে ছুটে আসে নাজমা। রাত ১টায় ফুঁটফুঁটে একটি কন্যা সন্তান প্রসব করে সে।

উপজেলাস্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার জানান, নাজমা ও তার মেয়ে সুস্থ আছে। পুরুষ ছেলের সন্তান হয়েছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ায় সকাল থেকে শত শত মানুষ হাসপাতালে ভিড় করছে। এখন ভীড় সামলাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম জানান, নাজমার স্বীকারোক্তিমতে ওই রাতেই থানায় একটি ধর্ষণ মামলা হয়েছে। মামলার আসামী রফিকুলকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

//শেখ মোহাম্মদ আলী/উপকূল বাংলাদেশ/শরণখোলা-বাগেরহাট/২৫০৮২০১৫//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য