বোম্বাই মরিচের আবাদ, সফলতার পথ দেখাচ্ছে

- মো.হালিমুর রহমান শাহিন

স্বরূপকাঠির গ্রামে বোম্বাই মরিচ চাষস্বরূপকাঠি (পিরোজপুর) : পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের শত শত চাষি বানিজ্যিকভাবে বোম্বাই মরিচ চাষ করে সাবলম্বী। ওই ইউনিয়নের আদাবাড়ি,  কঠুরাকাঠি, আন্দাকুল, জিন্দাকাঠি, ব্রাহ্মনকাঠি, আতা, মাহমুদকাঠি, আটঘর, বাস্তুকাঠি, কুড়িয়ানা, সংগীতকাঠি, হরিহরকাঠি ও নরেরকাঠিসহ বিভিন্ন গ্রামের ৫০ হেক্টর জমিতে বোম্বাই মরিচের চাষাবাদ হচ্ছে। বোম্বাই মরিচের  বৈজ্ঞানিক নাম  নাম ক্যাপসিকাম ফ্রুটিসসেন্স।

মাহমুদকাঠি গ্রামের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আব্দুল হক জানান ১৯৮০ সালের দিকে আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নে সল্পপরিসরে বোম্বাই মরিচের চাষাবাদ শুরু হলেও বিগত ১৩/ ১৪ বছর ধরে এখানে বানিজ্যিক ভাবে বোম্বাই মরিচ চাষের ব্যাপক প্রসার ঘটে। বোম্বাই মরিচ চাষাবাদ করে ঐ সকল গ্রামের প্রায় ৫’শ পরিবারের ভাগ্য বদলেছে।

জমির মাটি কেটে আইল বেধে ক্ষেত তৈরির পাশাপাশি  নার্সারী বা পেয়ারা বাগানের ফাঁকে ফাঁকে এবং বাড়ির উঠোনের পাশে পতিত জায়গাও বোম্বাই মরিচ চাষ করে বাড়তি আয় করছে ওই অঞ্চলের চাষীরা।

আদাবাড়ী গ্রামের চাষী রিপন হাওলাদার জানান, দিনমজুরি করেই তার দিন চলত। ৭-৮ বছর আগে ভাতিজা অসিমকে নিয়ে এনজিও থেকে ঋন তুলে শুরু করেন বোম্বাই মরিচের চাষাবাদ। প্রথম বছরেই তারা আর্থিকভাবে লাভবান হন। প্রতি বছরই বেড়েছে তাদের ক্ষেতের পরিধি। গড়ে প্রতিবিঘা জমিতে মরিচ চাষাবাদে ৪০-৪৫ হাজার টাকা খরচ হলেও ফসল বিক্রি হয় প্রায় লক্ষ টাকার। এ বছর রিপন ১০ বিঘা জমিতে মরিচ চাষাবাদে শ্রমিক মজুরী ও আনুসঙ্গিক ব্যয় বাদে ৪/৫ লাখ টাকা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন বলে আশা করেন।

সংগীতকাঠি গ্রামের শাহ আলম জানান, কার্তিক মাসের শেষের দিকে শুরু হয় বোম্বাই মরিচ চাষের কার্যক্রম। প্রথমে বেড় তৈরি করে বীজ বপন করে চারা উৎপন্ন করা হয়। জমিতে পরিমান মত চাষ দিয়ে অগ্রহায়ন মাসের মাঝামাঝি বেড থেকে চারা তুলে সারিবদ্ধ ভাবে চারা রোপন করা হয়।  এক বিঘা জমিতে রোপন করা হয় প্রায় সাড়ে তিন হাজার চারা। মাঘ মাস থেকে শুরু করে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত চলে বোম্বাই মরিচ তোলার কাজ।

এছাড়াও বিভিন্ন গ্রামের চাষিরা জানান মৌসুমী ফসল বোম্বাই মরিচ চাষাবাদ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে আজ তারা স্বাবলম্বী।

প্রতি সপ্তাহে রবি ও বৃহস্পতিবার মাহামুদকাঠির মুসলিমপাড়া ও জিন্দাকাঠিতে বোম্বাই মরিচ বিক্রির হাট বসে। মৌসুমের প্রথমদিকে প্রতি শ’ বোম্বাই মরিচ পাইকারিভাবে ৭০/৮০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে প্রতি শ’ ৩০/৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। বোম্বাই মরিচের এ মৌসুমে চাষিদের কোটি টাকার বেশি আয় হয় বলে চাষিদের সুত্র জানায়।

স্থানীয় আড়তদাররা জানান এখানকার এক শ্রেনির ব্যবসায়ীরাও লঞ্চ ও মিনি ট্রাক যোগে ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্নস্থানে বোম্বাই মরিচ চালান দিচ্ছেন।

অপরদিকে ভোলা,বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের এক শ্রেণির দুরাগত পাইকাররা এখান থেকে সরাসরি বোম্বাই মরিচ কিনে  নিয়ে যায়। বোম্বাই মরিচের প্রধান পাইকারী বাজার ঢাকার কারওয়ান বাজারে বেশির ভাগ মরিচই স্বরূপকাঠি থেকে চালান দেয়া হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রিফাত সিকদার বলেন বোম্বাই মরিচ চাষাবাদে চাষীদের সরকারীভাবে লোনের তেমন কোন সুযোগ না থাকলেও কৃষি ঋনের ব্যবস্থা রয়েছে।বোম্বাই মরিচ চাষাবাদে সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে চাষিরা আরো আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।

//মো.হালিমুর রহমান শাহিন/উপকূল বাংলাদেশ/স্বরূপকাঠি-পিরোজপুর/০৪০৬২০১৫//


এ বিভাগের আরো খবর...
তৃতীয়বারের মত ডিআরইউ অ্যাওয়ার্ড পেলেন রফিকুল ইসলাম মন্টু তৃতীয়বারের মত ডিআরইউ অ্যাওয়ার্ড পেলেন রফিকুল ইসলাম মন্টু
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় ‘সবুজ উপকূল’ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় ‘সবুজ উপকূল’
সবুজ উপকূল, সাগরপাড়ে আলোর হাতছানি সবুজ উপকূল, সাগরপাড়ে আলোর হাতছানি
‘সবুজ উপকূল’ পড়ুয়াদের সৃজনশীল মেধার বিকাশ ঘটাচ্ছে ‘সবুজ উপকূল’ পড়ুয়াদের সৃজনশীল মেধার বিকাশ ঘটাচ্ছে
‘সবুজ উপকূল’-এর পথে হাঁটছে অসংখ্য সবুজযোদ্ধা ‘সবুজ উপকূল’-এর পথে হাঁটছে অসংখ্য সবুজযোদ্ধা
উপকূল বাঁচিয়ে রাখতে ‘সবুজ উপকূল’ মাইলফলক উপকূল বাঁচিয়ে রাখতে ‘সবুজ উপকূল’ মাইলফলক
উপকূলের তরুণদের প্রকাশের আলোয় আনছে ‘সবুজ উপকূল’ উপকূলের তরুণদের প্রকাশের আলোয় আনছে ‘সবুজ উপকূল’
সবুজ উপকূল, জেগে উঠছে আগামী প্রজন্ম সবুজ উপকূল, জেগে উঠছে আগামী প্রজন্ম
লক্ষ্মীপুরে সকল শিক্ষাঙ্গনে লাইব্রেরি গড়ে তোলার দাবি লক্ষ্মীপুরে সকল শিক্ষাঙ্গনে লাইব্রেরি গড়ে তোলার দাবি
আসুন, ১২ নভেম্বর ‘উপকূল দিবস’ পালন করি আসুন, ১২ নভেম্বর ‘উপকূল দিবস’ পালন করি

বোম্বাই মরিচের আবাদ, সফলতার পথ দেখাচ্ছে
(সংবাদটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)