সবুজ উপকূল ২০১৯, পাইকগাছা থেকে যাত্রা শুরু হল

পুরস্কার গ্রহন করছে ক্ষুদে পড়ুয়া

প্রতিনিধি: ২৪ জুলাই বুধবার খুলনার পাইকগাছা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু হলো সবুজ উপকূল ২০১৯ কর্মসূচি। উপকূল জুড়ে সাড়া জাগানো এ ব্যতিক্রমী কর্মসূচি এবছর ৫ম বছরে পা রাখলো।

নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পাইকগাছার শহীদ জিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে সবুজ উপকূল ২০১৯-এর প্রথম কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল দেওয়াল পত্রিকা প্রকাশ, সৃজনশীল প্রতিযোগীতা, পুরস্কার বিতরণ, আলোচনা সভা, গাছের চারা রোপন ও বিতরণ।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভায় উপকূলের পড়ুয়াদের প্রতি সবুজ সুরক্ষার আহবান জানান বিশিষ্টজনেরা।

শহীদ জিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় মিলনায়তনে প্রধান শিক্ষক অঞ্জলী রানী শীলের সভাপতিত্বে ‘এসো সবুজের আহবানে, গড়ি সবুজ উপকূল’ প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম সিদ্দিকী (ফিরোজ)। বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা স্যানেটারী ইন্সপেক্টর উদয় কুমার মন্ডল, সাবেক অনারারি ক্যাপ্টেন মোহন লাল দাশ, সাংবাদিক মহানন্দ অধিকারী মিন্টু, সাইফুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সবুজ উপকূলের স্থানীয় উদ্যোক্তা ও প্রেসক্লাব পাইকগাছার সভাপতি প্রকাশ ঘোষ বিধান।

শিক্ষার্থী সংগীতা সাধু ও হাসনা খাতুন সুমাইয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক জি, এম শওকত হোসেন, মোঃ শহিদুল ইসলাম, কনিকা ঘোষ, শংকর প্রসাদ মুনি, নার্গিস আক্তার, রীতা রায়, ফাতেমা খাতুন, তপন কুমার মন্ডল, মোঃ মহিবুল্লাহ, মাসুম বিল্লাহ, সুশান্ত হালদার, শিক্ষার্থী রমা দেবনাথ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ৩টি বিষয়ে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার দেওয়া হয়। রচনা লিখন প্রতিযোগিতায় শহীদ জিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রথম হয়েছে ৯ম শ্রেণির ছাত্রী রাসমনি সাধু, দ্বিতীয় হয়েছে ১০ম শ্রেণির ছাত্রী রমা দেবনাথ ও তৃতীয় হয়েছে ৯ম শ্রেণির ছাত্রী নাজিয়া ফেরদৌসী।

পত্রলিখন প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া সুলতানা, দ্বিতীয় হয়েছে ৭ম শ্রেণির ছাত্রী তনুজা খানম ও তৃতীয় হয়েছে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী অনিন্দীতা ঘোষ।

ছবি আঁকা প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী হাসনা খাতুন সুমাইয়া, দ্বিতীয় হয়েছে ১০ম শ্রেণির ছাত্রী তিথী দেবনাথ ও তৃতীয় হয়েছে ৭ম শ্রেণির ছাত্রী মারিয়া সুলতানা।

আলোচনা সভা শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে গাছের চারা রোপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা উপকূল সুরক্ষায় চারিপাশে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন, জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা ও উপকূল সুরক্ষায় আহরিত জ্ঞান কাজে লাগানোর জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানান।

উপকূল অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশ ও জলবায়ু সচেতনতা বাড়ানো এবং তাদের সৃজনশীল মেধা বিকাশের লক্ষ্যে ২০১৫ সাল থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। ২০১৫ সাল থেকে প্রথম তিন বছর এ কর্মসূচিতে অর্থ সহায়তা দেয় ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। ২০১৮ সাল থেকে এ কর্মসূচি স্থানীয় উদ্যোগে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে ১৫টি উপকূলীয় জেলার ১৮টি উপজেলার ৪৮৬টি স্কুলের ২ লাখ ৪২ হাজার ৯২৩জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। পাঁচ বছরে কর্মসূচির সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১০৫-এ।

এরমধ্যে ২০১৫ সালে ১০ জেলার ১৩ উপজেলার ৪০টি স্কুলের ২০ হাজার শিক্ষার্থী ১৪টি কর্মসূচিতে অংশ নেয়। ২০১৬ সালে ১৩ জেলার ১৪ উপজেলার ১১৬টি স্কুলের ৭৭ হাজার ৯২৩জন শিক্ষার্থী ২৬টি কর্মসূচিতে অংশ নেয়। ২০১৭ সালে ১৩ জেলার ১৩ উপজেলার ১০০ স্কুলের ৭০ হাজার শিক্ষার্থী ২০টি কর্মসূচিতে অংশ নেয়। এবং ২০১৮ সালে ১২ জেলার ১৩ উপজেলার ১৫০ স্কুলের ২৫ হাজার শিক্ষার্থী ২০টি কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করে। এবার ২০১৯ সালে ১৩ জেলার ১৬ উপজেলার ৮০টি স্কুলের ৫০ হাজার শিক্ষার্থী ২৫টি কর্মসূচিতে অংশ নিবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

//প্রতিবেদন/২৪০৭২০১৯//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য