সাতক্ষীরার শ্যামনগরের দ্বীপ গাবুরায় অনুষ্ঠিত হল সবুজ উপকূল ২০১৭ কর্মসূচি

সবুজ উপকূল ২০১৭ কর্মসূচিতে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ বিষয়ক নাটিকা

গাবুরা, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭: উপকূলের পড়ুয়াদের সবুজ সুরক্ষার আহবানের মধ্যদিয়ে পশ্চিম উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার শ্যামনগরের দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরায় অনুষ্ঠিত হল ‘ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক সবুজ উপকূল ২০১৭’ কর্মসূচি। বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) গাবুরার চাঁদনীমুখা এম এম মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবমূখর পরিবেশে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচির আওতায় ছিল রচনা লিখন, পত্র লিখন, ছবি আঁকা ও সংবাদ লিখন প্রতিযোগিতা। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এছাড়াও ‘এসো সবুজের আহবানে, গড়ি সবুজ উপকূল’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং গাছের চারা রোপণ করা হয়। কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের একদল পড়ুয়া পরিবেশ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। বিদ্যালয়ে প্রকাশিত হয় দেয়াল পত্রিকা ‘বেলাভূমি’র বিশেষ সংখ্যা।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করে উপকূল বিষয়ক সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান ‘উপকূল বাংলাদেশ’। উপকূলের পড়ুয়াদের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানো, সৃজনশীল মেধার বিকাশ, লেখালেখি চর্চার মাধ্যমে তথ্যে প্রবেশাধিকারসহ জীবন দক্ষতা বাড়ানো এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) জি এম আবদুর রহিম। সভাপতিত্ব করেন আয়োজক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার মন্ডল।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক শ্যামনগর শাখার ব্যবস্থাপক মো. রাশিদুল ইসলাম, বন বিভাগের কাটেশ্বর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. দাউদ মিয়া, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এস কে নূর মোহাম্মদ প্রমূখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শুধু পাঠ্য বইয়ের পড়া মুখস্ত করে পরিক্ষায় ভালো ফলাফল করলেই চলবে না। এর পাশাপাশি চারপাশের জগত সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। উপকূলের প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। ভালো ফলাফলের সঙ্গে সাধারণ জ্ঞানের সংমিশ্রনই পারে মানুষের মত মানুুষ করে তুলতে। তোমাদেরকে ভালো মানুষ হয়ে প্রদীপের মত আলো জ্বালাতে হবে, যাতে তোমার আলোতে আরও অনেকজন আলোকিত হতে পারে।

অনুষ্ঠান সূচনা ও উপস্থাপনায় ছিল দশম শ্রেণীর মো. আবু হাসান ও অস্টম শ্রেণীর ছাবিনা ইয়াসমিন। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সবুজ উপকূল কর্মসূচির স্থানীয় সংগঠক ও সাংবাদিক মো. আব্দুল হালিম। কর্মসূচির প্রেক্ষাপট ও উপকূলের সার্বিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন, সবুজ উপকূল ২০১৬ কর্মসূচির কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ও আয়োজন প্রতিষ্ঠান উপকূল বাংলাদেশ-এর পরিচালক রফিকুল ইসলাম মন্টু। অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য তুলে ধরে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মো. আবু হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সবুজ উপক‚ল ২০১৭ কর্মসূচির ব্যানার নিয়ে একটি শোভাযাত্রা বিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকা প্রদক্ষিণ করে। পরিবেশ ও বাল্যবিয়ে বিষয়ে সচেতনতামূলক নাটিকা এবং সঙ্গীতানুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা ঘটে।

কর্মসূচিতে সহ-আয়োজক হিসাবে থাকছে উপকূলের স্কুল পড়ূয়াদের সংগঠণ আলোকযাত্রা দল, আইটি পার্টনার হিসাবে থাকছে ডটসিলিকন, মিডিয়া পার্টনার হিসাবে থাকছে এটিএন বাংলা ও দৈনিক সমকাল।

এবার সাতক্ষীরার শ্যানগরের মুন্সীগঞ্জ, গাবুরা, খুলনার পাইকগাছা, বাগেরহাটের সদর ও শরণখোলা, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া, বরগুনার তালতলী, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা ও চরমোন্তাজ, ভোলার চরফ্যাসন ও তজুমদ্দিন, চাঁদপুরের হাইমচর, ল²ীপুরের কমলনগর, নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও হাতিয়া, ফেনীর সোনাগাজী, চট্টগ্রামের স›দ্বীপ এবং কক্সবাজারের টেকনাফ ও মহেশখালীতে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এবার উপকূলের ১৪টি জেলার ১৯টি উপজেলার ২০টি স্থানে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। কর্মসূচিতে ১০০ স্কুলের প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেবে। এ নিয়ে তিন বছরে উপকূলের ২৫৬টি স্কুলে ১ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থী সবুজ উপকূল কর্মসূচির আওতায় আসছে। স্কুল শিক্ষার্থীরা পেয়েছে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা, যা তাদের প্রাত্যহিক জীবনে কাজে লাগছে।

২০১৫ সাল থেকে সবুজ উপক‚ল কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। ২০১৫ সালে ১০টি জেলার ১৩টি উপজেলার ৪০টি স্কুলের প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। পরের বছর ২০১৬ সালে ১৪টি জেলার ২৫টি উপজেলার ১১৬টি স্কুলের প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষার্থীকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। এবারের কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে তিন বছরে উপকূলের ২৫৬টি স্কুলে ১ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থী সবুজ উপকূল কর্মসূচির আওতায় আসবে।

উদ্যোক্তারা আশা করছেন, এই কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পরিবেশ সম্পর্কে উপকূলের স্কুল পড়–য়াদের মাঝে সচেতনতা বাড়বে। শিক্ষার্থীরা পরিবেশ রক্ষায় সচেষ্ট হবে। একইসঙ্গে তাদের মাঝে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা তৈরি হবে। পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে তারা সক্ষম হয়ে উঠবে। পরিবেশ সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ হবে। আহরিত জ্ঞান সংরক্ষণ হবে এবং জ্ঞান ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হবে। সেইসঙ্গে আহরিত জ্ঞান বিনিময় হবে। শিক্ষার্থীরা আহরিত জ্ঞান ব্যক্তিগত জীবনে কাজে লাগাতে পারবে।

//প্রতিবেদন/১৩০৯২০১৭//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য