সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে শুরু হলো সবুজ উপকূল ২০১৭ কর্মসূচি

- প্রতিবেদন উপকূল বাংলাদেশ

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন পড়ুয়াদের হাতে

শ্যামনগর, সাতক্ষীরা, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭: উপকূলের পড়ুয়াদের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি আর সৃজনশীল মেধা বিকাশের লক্ষ্য সামনে রেখে মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭) শুরু হয়েছে ‘ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক সবুজ উপকূল ২০১৭’ কর্মসূচি। পশ্চিম উপকূলের সুন্দরবন লাগোয়া সুন্দরবন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এ কর্মসূচির সূচনা ঘটে।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় এই কর্মসূচির আয়োজন উপকূল বিষয়ক সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান ‘উপকূল বাংলাদেশ’। উপকূলের পড়ুয়াদের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানো, সৃজনশীল মেধার বিকাশ, লেখালেখি চর্চার মাধ্যমে তথ্যে প্রবেশাধিকারসহ জীবন দক্ষতা বাড়ানো এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

সবুজের আহবানে বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে চার স্কুলের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। পড়-য়ারা রচনা লিখন, পত্র লিখন, সংবাদ লিখন ও ছবি আঁকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রত্যেক প্রতিযোগিতা তিনজন করে বিজয়ী পুরস্কার পায়। এছাড়াও কর্মসূচির আওতায় ছিল আলোচনা সভা, গাছের চারা রোপণ, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

‘এসো সবুজের আহবানে, গড়ি সবুজ উপকূল’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) এস এম মহসীন উল মূলক। সভাপতিত্ব করেন আয়োজক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সুপদ কুমার বৈদ্য।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম রফিকুজ্জামান, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক শ্যামনগর শাখার ব্যবস্থাপক মো. রাশিদুল ইসলাম, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নকশীকাঁশার পরিচালক চন্দ্রিকা ব্যানার্জী, বনশ্রী শিক্ষা নিকেতনের প্রখাম শিক্ষক সুনির্মল কুমার মন্ডল ও ত্রিপানী বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম মল্লিক।

প্রধান অতিথি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শুধু পাঠ্য বইয়ের পড়া মুখস্ত করে পরিক্ষায় ভালো ফলাফল করলেই চলবে না। এর পাশাপাশি চারপাশের জগত সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। উপকূলের প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। ভালো ফলাফলের সঙ্গে সাধারণ জ্ঞানের সংমিশ্রনই পারে মানুষের মত মানুুষ করে তুলতে। তোমাদেরকে ভালো মানুষ হয়ে প্রদীপের মত আলো জ্বালাতে হবে, যাতে তোমার আলোতে আরও অনেকজন আলোকিত হতে পারে।

অনুষ্ঠান সূচনা ও উপস্থাপনায় ছিল দশম শ্রেণীর ছাত্রী সম্পা রানী গায়েন ও পার্বতী মন্ডল। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাংবাদিক রনজিৎ বর্মন। কর্মসূচির প্রেক্ষাপট ও উপকূলের সার্বিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন, সবুজ উপকূল ২০১৬ কর্মসূচির কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ও আয়োজন প্রতিষ্ঠান উপকূল বাংলাদেশ-এর পরিচালক রফিকুল ইসলাম মন্টু। অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য তুলে ধরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দশম শ্রেণীর ছাত্রী সম্পা রানী গায়েন।

অনুষ্ঠানে বক্তাদের আলোচনা শেষে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহের ভিত্তিতে রচিত পরিবেশ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। কর্মসূচি উপলক্ষে বিদ্যালয়ে ‘বেলাভূমি’ দেয়াল পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উপক‚ল বাংলাদেশ। কর্মসূচিতে সহ-আয়োজক হিসাবে থাকছে উপক‚লের স্কুল পড়-য়াদের সংগঠণ আলোকযাত্রা দল, আইটি পার্টনার হিসাবে থাকছে ডটসিলিকন, মিডিয়া পার্টনার হিসাবে থাকছে এটিএন বাংলা ও দৈনিক সমকাল।

এবার সাতক্ষীরার শ্যানগরের মুন্সীগঞ্জ, গাবুরা, খুলনার পাইকগাছা, বাগেরহাটের সদর ও শরণখোলা, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া, বরগুনার তালতলী, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা ও চরমোন্তাজ, ভোলার চরফ্যাসন ও তজুমদ্দিন, চাঁদপুরের হাইমচর, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর, নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও হাতিয়া, ফেনীর সোনাগাজী, চট্টগ্রামের স›দ্বীপ এবং কক্সবাজারের টেকনাফ ও মহেশখালীতে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এবার উপকূলের ১৪টি জেলার ১৯টি উপজেলার ২০টি স্থানে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। কর্মসূচিতে ১০০ স্কুলের প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেবে। এ নিয়ে তিন বছরে উপকূলের ২৫৬টি স্কুলে ১ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থী সবুজ উপক‚ল কর্মসূচির আওতায় আসছে। স্কুল শিক্ষার্থীরা পেয়েছে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা, যা তাদের প্রাত্যহিক জীবনে কাজে লাগছে।

উদ্যোক্তারা আশা করছেন, এই কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পরিবেশ সম্পর্কে উপকূলের স্কুল পড়-য়াদের মাঝে সচেতনতা বাড়বে। শিক্ষার্থীরা পরিবেশ রক্ষায় সচেষ্ট হবে। একইসঙ্গে তাদের মাঝে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা তৈরি হবে। পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে তারা সক্ষম হয়ে উঠবে। পরিবেশ সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ হবে। আহরিত জ্ঞান সংরক্ষণ হবে এবং জ্ঞান ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হবে। সেইসঙ্গে আহরিত জ্ঞান বিনিময় হবে। শিক্ষার্থীরা আহরিত জ্ঞান ব্যক্তিগত জীবনে কাজে লাগাতে পারবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সাল থেকে সবুজ উপকূল কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। ২০১৫ সালে ১০টি জেলার ১৩টি উপজেলার ৪০টি স্কুলের প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। পরের বছর ২০১৬ সালে ১৪টি জেলার ২৫টি উপজেলার ১১৬টি স্কুলের প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষার্থীকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। এবারের কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে তিন বছরে উপকূলের ২৫৬টি স্কুলে ১ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থী সবুজ উপকূল কর্মসূচির আওতায় আসবে।

//প্রতিবেদন/১২০৯২০১৭//


এ বিভাগের আরো খবর...
আসুন, ১২ নভেম্বর ‘উপকূল দিবস’ পালন করি আসুন, ১২ নভেম্বর ‘উপকূল দিবস’ পালন করি
বরগুনার তালতলীতে লাউপাড়া স্কুলে দেয়াল পত্রিকা ‘বেলাভূমি’ প্রকাশিত বরগুনার তালতলীতে লাউপাড়া স্কুলে দেয়াল পত্রিকা ‘বেলাভূমি’ প্রকাশিত
টেংরাগিরি সংরক্ষিত বন পর্যবেক্ষন করলো বরগুনার লাউপাড়া স্কুলের পড়ুয়ারা টেংরাগিরি সংরক্ষিত বন পর্যবেক্ষন করলো বরগুনার লাউপাড়া স্কুলের পড়ুয়ারা
শরণখোলার ধানসাগরে উৎসবমূখর পরিবেশে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত শরণখোলার ধানসাগরে উৎসবমূখর পরিবেশে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ফেনীর সোনাগাজীতে উৎসবমূখর পরিবেশে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত ফেনীর সোনাগাজীতে উৎসবমূখর পরিবেশে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে উৎসবমূখর পরিবেশে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে উৎসবমূখর পরিবেশে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
চাঁদপুরের হাইমচরে সবুজের আহবানের ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত চাঁদপুরের হাইমচরে সবুজের আহবানের ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ভোলার তজুমদ্দিনে উৎসবমূখর পরিবেশে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত ভোলার তজুমদ্দিনে উৎসবমূখর পরিবেশে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ভোলার তজুমদ্দিনে উৎসবমূখর পরিবেশে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত ভোলার তজুমদ্দিনে উৎসবমূখর পরিবেশে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
সবুজ সুরক্ষার আহ্বানে চরফ্যাসনে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত সবুজ সুরক্ষার আহ্বানে চরফ্যাসনে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে শুরু হলো সবুজ উপকূল ২০১৭ কর্মসূচি
(সংবাদটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)