ঈদে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর মতিরহাট মেঘনা বীচ

জুনাইদ আল হাবিব

মতিরহাটে পর্যটকদের ভিড়

কমলনগর, লক্ষ্মীপুর: উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের মেঘনা তীরে গড়ে উঠা মতিরহাট মেঘনা বীচ ঈদে ঘরমুখো পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত। ২৬জুন সোমবার বিকেলে নজরে পড়ে দল বেঁধে আসা পর্যটকদের আনাগোনা।

“ঈদমানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি”। চারদিকে ঘুরাঘুরি, আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে দৌঁড়াদড়ি, পিছনের দুঃখ ভুলে গিয়ে সবার সঙ্গে কোলাকুলি। আর ঈদের এই আনন্দে আরেকটু বেশি মজা পেতে বহু মানুষ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে আসে মতিরহাটে। শুধু কাছের মানুষ নয়, দূরের মানুষও ঘুরতে আসে। জেলার গন্ডি পেরিয়ে পর্যটকরা এখন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঘুরতে আসেন মতিরহাট মেঘনা তীরের মন ছোঁয়া দৃশ্য এক নজর দেখতে।

মেঘনার উত্তাল ঢেউ, দক্ষিণা থেকে আসা নির্মল বাতাস উপভোগ, ইট-পাথরের ব্লক ও মেঘনার সমতল কূলে হাঁটা, মতিরহাট সংলগ্ন মেঘনার বুকে জেগে উঠা নতুন চরে নৌকায় ভ্রমণ, বিশাল নারিকেল-সুপারির বাগান দেখা, মেঘনার বুকে দীর্ঘ দিন ধরে দাঁড়িয়ে থাকা মতিরহাট জামে মসজিদ ও মতিরহাট ইলিশ ঘাট দেখতে এখন অহরহ পর্যটকরা ছুটে যাচ্ছেন মতিরহাট।

সকালের দিকে ভাটার সুবাধে পর্যটক গণ ঘুরেছেন মেঘনার সমতল কূলে। আবার অনেককেই দেখা যায় নদীর পানিতে শরীর ভিজাচ্ছেন। কেউ হাঁটু পর্যন্ত, কেউবা গোসল করে পুরো শরীরটা। এ যেন অন্যরকম এক সৈকত ভ্রমণের আনন্দ। সময় বাড়ার সাথে সাথে এসে যায় আমাবশ্যার জোয়ার। কিছুক্ষণের মধ্যেই ডুবে যায় পুরো মেঘনা বীচ। শুরু হয় মেঘনার উত্তাল ঢেউয়ের। অনেক পর্যটকের গায়ে তীব্রস্রোতের পানি ছিটকে পড়ে। মুহুর্তের মধ্যে জড়ো হওয়ার আনন্দ উপভোগের অনুভূতি যেন অন্যরকম।

জোয়ার আসার পূর্বে সাক্ষাত হয় পর্যটক মোঃ আরিফের (২৫) এর সঙ্গে। তিনি বলছিলেন, “এখানে রহৃদয় ছোঁয়া বাতাস খুবই ভালোলাগে। যেহেতু আজ ঈদের দিন, তাই বন্ধুদের সাথে নিয়ে এখানে ঘুরতে এসেছি।”

এক পর্যায়ে কথা হয় মেঘনা বীচসংলগ্ন ব্যবসায়ী আমজাদ মোল্লার সঙ্গে। তিনি বলেন,”আজকের (ঈদের প্রথম দিন) চেয়ে কালকের দিন মানুষের সমাগম আরো বাড়বে। অধিকাংশ মানুষই ব্যস্ত। কাল আরো বহু মানুষ ঘুরতে আসবে। বিশেষ করে বিকেলের দিকে রোদের তীব্রতা কমে যাওয়ার পর।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য, মতিরহাট ইলিশ ঘাটের সভাপতি, তরুণ উদ্যমী মেহেদী হাসান লিটন বলেন, “মানুষ এখন ভুল করে দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমাদের নাগালেই এখন মনের মত দর্শনীয় স্থানের হাতছানি। এটি একটি অঘোষিত পর্যটন কেন্দ্র। এখানে পর্যটকরা আসতে পারে তাদের মন ভালো করতে।”

এদিকে মেঘনা বীচ সংলগ্ন মতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুল আলম জানান, “দেশ-বিদেশের যে কোন পর্যটককে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। বিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রয়োজনে পর্যটকদের জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এছাড়াও উন্নতমানের হোটেলে পর্যটকরা খাওয়া-দাওয়াও করতে পারবে।”

লাখ লাখ মানুষের ভিড় জমানো এই সম্ভাবনার স্বপ্ন উঁকি দেওয়া দর্শনীয় স্থানটিতে পর্যটন বিকাশে সরকার এগিয়ে আসবে, এমন প্রত্যাশা সবার।

//প্রতিবেদন/২৭০৬২০১৭//


এ বিভাগের আরো খবর...
জনতার প্রিয় মানুষ এমপি মুকুল জনতার প্রিয় মানুষ এমপি মুকুল
একুশে বইমেলায় সাংবাদিক ছোটন সাহার ‘মেঘের আঁধারে’ একুশে বইমেলায় সাংবাদিক ছোটন সাহার ‘মেঘের আঁধারে’
‘সমৃদ্ধশালী মডেল ঢালচর গড়তে চাই’ : আবদুস সালাম হাওলাদার ‘সমৃদ্ধশালী মডেল ঢালচর গড়তে চাই’ : আবদুস সালাম হাওলাদার
কুয়াকাটায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ সমাপ্ত কুয়াকাটায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ সমাপ্ত
তৃতীয়বারের মত ডিআরইউ অ্যাওয়ার্ড পেলেন রফিকুল ইসলাম মন্টু তৃতীয়বারের মত ডিআরইউ অ্যাওয়ার্ড পেলেন রফিকুল ইসলাম মন্টু
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় ‘সবুজ উপকূল’ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় ‘সবুজ উপকূল’
সবুজ উপকূল, সাগরপাড়ে আলোর হাতছানি সবুজ উপকূল, সাগরপাড়ে আলোর হাতছানি
‘সবুজ উপকূল’ পড়ুয়াদের সৃজনশীল মেধার বিকাশ ঘটাচ্ছে ‘সবুজ উপকূল’ পড়ুয়াদের সৃজনশীল মেধার বিকাশ ঘটাচ্ছে
‘সবুজ উপকূল’-এর পথে হাঁটছে অসংখ্য সবুজযোদ্ধা ‘সবুজ উপকূল’-এর পথে হাঁটছে অসংখ্য সবুজযোদ্ধা
উপকূল বাঁচিয়ে রাখতে ‘সবুজ উপকূল’ মাইলফলক উপকূল বাঁচিয়ে রাখতে ‘সবুজ উপকূল’ মাইলফলক

ঈদে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর মতিরহাট মেঘনা বীচ
(সংবাদটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)