অভিনয়ের মাঝেই বেঁচে থাকতে চাই | আজম খান

আজম খান

বাস্তব জীবনে ব্যতিক্রমী এক বাবার নাম আজম খান। সেই চরিত্রকেই অভিনয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। সন্তানকে সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে সমাজের কাছে। চেষ্টা করছে সন্তানের প্রতি মমত্ববোধ জাগিয়ে তোলার। একটি বেসরকারি ব্যাংকে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পদে চাকরির পাশাপাশি শখের অভিনয়ে পার করে এসেছেন প্রায় দু’বছর।

এই সেদিনের কথা; অভিনয় শুরু করেছিলেন ২০১৫ সালের ৩ জুলাই। দু’বছর হতে আরও কয়েকটা দিন বাকি; এই অল্প সময়ের ব্যবধানে তার ঝুলিতে জমেছে ৩৩টি নাটক, ধারাবাহিক, টেলিফিল্ম আর মিউজিক ভিডিও। এবারের ঈদে বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন টেলিভিশনে তার ৪টি টেলিফিল্ম ও ৩টি নাটক যাচ্ছে দর্শকের সামনে। ক্যামেরার সামনে আর পিছনের সুন্দর মানুষগুলোর অনুপ্রেরণা আর সহযোগিতাকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আজম খান।

‘‘এতো সুর আর এতো গান, যদি কোনদিন থেমে যায়….।’’ অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নিজের প্রিয় গানের একটি লাইন তুলে ধরেন আজম খান বলেন, ‘‘কেন জানি মনে হয়, আমার এই অভিনয় জীবন হয়তো আমাকে অনেক দিন বাঁচিয়ে রাখবে সবার কাছে।’’

অভিনয় আমার পেশা নয়, শখ
অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আজম খান বললেন, ‘‘অভিনয় আমার পেশা না, এটা শখ। অভিনয় করতে আমার ভাল লাগে। কে কয়টি কাজ করলো, এটা আসলে বড় কথা নয়। কাজগুলোর মানটাই দেখার বিষয়। একজন শখের অভিনেতা হিসাবে মাত্র দু’বছরে এতগুলো কাজ করা আমার জন্য একটি বড় বিষয়। মাঝে মাঝে যখন ভাবি খুব অবাক লাগে।’’

পাশে যখন জনপ্রিয় নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী
অভিনয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গিয়ে আজম খান বলেন, ‘‘অভিনয় করার শখ ছিল অনেক আগে থেকেই। এটিএন বাংলার অফিসে শিল্পী চন্দন সিনহাকে আমার এই শখের কথা বলার পরে তিনি পরিচয় করিয়ে দেন এই সময়ের জনপ্রিয় নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীর সাথে। তার সাথে পরিচয় হওয়ার কারণেই এত অল্প সময়ের ব্যবধানে আমার অভিনীত কাজের সংখ্যা তেত্রিশে উন্নীত হয়েছে।’’

নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী সম্পর্কে বলতে গিয়ে আজম খান বলেন, ‘‘তিনি একজন দারুণ কাজ পাগল মানুষ। তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তার অনুপ্রেরণা আর উৎসাহ আমাকে এগিয়ে যেতে আশাবাদী করেছে। অনেক বড় কিছু কাজ করার পরিকল্পনা তাঁর আমাকে নিয়ে। চয়নিকা চৌধুরী একজন গুনী নির্মাতা, অনেক আবেগপ্রবণ আর মায়াবতী একজন মানুষ।’’

ক্যামেরার সামনে-পিছনের মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
ক্যামেরার সামনে আর পিছনের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আজম খান বলেন, ‘‘ক্যামেরার সামনে আর পিছনে এই সুন্দর মানুষগুলোর অনুপ্রেরণা আর সহযোগিতা না পেলে হয়তো এতোগুলো কাজ করা হতো না আমার। আরো দুই জনের কাছে আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। অমিতাভ আহমেদ রানা আর সুব্রত মিত্র। এই দুইজন মানুষ বন্ধুর মতো আমাকে সহযোগিতা করেছে সব সময়। আনোয়ার হোসেন বুলু, সুজন মেহমুদ, জুয়েল দাস আর আসাদুজ্জামান আসাদ এই চারজন মানুষের চোখ যেন ক্যামেরার লেন্স। যাদের চোখ দিয়ে এই শখের অভিনেতাকে আজ সবাই দেখছে।’’

অভিনয়ে প্রবেশের জন্য কৃতজ্ঞতা করে তিনি বলেন, ‘‘এফ কিউ পিটার, ফরহাদ ফয়সাল, বি ইউ শুভ আর পিনটু সাহাও আমাকে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন।’’

অধিকাংশ কাজ করেছি ছুটির দিনে
ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পদে থেকে গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব পালনের পর অভিনয় কখন করেন- এমন প্রশ্নের জবাবে আজম খান বলেন, ‘‘ছুটির দিনে আর সন্ধ্যার পর কাজগুলো করেছি আমি। এমনও হয়েছে, অফিস শেষে নিজের গাড়িতে লং ড্রাইভ করে ফরিদপুর আর বগুড়ায় গিয়েছি শুটিং করতে। আবার শুটিং শেষে মধ্য রাতে বাসায় ফিরে পরের দিন অফিস করেছি।’’

বিশিষ্ট গুণী শিল্পীদের সান্নিধ্য পেয়েছি
দেশের বিশিষ্ট গুণী শিল্পীদের সঙ্গে কাজের সুযোগ হওয়ার কথা উল্লেখ করে আজম খান বলেন, ‘‘আমি ভাগ্যবান অনেক গুনী শিল্পীদের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়ে। আশির দশক থেকে এই সময়ের জনপ্রিয় অনেক অভিনয় শিল্পীর সহশিল্পী হয়েছি আমি। শুরু করেছিলাম শক্তিমান অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিমের সাথে। তারপর একে একে কাজ করেছি আফজাল হোসেন, তৌকির আহমেদ, শমী কায়সার, মাহফুজ আহমেদ, আফসানা মিমি, আজাদ আবুল কালাম পাভেল, তানভীন সুইটি, বন্যা মির্জা, আনিসুর রহমান মিলন, শাহেদ শরীফ খান, সজল, সাদিয়া জাহান প্রভা, জাকিয়া বারী মম, আলভী, নাঈম, ইমন, সারিকা, নিলয়, সোনিয়া মেহজাবিন, সিয়াম আহমেদ, নাজিরা আহমেদ মৌ, জোভান, শবনম ফারিয়া, নাদিয়া মীম, মিথিলা, শায়লা সাবি আর সাফা কবীর, এর সাথে।’’

তিনি বলেন, ‘‘আরো কাজ করেছি গুনী শিল্পী সৈয়দ হাসান ইমাম, শর্মিলী আহমেদ, ডলি জহুর, অরুনা বিশ্বাস আর মুনীরা ইউসূফ মেমীর সাথে। এছাড়াও গুনী নির্মাতা তানিয়া আহমেদের নির্দেশনায় খন্দকার খায়েরের ক্যামেরায় জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী এস আই টুটুলের একটি গানের মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছি আমি।’’

স্বপ্ন ছোটবেলার
অভিনয়ে আগ্রহ প্রসঙ্গে আজম খান বলেন, ‘‘ছোটবেলায় বিতর্ক করতাম। কবিতা আবৃত্তি আর অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছি অনেক। ব্যাংকিং, বিজনেস আর খেলার জগত নিয়ে টেলিভিশনে  টক শো করেছি। গান গাওয়ার শখ ছিল। কিন্তু গানের অনুশীলন করার সুযোগ পাইনি। এসবের পাশাপাশি অভিনয় করার শখও ছিল ছোটবেলা থেকে। কিন্তু সুযোগ হয়নি।’’

অভিনয় উপভোগ করি, মায়ায় জড়িয়েছি
অভিনয় জীবনটাকে খুব উপভোগ করেন উল্লেখ করে আজম খান বলেন, ‘‘শখের অভিনয় করতে এসে অনুভব করলাম অভিনয়টা আসলে সহজ না। অভিনয় শিল্পীরা অনেক পরিশ্রম করে একাজটি করে থাকেন। তাই তাদের সবাইকে আমি সম্মান করি। তবে এটাই সত্যি আমি এই জগতের মায়ায় জড়িয়ে পড়েছি।’’

মায়ের মৃত্যু দিনে অভিনয় শুরু
আজম খান অভিনয় শুরু করেন ৩ জুলাই ২০১৫। আর সেদিনই তিনি তার মাকে হারান। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মায়ের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি পড়ে যায় শুটিংয়ের তাড়া। পূর্বনির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী সম্পন্ন হয় শুটিং। আর শুটিং শেষে মায়ের মৃত্যুর খবর আসে তার কাছে। দিনটি দু’কারণে স্মরণীয় হয়ে রইলো তার কাছে।

//প্রতিবেদন/১৭০৬২০১৭//


এ বিভাগের আরো খবর...
‘কুকরির জনারণ্যে সম্প্রীতির সুবাতাস’ -আবুল হাসেম মহাজন ‘কুকরির জনারণ্যে সম্প্রীতির সুবাতাস’ -আবুল হাসেম মহাজন
বরগুনায় বাণিজ্যিক সূর্যমুখী চাষে লাভবান কৃষক বরগুনায় বাণিজ্যিক সূর্যমুখী চাষে লাভবান কৃষক
পাইকগাছার পড়ুয়ারাদের প্রকৃতিপাঠ, সবুজে গড়ছে জীবন পাইকগাছার পড়ুয়ারাদের প্রকৃতিপাঠ, সবুজে গড়ছে জীবন
উপকূলের উদীয়মান সংবাদকর্মী ছোটন সাহা’র ছুটে চলার গল্প উপকূলের উদীয়মান সংবাদকর্মী ছোটন সাহা’র ছুটে চলার গল্প
কমলনগরে পড়ুয়াদের সবুজ জগত, অনুপ্রেরণায় ‘সবুজ উপকূল’ কমলনগরে পড়ুয়াদের সবুজ জগত, অনুপ্রেরণায় ‘সবুজ উপকূল’
শ্যামনগরে পড়ুয়ারা গড়ে তুলেছে পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন শ্যামনগরে পড়ুয়ারা গড়ে তুলেছে পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন
জনতার প্রিয় মানুষ এমপি মুকুল জনতার প্রিয় মানুষ এমপি মুকুল
একুশে বইমেলায় সাংবাদিক ছোটন সাহার ‘মেঘের আঁধারে’ একুশে বইমেলায় সাংবাদিক ছোটন সাহার ‘মেঘের আঁধারে’
‘সমৃদ্ধশালী মডেল ঢালচর গড়তে চাই’ : আবদুস সালাম হাওলাদার ‘সমৃদ্ধশালী মডেল ঢালচর গড়তে চাই’ : আবদুস সালাম হাওলাদার
কুয়াকাটায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ সমাপ্ত কুয়াকাটায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ সমাপ্ত

অভিনয়ের মাঝেই বেঁচে থাকতে চাই | আজম খান
(সংবাদটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)