শিক্ষা সুযোগ বঞ্চিত চরফ্যাশনের চরাঞ্চলের শিশুরা

- শিপু ফরাজী

ইচ্ছা থাকা সত্বেও ওরা শিক্ষা বঞ্চিত

চরফ্যাশন, ভোলা : পড়াশোনার ইচ্ছে থাকলেও তার উপায় নেই, ভোলা চরফ্যাশনের চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের। চরে পর্যাপ্ত মাধ্যমিক স্কুল না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষেই থমকে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া। শিক্ষা সুযোগ বঞ্চিত হয়ে বাল্য বিবাহসহ নানা সামাজিক বিচ্যুতি ও চরভিত্তিক নানা অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে তারা।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, চরএলাকায় নতুন মাধ্যমিক স্কুল হলে চরে উন্মোচিত হতে পারে শিক্ষার নতুন দিগন্ত। এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন জনপ্রতিনিধির।
অভিভাবকদের অভিযোগ এখানে যে স্কুল আছে তাতে শিক্ষক না আসায় ঘরের কাজে ব্যস্ত রেখেছেন সন্তানকে। একই কারণে পড়ার সময় স্কুল মাঠে খেলাধুলায় ব্যস্ত বালক/বালিকারা।
চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর, চরকুকরি মুকরি, চরহাসিনা, খুড়চিরচর, চরফারুকি, চরমোতাহার, চরলিউলিন, চরনিজাম, চরকচুয়াখালি, সিকদারচর, চরআশ্রফআলম, পাতিলার চরসহ ছোট-বড় ১১ টি চরের একই অবস্থা।

এসব চরে ৬ টি জীর্ণ জুনিয়র হাইস্কুল ও দাখিল মাদ্রাসা থাকলেও শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে সপ্তাহের অধিকাংশ দিনই থাকে তালাবদ্ধ। চরের ১০টি প্রাথমিক স্কুলে ২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পড়ার সুযোগ পেলেও পিএসসি শেষে মাধ্যমিক স্কুল সংকটে শিক্ষা বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে তারা। পাশাপাশি সন্তানকে শহরে রেখে পড়ানোর সামর্থ্য না থাকায় উচ্চ শিক্ষায় সরকারি সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে চরের কিশোর কিশোরীরা। বাড়ছে মেয়েদের বাল্যবিবাহ আর চরভিত্তিক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে ছেলেরা।

চরবাসীরা বলেন, আমরা গরীব মানুষ কতদিন মেয়েকে ঘরে রাখবো । মেয়ে ঘরে থাকলে নানা ঝই জামেলা তাই মেয়ে বিয়ে দিয়ে দেবো।
পশ্চিমঢালচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জহিরুল হক বলেন , এখানে আমরা কষ্ট করে চাকরি করি। থাকার তেমন ব্যাবস্তা নেই বলেলই চলে। তাই আসার পরেই ট্রান্সফার হয়ে চলে যায় শিক্ষকরা।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, দুর্গম চরাঞ্চলে নতুন প্রয়াসে বেশ কয়েকটি মাধ্যমিক স্কুল হলে চরের শিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পাশাপাশি নিশ্চিত হবে মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষাও। শিক্ষাবিদ মো: আবুল হাসেম মহাজন বলেন, নতুন করে মাধ্যমিক স্কুল হলে লেখাপড়ার মাধ্যমে তারা সামাজিক অনগ্রসরতা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। এবং চরাঞ্চলেও শিক্ষার আলোর পথ উন্মোচিত হবে। এ ব্যাপারে উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।

চরাঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাল

অন্যদিকে এখান কার বেশ কিছ ুচরে ২০ বছরেও বিদ্যালয় স্থাপন না হওয়ায় চরের শিশু শিক্ষা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত রয়েছে।চরের ছেলেরা গরু চড়িয়ে কিংবা নদীতে মাছ ধরে দিন কাটালেও রান্না-বান্না আর গৃহস্থালির কাজ করে বেড়ে উঠছে মেয়েরা। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাবে কোমলমতী এসব শিশুদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্য পড়েছে।

সরেজমিন চরবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৪০ বছর আগে তেঁতুলিয়ার বুক চিরে জেগে উঠা কচুয়াখালী চর । সেখানে বসতি গড়ে উঠলেও গড়ে উঠেনি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে সেখানকার শিশুরা প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছেনা। ইচ্ছা থাকা সত্তেও অভিভাবক কিংবা কোমলমতী শিশুরা বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার স্বপ্ন দেখলেও বিদ্যালয়ের অভাবে সে স্বপ্ন থেকে তারা বঞ্চিত।

চরের কৃষক আ কাদের বলেন, বিদ্যালয় না থাকায় তিন মেয়ে ও দুই ছেলেকে পড়ালেখা করাতে পারছিনা। আমাদের এখানে একটি স্কুল হলে শিশুরা শিক্ষার সুযোগ পেতো।
কৃষক বধূ সকিনা বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা করার ইচ্ছা থাকলেও বিদ্যালয়ের অভাবে সে সুযোগ তারা পাচ্ছেনা। কৃষক বাহাদুর বলেন, চর কচুয়াতে স্কুল নেই, পার্শ্ববর্তী জেলায় ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাই। কিন্তু প্রতিদিন তারা স্কুলে যেতে পারেনা। অনেক দূর, তাও আবার খাল-বিল পাড়ি দিয়ে যেতে হয়।

এ ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

তবে উপজেলা শিক্ষা অফিস দেয়া তথ্য মতে, চরে মাধ্যমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে ১৭-১৮ অর্থবছরে চর গুলিতে শিক্ষার সকল সুযোগ সুবিধা সম্মিলিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এই বিষয় কাজ চলছে ।

//প্রতিবেদন/১৩০৫২০১৭//


এ বিভাগের আরো খবর...
আলোকযাত্রা ভোলা দলের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ আলোকযাত্রা ভোলা দলের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ
সবুজ উপকূল ২০১৭-এর আয়োজন উপকূলের ২০ স্থানে সবুজ উপকূল ২০১৭-এর আয়োজন উপকূলের ২০ স্থানে
স্থানীয় বিশিষ্টজনদের মূল্যায়নে সবুজ উপকূল কর্মসূচি স্থানীয় বিশিষ্টজনদের মূল্যায়নে সবুজ উপকূল কর্মসূচি
সবুজ উপকূল কর্মসূচি উপকূল জুড়ে সাড়া ফেলেছে সবুজ উপকূল কর্মসূচি উপকূল জুড়ে সাড়া ফেলেছে
শিগগিরই শুরু হচ্ছে সবুজ উপকূল ২০১৭ কর্মসূচি শিগগিরই শুরু হচ্ছে সবুজ উপকূল ২০১৭ কর্মসূচি
১৪ বছরের কিশোরীকে বাল্যবিয়ে থেকে বাঁচালো আলোকযাত্রা মহেশখালী দল ১৪ বছরের কিশোরীকে বাল্যবিয়ে থেকে বাঁচালো আলোকযাত্রা মহেশখালী দল
ঈদ আনন্দে কমলনগর মেঘনা বীচে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় ঈদ আনন্দে কমলনগর মেঘনা বীচে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়
ঈদে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর মতিরহাট মেঘনা বীচ ঈদে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর মতিরহাট মেঘনা বীচ
মনপুরার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফুটালো আলোকযাত্রা দল মনপুরার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফুটালো আলোকযাত্রা দল
পর্যটকের ভিড় বাড়ছে লক্ষ্মীপুরের মতিরহাট মেঘনাতীরে পর্যটকের ভিড় বাড়ছে লক্ষ্মীপুরের মতিরহাট মেঘনাতীরে

শিক্ষা সুযোগ বঞ্চিত চরফ্যাশনের চরাঞ্চলের শিশুরা
(সংবাদটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)