চ্যানেল টোয়েন্টিফোর, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের ‘ডায়মন্ড সিমেন্ট প্রসঙ্গ চট্টগ্রাম অনুষ্ঠান’। কতটা সুরক্ষিত উপকূল?

উপকূল এখনও সুরক্ষিত নয়, নজর বাড়াতে হবে : আরিফুর রহমান

কতটা সুরক্ষিত উপকূল? বিষয়ে কথা বলছেন ইপসা’র প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমান

২৯ এপ্রিল ১৯৯১। উপকূলের ওপর দিয়ে বয়ে গিয়েছিল প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়। নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা উপকূল। প্রাণ হারিয়েছিল লাখ লাখ মানুষ। ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয় পুরো উপকূল। প্রায় দুই দশক অতিবাহিত হয়েছে দিবসটির। এতদিনে কতটা সুরক্ষিত হতে পেরেছে উপকূল? দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার চিত্রটাই বা কেমন? এসব নিয়ে ২৯ এপ্রিল বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান করেছে চ্যানেল টোয়েন্টিফোর, চট্টগ্রাম কেন্দ্র। ‘ডায়মন্ড সিমেন্ট প্রসঙ্গ চট্টগ্রাম অনুষ্ঠান’ শিরোনামের এ অনুষ্ঠানে উপকূল সুরক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেছেন ইপসা’র প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের কামাল পারভেজ। অনুষ্ঠানের কথোপকথন হুবহু :

কামাল পারভেজ : আমরা একটু শুরুতেই যেতে চাই সেই ভয়াল ঘূর্ণিঝড়, আড়াই দশক পর আসলে কতটা সুরক্ষিত উপকূল?
আরিফুর রহমান : ২৯ এপ্রিল ১৯৯১ সাল। আড়াই দশক ইতিমধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে। আমি অত্যন্ত দু:খের সাথে বলতে চাই, আমাদের উপকূল এখনও অরক্ষিত। কিন্তু এরমধ্যে অনেক শুভ খবরও আছে। সেগুলো আমরা দেখেছি; আমরা সরাসরি যেহেতু উপকূল অঞ্চলে কাজ করি মানুষের সাথে। কিন্তু ওভারঅল যদি বলতে হয়, এখনও আমাদের উপকূল পুরোপুরি অরক্ষিত। ২৯ এপ্রিলের মতো ভয়াবহ কোন ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোন হলে ঠিক একইভাবে এখানকার মানুষজন ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

কামাল পারভেজ : গত দু’তিন বছরে মধ্যে আমরা অনেকগুলো ঘূর্ণিঝড় দেখেছি। সবগুলোতেই আমরা দেখেছি, চট্টগ্রাম উপকূলের ১০ থেকে ১২ লাখ বাস করে, সেই মীরেরসরাই থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত। ঘূর্ণিঝড় হলে এই মানুষগুলোকে অ্যাকোমোডেট করার ব্যবস্থা কিন্তু খুবই নাজুক। যেমন আমরা দেখি, আশ্রয়কেন্দ্রে যেগুলো আছে, সেগুলোতে সর্বোচ্চ তিন থেকে চার লাখ মানুষ আশ্রয় নিতে পারে। এ বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
আরিফুর রহমান : আসলে যখন বড় ধরণের ঘূর্ণিঝড় হয়, অনেক প্রাণহানি হয়, তখন এগুলো মিডিয়াতে আসে। আন্তর্জাতিক মিডিয়ার নজর পড়ে। সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উদ্যোগে অনেক ধরণের স্থাপনা নির্মাণ হয়। কিন্তু যেটা হয়েছে, আমরা যদি গত ৪০ বছরের খতিয়ান দেখি, এটা সংখ্যা জনসংখ্যার অনুপাতে খুবই কম। কিন্তু এখানে একটা বিষয় হচ্ছে, আমরা যারা উন্নয়নকর্মী, আমরা দেখেছি যে, যেসব কাঠামোগুলো গড়ে ওঠে, এগুলো পরবর্তীতে কিছু অব্যবস্থাপনা থাকে এবং এগুলোর সংস্কার কাজ হয় না। ফলে যা-ও আছে, সেগুলো কিন্তু সঠিকভাবে মানুষের জন্য ঠিক উপকার বয়ে আনে না। যেগুলো সংস্কার হয়, সেগুলো কাজে আসে। আর অনেকগুলো সেন্টার আছে, যেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে আছে। প্রায় ৫০ ভাগ এরকম। আপনারা জানেন, যে উপকূলীয় অঞ্চল বেশিরভাগই লবনাক্ত। পুরো আবহাওয়াটাই হচ্ছে লবনাক্ত। ফলে যেকোন অবকাঠামো যত বছর টিকে থাকার কথা; লবনাক্ততা ও সংস্কারের অভাবে আরও দ্রুত এটা নষ্ট হয়ে যায়।

কামাল পারভেজ : তার মানে কী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এখনও কী ঘাটতি রয়ে গেছে বলে আপনি মনে করেন?
আরিফুর রহমান : ঘাটতি আছে। কিন্তু এর পাশাপাশি কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপও আছে। আমি যদি সেগুলো বলি, একটা হচ্ছে মানুষের মাঝে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বেড়েছে। মানুষজন এখন অনেক সচেতন। উপকূলে যারা বাস করে, তারা প্রত্যেকেই সতর্ক সংকেতগুলো সম্পর্ক জানে। তারা সবাই জানে যে দুর্যোগ আগে কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। দুর্যোগ চলাকালে এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে তারা কী করবে, সে বিষয়ে তারা সচেতন। এই প্রস্তুতির বিষয়ে আপনি যদিএকটু দেখেন, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল যে প্রাণহানি হয়েছিল এবং তার পরবর্তীতে যতগুলো সাইক্লোন হয়েছে, কোমেন রোয়ানু; এগুলোতে প্রাণহানির সংখ্যা অনেক কম ছিল। এগুলো এদিকেই আঘাত করেছে। একমাত্র কারণ হচ্ছে মানুষের সচেতনতা। এটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ যে, মানুষ নিজেরাই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় তাদের তৈরি করেছে। তাদের বাড়িঘর থেকে শুরু করে সবকিছু। এটি যেমন সত্য,  তেমনি আরেকটি চরম সত্য হচ্ছে, আমাদের পুরো উপকূলে যে বেড়িবাঁধ রয়েছে, সেটি কিন্তু অরক্ষিত। এবং অসংখ্য জায়গায় এ বাঁধ ভেঙে গিয়েছে এবং যেখান দিয়ে সমুদ্রের লবনাক্ত পানি ঢুকে যাচ্ছে। এতে করে মানুষের সম্পদ, বিশেষ করে তাদের কৃষিজমি, যেগুলোর ওপর নির্ভর করে তাদের জীবন চলে, সেগুলো কিন্তু ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, উপকূলীয় অঞ্চলে যেহেতু বেশিরভাগই দরিদ্র মানুষ, তাদের বাড়িঘরগুলো খুবই কাঁচা। সামান্য সাইক্লোনের বাতাসেই এগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। এগুলোর ব্যাপারে আমরা কিন্তু ইতিবাচক কোন পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না।

কামাল পারভেজ : দুর্যোগে সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে যোগাযোগ। বিশেষ করে, আমরা দেখি, জেলেরা সমুদ্র-নদীতে মাছ ধরতে যায়। তাদের সাথে ঘূর্ণিঝড়ের ওই সময়কালীন যোগাযোগের বিষয়টা আসলে কতটা আধুনিক হয়েছে, বা কতটা উন্নত হয়েছে বলে আপনি মনে করেন। বা কোথাও কোন ঘাটতি আছে কীনা?
আরিফুর রহমান : আমি যদি ১৯৯১ সালের সাথে তূলনা করি, সেক্ষেত্রে অনেক উন্নতি হয়েছে। এর কারণ হচ্ছে, আমাদের যে সরকারি বেতার রয়েছে, সেটি সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করে। এবং আপনি জেনে খুশি হবেন যে, চট্টগ্রামের একমাত্র কমিউনিটি রেডিও স্টেশন, যেটি সীতাকুন্ডে অবস্থিত। যেটি সীতাকুন্ড এবং সন্দ্বীপ এই চ্যানেল এলাকায় কমিউনিটি রেডিও মাধ্যমে তথ্য প্রচার করা হয়। কিন্তু এটি শুধুমাত্র একটি নির্দষ্ট এলাকার জন্য। আমাদের যে বিশাল কোস্টাল এরিয়া; আমরা যদি সেন্টমার্টিন থেকে মীরেরসরাই পর্যন্ত ধরি, এখানে কিন্তু আরেকটি কমিউনিটি রেডিও কাজ করে নাফ নদীর কাছে টেকনাফে। এর বাইরে কিন্তু কমিউনিটি ভিত্তিক কোন রেডিও কমিউনিকেশনস নেই। সুতরাং তাদেরকে নির্ভর করতে হয় বেতারের ওপর। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, যখন ঘূর্ণিঝড় হয়, তখন তো প্রচন্ড বাতাস থাকে। রেডিও সিগন্যাল অনেক সময় পৌঁছে না। কিন্তু এখন পর্যন্ত কমিউনিকেশনের জন্য আসলে আমাদের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতির অধীনে যে স্বেচ্ছাসেবীরা আছে, তাদের যে প্রচারণা, এটিই কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকরী। আমরা কমিউনিটির বিষয়টি জানলাম। আরেকটি হলো যে, পুরো উপকূলীয় অঞ্চলে রেডক্রিসেন্টের অধীনে হাজার হাজার ভলান্টিয়ার তৈরি হয়েছে, যারা ঘূর্ণিঝড়ের সিগন্যাল দেওয়ার সাথে সাথেই তারা কমিউনিটিতে যায় এবং এ তথ্যগুলো তারা প্রচার করে। তারা হ্যান্ডমাইক ও মাইক ব্যবহার করে। তারপর পতাকা টাঙানো হয়।

কামাল পারভেজ : এই যে রেডিওর কথা বলছিলেন, এক্ষেত্রে যারা ট্রলার নিয়ে যেসব জেলেরা মাছ ধরতে যায়, তাদের কাছে কী পর্যাপ্ত বেতারযন্ত্র আছে বলে আপনি মনে করেন?
আরিফুর রহমান : না। এটা অবশ্যই নাই। কারণ হচ্ছে, যে এখানে আমরা দেখি যে, যেগুলো একটু বড় ট্রলার, মালিকপক্ষ খুব সচেতন, সেখানে রেডিও’র ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু অধিকাংশ, যেগুলো ছোট ছোট যে ডিঙ্গি নৌকাগুলো আছে, যারা সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়, এদের অধিকাংশের কাছেই কিন্তু তথ্য পাওয়ার জন্য যে ব্যবস্থা, সেটা নেই। একটা পজেটিভ দিক বলি, এখন যেহেতু মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে; অনেক মোবাইল ফোন এফএম রেডিও রিসিভ করতে পারে, এক্ষেত্রে আমরা আগামীতে মনে করছি যে, আমাদের মোবাইল ফোন একটা বড় ধরণের ভূমিকা রাখতে পারে কমিউনিকেশনের ক্ষেত্রে।

কামাল পারভেজ : সংকেত নিয়ে অনেকের অনেক কথা আছে। আমরা দেখেছি যে, সংস্কার হয়েছে সংকেতগুলো। সেখানে কী কোন ধরণের সমস্যা আছে? যেমন অনেকে অভিযোগ করে যে, আসলে সংকেতটা ঠিক সময়ে মিলে না।
আরিফুর রহমান : আমাদের নির্ধারিত যে সংকেত আছে, সেটি মোটামুটি জনপ্রিয়। সবাই জানে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অন্য জায়গায়। মানুষ যে বুঝবে, এটা জানার জন্য যে কমিউনিকেশন; আপনি জানেন যে, আমাদের এলাকায় অধিকাংশ মানুষ নিজস্ব ভাষায় কথা বলে। কিন্তু আমাদের যে প্রচার মাধ্যম, সেটি রেডিও হোক, মোবাইল হোক, এর মাধ্যমে যে তথ্যগুলো দিচ্ছে, এগুলো কিন্তু প্রমিত বাংলায়। ফলে মানুষ কিন্তু প্রমিত বাংলার এই শব্দ অথবা অর্থ, এগুলো অনেক সময় কিন্তু সঠিকভাবে গ্রহন করতে পারে না। আর প্রতীকের যে কথা বলেছেন; এখন যেটা হচ্ছে যে, যারা ট্রেনিং পেয়েছে, যাদের সচেতনতা আছে; তারা কিন্তু এই প্রতীকের অর্থটা বোঝে। কিন্তু আমাদের উপকূলে এখনও ব্যাপক সংখ্যক মানুষ রয়েছে, যারা এখনও শিক্ষাএবং সচেতনতায় পিছিয়ে আছে। তাদের জন্য কিন্তু এটা একটা বড় সমস্যা।

কামাল পারভেজ : সংকেতটা তাহলে আর কীভাবে সহজ করা যায়?
আরিফুর রহমান : এটার জন্য একটা উদ্যোগ আছে। এটার জন্য সরকারি একটা উদ্যোগ আছে। আপনারা জানেন যে, এটা তো কমন করা হবে। করলে পুরো উপকূলের জন্য এটা করা হবে। এটার জন্য সরকারের অনেক প্রচেষ্টা আছে। আমরা আশা করছি, এই সংকেত এবং তথ্য আদান প্রদানের বিষয়টিকে আরও কীভাবে সহজীকরণ করা যায়; এবং সেখানে যাতে প্রত্যেকটি মানুষ, যারা শিক্ষিত, যারা অল্প শিক্ষিত, অথবা একেবারে যারা নিরক্ষর, সবাই যাতে কমিউনিকেট করতে পারে, তার জন্য হয়তো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কামাল পারভেজ : আরেকটি বিষয় জানতে চাই, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমাদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন। তার পাশাপাশি চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড়। এই দুইয়ের সম্পর্ক এবং উপকূল নিয়ে বিস্তারিত একটু জানতে চাই।
আরিফুর রহমান : আমরা আসলে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে, বিশেষভাবে দুই দশক আন্তর্জাতিকভাবে এবং আমাদের জাতীয় ভিত্তিতে এগুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এবং আপনারা জানেন, এটা নিয়ে অনেক বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু আমরা যারা উপকূলবাসী, আমরা কিন্তু দেখছি; প্রতিদিনই জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকারক দিক, তার সাথে আমরা পরিচিত হচ্ছি। তারমধ্যে একটা হচ্ছে, আমাদের সাইক্লোন এবং দুর্যোগগুলো। আপনি যদি উপকূলীয় অঞ্চলগুলো দেখেন, আপনি দেখবেন, আমাদের উপকূল কীভাবে ভেঙে যাচ্ছে। আমাদের এই অঞ্চল, আমাদের সন্দ্বীপ, আমাদের কুতুবদিয়া আইল্যান্ড প্রায় অর্থক হয়ে গেছে ভাঙণে। আমাদের এই যে মানুষেরা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাদের সম্পদ হারিয়ে ফেলছে, তারা কোথায় যাচ্ছে? তারা উদ্বাস্ত হয়ে যাচ্ছে। তারা চলে আসছে চট্টগ্রাম শহরে। অনেকে চলে যাচ্ছে কক্সবাজারে, এইসব শহরগুলোতে। সেখানে কিন্তু তারা একজন উদ্বাস্তু হিসাবে বাস করছে। কারণ, তাদের সবকিছুই হারিয়ে গেছে। কিন্তু আমরা দেখতে পাই যে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টাকে এমনভাবে বোঝানো হয় যে; এটা প্রকৃতিগতভাবেই ঘটছে। আসলে বিষয়টি তা নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আমরাই কিন্তু সহায়ক হিসাবে কাজ করছি। আপনারা জানেন যে, শিল্পোন্নত দেশগুলো; তাদের কিন্তু অনেক দায় আছে। সেজন্য আমরা যারা ভুক্তভোগী, আমরা মনে করি যে, আজকে যে সাইক্লোন হচ্ছে, এই যে গত কয়েকদিন ধরে যে আবহাওয়া আমরা দেখছি; আমাদের যে অতি বৃষ্টি হচ্ছে। যখন বৃষ্টি হওয়ার কথা না, তখন বৃষ্টি হচ্ছে। এবং আবহাওয়ার যে উষ্ণতা বেড়ে গেছে, যার ফলে ছোট ছোট শিশুদেরসহ বয়স্ক মানুষের রোগ দেখা দিয়েছে; এগুলো সবগুলোই কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের যে নেতিবাচক দিক, তা-ই কিন্তু এগুলো। আমরা যেটা বলতে চাই, আমরা কোন বিতর্কে নাই; আমাদের এই দুর্যোগ এবং আমাদের যে ক্ষয়ক্ষতি, এর দায়িত্ব কিন্তু নিতে হবে যারা এ এই জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী; তাদেরকে। সরকার এবং মিডিয়া সকলকে আমরা বলবো, আমরা দুর্যোগকে কেবল একটা মানবিক বিষয় হিসাবে চিন্তা না করে, এটার জন্য যারা দায়ী, তাদেরকে কিন্তু এর দায় নিতে হবে। এবং আমাদের উপকূলবর্তী মানুষের জীবনযাপন যাতে সহায়ক হয়, তার জন্য তাদেরকে অনেকগুলো উদ্যোগ নিতে হবে। তাদেরকে এর ক্ষতিপূরণ দিকে হবে। আমরা মনে করছি, সরকার এবং মিডিয়া সকলে মিলে এ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলুন।

চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ‘ডায়মন্ড সিমেন্ট প্রসঙ্গ চট্টগ্রাম অনুষ্ঠান’

কামাল পারভেজ : আমরা এই যে দুর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্রের কথা বলছি, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা অনেকদিন ধরে কলছেন যে, এইরকম একটা একটা করে আশ্রয়কেন্দ্র না করে যদি উপকূলে যারা বসবাস করে, তাদের জন্য যদি ঘূর্ণিঝড় সহায়ক ঘরবাড়ি তৈরি করা যায়, তাহলে অনেকখানি সহায়ক হয় তাদের জন্য; বিষয়টাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
আরিফুর রহমান : আমাদের যে জনসংখ্যা, সে তূলনায় সােইক্লোন শেলটার করতে গেলে অনেক সম্পদ দরকার। আরেকটি হচ্ছে, সাইক্লোন শেলটারের ব্যবস্থাপনা একটি বড় বিষয়, যেটি আমি প্রথমার্ধে বলেছি; যদি সংস্কার না হয়, তাহলে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে আমরা যদি প্রতিটি মানুষকে, যারা উপকূল থেকে আসতে পারবে না; কেননা তার জীবনজীবিকা সেখানে, তার সম্পদ সেখানে; সুতরাং তাকে যদি দুর্যোগ সহনীয় বাসস্থান তৈরির ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা যায়। আপনি শুনলে খুশি হবেন, রোয়ানু পরবর্তীতে বাঁশখালীর খানখানাবাদ যে ইউনিয়ন; সবচেয়ে বেশি যেখানে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল, সেখানে আমাদের প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন অান্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিয়ে কয়েকটি কাজ করেছি। তারমধ্যে একটি হচ্ছে আমরা ৫০টি বাড়ি করেছি; একদম দুর্যাগ সহনীয় বাড়ি। যেগুলো ইউএনডিপি এবং অ্যাকশন-এইড বাংলাদেশ বলে প্রতিষ্ঠান, তারা আমাদেরকে সহায়তা করেছে। তো আমরা এটা দেখছি, বাড়িগুলোর ভবিষ্যত কী হয়। এরকম আরও কিছু কাজ হয়েছে সরকারি-বেসরকারিভাবে। মূল কথা হচ্ছে, আসলে এর কোন বিকল্প নাই। কারণ, ওই মানুষকে ওখানেই থাকতে হবে। ওখানে থেকেই তাকে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে হবে। তাইলে তাকে এমনভাবে বাড়িঘর তৈরি করার ক্ষেত্রে সহায়তা করতে হবে, যাতে সেটা দুর্যোগ সহনীয় হয়।

কামাল পারভেজ : সেটা তো এমনও হতে পারে যে, একটা ঘর করার জন্য ওই মানুষ কিছু অর্থ যোগান দিল, বাকিটা সরকার দিল। এরকমও হয়তো একটা ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
আরিফুর রহমান : অবশ্যই। আমরা যেটা করেছি, সেগুলো অনেকটা এরকম। এগুলো অনেকটা কন্ট্রিব্যুটরি। যে একটা অংশ আমরা সাপোর্ট করেছি, আরেকটা অংশ সে দিয়েছে। এখানে কিন্তু সরকারের একটা বড় ভূমিকা আছে। স্থানীয় সরকারের একটা ভূমিকা আছে। আমরা সঠিক যে উপকারভোগী বাছাই করা; সেখানে যাতে স্বচ্ছতা থাকে, প্রকৃত মানুষটা যাতে বঞ্চিত না হয়, এভাবে অনেকগুলো বিষয় এখানে দেখার আছে। এভাবেই আসলে কাজগুলো ভবিষ্যতে করতে হবে।

কামাল পারভেজ : এক্ষেত্রে আমরা দেখি যে, সরকারি তরফে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, উপকূলের জন্য, ঘূর্ণিঝড়ের পরবর্তী সময়ে। আপনি কী মনে করেন এগুলো কী পর্যাপ্ত?
আরিফুর রহমান : না। এগুলো অবশ্যই পর্যাপ্ত নয়। এবং এগুলো খুবই অপ্রতূল। সরকারি আসলে যে সাহায্যটা বেশি আসে; সেটি হচ্ছে যে ইমিডিয়েট ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের কাছে সহায়তাটা পৌঁছানো। বিশেষ করে, খাদ্য সামগ্রী এবং গৃহনির্মাণের জন্য তাকে কিছু সাহায্য সহযোগিতা দেওয়া। এটা খুবই অপ্রতূল। কারণ হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড়ে আমাদের যে ব্যাপক ক্ষতি, সেই তূলনায় যে বরাদ্দ, সেটা কিন্তু খুবই কম।

//উপকূল বাংলাদেশ/০১০৫২০১৭//


এ বিভাগের আরো খবর...
কুয়াকাটায় উৎসবমূখর পরিবেশে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত কুয়াকাটায় উৎসবমূখর পরিবেশে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
কাঁঠালিয়ায় সবুজ সুরক্ষার আহবানের মধ্যদিয়ে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত কাঁঠালিয়ায় সবুজ সুরক্ষার আহবানের মধ্যদিয়ে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
বাগেরহাটে উৎসবমূখর পরিবেশে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে উৎসবমূখর পরিবেশে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
উৎসবমূখর পরিবেশে খুলনার পাইকগাছায় ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত উৎসবমূখর পরিবেশে খুলনার পাইকগাছায় ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের দ্বীপ গাবুরায় অনুষ্ঠিত হল সবুজ উপকূল ২০১৭ কর্মসূচি সাতক্ষীরার শ্যামনগরের দ্বীপ গাবুরায় অনুষ্ঠিত হল সবুজ উপকূল ২০১৭ কর্মসূচি
সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে শুরু হলো সবুজ উপকূল ২০১৭ কর্মসূচি সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে শুরু হলো সবুজ উপকূল ২০১৭ কর্মসূচি
এবারের ঈদে ২ টেলিছবি ও ৫ নাটকে আজম খান এবারের ঈদে ২ টেলিছবি ও ৫ নাটকে আজম খান
বরগুনার পুলিশ লাইন স্কুলে দেয়াল পত্রিকা ‘বেলাভূমি’র যাত্রা শুরু বরগুনার পুলিশ লাইন স্কুলে দেয়াল পত্রিকা ‘বেলাভূমি’র যাত্রা শুরু
আলোকযাত্রা ভোলা দলের উদ্যোগে দু’দিনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন আলোকযাত্রা ভোলা দলের উদ্যোগে দু’দিনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় সবুজ উপকূল ২০১৭ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় সবুজ উপকূল ২০১৭ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

উপকূল এখনও সুরক্ষিত নয়, নজর বাড়াতে হবে : আরিফুর রহমান
(সংবাদটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)