উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনী শেষ || উপকূল সুরক্ষায় নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ বিশিষ্টজনদের

- প্রতিবেদন উপকূল বাংলাদেশ

প্রদর্শনীতে বিশিষ্টজনেরা

ঢাকা : উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে এসে বিশিষ্টজনের বলেছেন, এটা ব্যতিক্রমী আয়োজন। উপকূল নিয়ে এর আগে পূর্নাঙ্গভাবে কোন চিত্র প্রদর্শনী ঢাকায় হয়নি। সবার মাঝে উপকূলের তথ্য ছড়িয়ে দিতে এবং নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতেএ ধরণের উদ্যোগ আরও ব্যাপকভাবে নেওয়া প্রয়োজন। তারা বলেন, উপকূল সুরক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

রাজধানী ঢাকায় দৃক গ্যালারিতে ‘উপকূল বাংলাদেশ আলোকচিত্র প্রদর্শনী’র শেষদিনে এসে গবেষক, উন্নয়নকর্মী, গণমাধ্যমের প্রতিনিধিগণ এসব কথা বলেন। তিনদিনব্যাপী এ আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুক্রবার (২৮ এপ্রিল ২০১৭) শেষ হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিপন্ন উপকূলের আলোকচিত্র নিয়ে বুধবার (২৬ এপ্রিল ২০১৭) এ প্রদর্শনী শুরু হয়েছিল।

সমাপনী দিনে প্রদর্শনীর ছবিগুলো দেখে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক গবেষক মো. শামসুদ্দোহা বলেন, ‘‘উপকূলীয় জলবায়ু ঝুঁকিগ্রস্থ জনগোষ্ঠীর বেঁচে থাকার সংগ্রাম ও সংকটগুলো এই প্রদর্শনীতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। এ চিত্রগুলো গবেষক ও উন্নয়নকর্মীদের নতুন ও ভিন্নভাবে ভাবতে সাহায্য করবে। এ প্রদর্র্শনীতে সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলের চিত্র ফুটে উঠেছে, যা ঢাকায় উপস্থাপিত প্রথম উদ্যোগ।”

তিনি বলেন, ‘‘সমগ্র উপকূল নিয়ে আমরা খুব বেশি কাজ করছি না। সে ক্ষেত্রে এ আয়োজন সমগ্র উপকূল নিয়ে কাজের একটা প্ল্যাটফরম তৈরি করবে বলে আমার বিশ্বাস। উপকূলের সমস্যা নিরসনে আমাদেরকে একযোগে কাজ করতে হবে। এর মাধ্যমেই বিষয়গুলোকে নীতিনির্ধারণী মহলে পৌঁছানো সম্ভব হবে।”

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কোস্টট্রাষ্টের সহকারী পরিচালক মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, ‘‘এই প্রদর্শনীতে উপস্থাপিত প্রতিটি ছবিই এক একটি গল্প। ছবিগুলো যেসব সমস্যার কথা বলছে, তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেবে। আর এর মধ্যদিয়ে সমস্যা সমাধানের দিকে এগোবে উপকূল। সমুদ্ররেখায় বিপন্ন জনপদের এই ইস্যুগুলো নিয়ে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। এ ধরণের উদ্যোগে সংশ্লিষ্টদের পাশে থাকতে হবে। এই উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া মানে উপকূলকেই এগিয়ে নেওয়া।”

অনলাইন নিউজপোর্টাল পরিবর্তন ডটকম-এর সম্পাদনা পর্ষদ সদস্য ড. কাজল রশীদ শাহীন বলেন, ‘‘কোস্টাল বাংলাদেশের দু:খী-সংকটের চেহারাটা ফুটে উঠেছে এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে। যারা উপকূলে গিয়ে দেখতে পারেননি, তাদেরকেও উপকূলের বিপন্নতা অনুধাবন করতে সহায়তা করেছে এ প্রদর্শনী। তবে মানুষের কষ্টের বিষয়গুলো আরও পিন পয়েন্টে দেখানো যেতে পারতো। যা খুব কম ছবিতেই এসেছে। কিছু ছবি দেখে হেলিকপ্টার থেকে বন্যা দেখার মত মনে হয়েছে। ফিচারাইজড না, জার্নালিষ্টিক ভিউয়ের ছবিটা দেখতে চাই আরও বেশি করে।”

তিনি বলেন, ‘‘নি:সন্দেহে এটা ভালো উদ্যোগ। উপকূলের ছবি নিয়ে এর আগে এভাবে কোন প্রদর্শনী হয়েছে বলে আমার জানা নেই। নগরে এনে উপকূলের ছবি দেখানোর ফলে এ বিষয়ে নীতিনির্ধারণী মহলের দৃষ্টি আকৃষ্ট হবে। আসলে সবাই মিলে উপকূল নিয়ে কাজ করা উচিত।”

প্রদর্শনীতে বিশিষ্টজনেরা

প্রদর্শনীর ছবি দেখে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অ্যাকশন এইড-বাংলাদেশের প্রজেক্ট ম্যানেজার নুসরাত ফাতেমা বলেন, ‘‘উপকূলের ছবিতে যা দেখলাম, নগরে বসে তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনা। দূর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করার কথা আমরা ভাবতেও পারি না। ঘর ভেঙে যায়, আবার তা তৈরি করতে হয়। প্রতি বছরই তাদের ওপর দিয়ে হাজারো বিপদ বয়ে যায়। এগুলো সামাল দিয়েও তারা কীভাবে বেঁচে থাকে কল্পনাও করা যায় না। এসব বিষয়ে সবার মাঝে যেমন সচেনতা বাড়াতে হবে, সরকারেরও নজর বাড়াতে হবে।”

শুরুর দিন বুধবার থেকেই প্রদর্শনীতে ব্যাপক দর্শক সমাগম ঘটে। দেশি দর্শনার্থীর পাশাপাশি উপকূলের ছবি দেখতে অাসেন বিদেশি নাগরিকগণ। গবেষক, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার নাগরিকগণ উপকূলের আলোকচিত্র দেখতে প্রদর্শনীতে ভিড় করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনে বিপন্ন উপকূলের চিত্র সবার সামনে তুলে ধরতে শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ-সিসিডিবি রাজধানীতে প্রথমবারের মত উপকূল বিষয়ে এ চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে। প্রদর্শনীতে জলবায়ু পরিবর্তনে বদলে যাওয়া উপকূলের গল্প তুলে ধরা হয়েছে ছবির ভাষায়।

প্রদর্শনীতে বিশিষ্টজনেরা

প্রদর্শনীতে চারজন আলোচিত্রী-সাংবাদিকের তোলা ছবি স্থান পেয়েছে। এরা হলেন, দীন মোহাম্মদ শিবলী, রফিকুল ইসলাম মন্টু, হাবিব তরিকুল ও নাইমুল ইসলাম। এরা উপকূলের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে জলবায়ু পরিবর্তনের চিত্রগুলো তুলে এনেছেন। প্রদর্শনী প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য খোলা ছিল।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যুগুলোকে উন্নয়নধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য সামনে রেখে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে উপকূলের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অনেক ইস্যু সবার অগোচরে থেকে যাচ্ছে। সেগুলোকে সামনে এনে উন্নয়নধারায় সম্পৃক্ত করতে সহায়তা করবে এই প্রদর্শনী। উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, এভাবেই উপকূলে ফিরে আসবে একটি সুন্দর আগামী।

ঢাকায় প্রথমবারের মত উপকূল বাংলাদেশ আলোকচিত্র প্রদর্শনী আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি) প্রতিষ্ঠাকাল থেকে মানবিক উন্নয়ন কর্মকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান হিসাবে এর আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৭৩ সালে। তবে ১৯৭০ সালের প্রলয়ংকরী সাইক্লোন এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ পরবর্তীকালে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সহায়তা নিয়ে। দেশের অধিকাংশ স্থানে কাজ করছে সিসিডিবি। এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকান্ডের কেন্দ্রে রয়েছে গ্রামামাঞ্চলে কমিউনিটি ও মানবিক উন্নয়ন।

//প্রতিবেদন/২৯০৪২০১৭//


এ বিভাগের আরো খবর...
আলোকযাত্রা পাইকগাছা দলের সদস্যদের লেখা নিয়ে সাহিত্য পত্রিকা কনকাঞ্জলি’র বিশেষ আয়োজন আলোকযাত্রা পাইকগাছা দলের সদস্যদের লেখা নিয়ে সাহিত্য পত্রিকা কনকাঞ্জলি’র বিশেষ আয়োজন
পাইকগাছা আলোকযাত্রা দল পালন করলো বিশ্ব জাদুঘর দিবস পাইকগাছা আলোকযাত্রা দল পালন করলো বিশ্ব জাদুঘর দিবস
কমলনগরের ফজু মিয়ারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে দেয়াল পত্রিকা বেলাভূমি’র আরও একটি সংখ্যা প্রকাশ কমলনগরের ফজু মিয়ারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে দেয়াল পত্রিকা বেলাভূমি’র আরও একটি সংখ্যা প্রকাশ
উপকূলের পড়ুয়াদের সংগঠণ আলোকযাত্রা’র উদ্যোগে ঢাকায় দিনব্যাপী কর্মশালা উপকূলের পড়ুয়াদের সংগঠণ আলোকযাত্রা’র উদ্যোগে ঢাকায় দিনব্যাপী কর্মশালা
টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে আলোকযাত্রা দলের যাত্রা শুরু টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে আলোকযাত্রা দলের যাত্রা শুরু
কমলনগরের ফলকন উচ্চ বিদ্যালয়ে দেয়াল পত্রিকা বেলাভূমি’র যাত্রা শুরু কমলনগরের ফলকন উচ্চ বিদ্যালয়ে দেয়াল পত্রিকা বেলাভূমি’র যাত্রা শুরু
নোয়াখালীর হাতিয়ার চরচেঙ্গায় আলোকযাত্রা দলের যাত্রা শুরু নোয়াখালীর হাতিয়ার চরচেঙ্গায় আলোকযাত্রা দলের যাত্রা শুরু
কমলনগরের হাজীরহাটে ব্যতিক্রমী আয়োজনে ‘বিশ্ব মা দিবস’ পালন করল আলোকযাত্রা দল কমলনগরের হাজীরহাটে ব্যতিক্রমী আয়োজনে ‘বিশ্ব মা দিবস’ পালন করল আলোকযাত্রা দল
জাতিসংঘ গ্লোবাল কমপ্যাক্টকে প্রভাবিত করতে জলবায়ুতাড়িত বাস্তুচ্যুতি বিষয়ে সরকার ও নাগরিক সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে জাতিসংঘ গ্লোবাল কমপ্যাক্টকে প্রভাবিত করতে জলবায়ুতাড়িত বাস্তুচ্যুতি বিষয়ে সরকার ও নাগরিক সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে
কমলনগরে গ্রামবাসীর যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হলো বৃহৎ সাঁকো কমলনগরে গ্রামবাসীর যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হলো বৃহৎ সাঁকো

উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনী শেষ || উপকূল সুরক্ষায় নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ বিশিষ্টজনদের
(সংবাদটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)