লক্ষ্মীপুরে টানা বর্ষণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি!

- জুনাইদ আল হাবিব

পানির নিচে ফসল

কমলনগর, লক্ষ্মীপুর : বুধবার (১৯ই এপ্রিল) দুপুর ১টা। হঠাৎ গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। কৃষিজীবী, চাকুরিজীবীসহ সব পেশার মানুষ যখন কাজে ব্যস্ত, তখনই বৃষ্টির শুরু। এক পর্যায়ে পুরো লক্ষ্মীপুরে বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা জনজীবনে চরম সংকট ডেকে এনেছে।

লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন স্থানে চাষ হয়েছে প্রচুর পরিমাণ সয়াবিন, মরিচ ও মাঠ ভরা বাদাম। এরমধ্যে সয়াবিন ও মরিচ পাকতে শুরু করেছে। অনেক এলাকায় কৃষকরা মরিচ সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন। সয়াবিনের ফলনও মাঠ থেকে ঘরে তোলার সময় সন্নিকটে। কৃষক ও পরিবারের সদস্যদের মাঝে যখন স্বপ্ন উঁকি দিচ্ছি ফলন বিক্রি করে লাভবান হতে, ঠিক তখনই সাগরে লঘুচাপ, প্রবলবৃষ্টিতে ডুবে আছে ফসল। ক্ষেতে এখন পানি ৩ ফুটেরও বেশি। কৃষকরা হয়ে পড়েন হতাশাগ্রস্ত। খুঁজতে শুরু করেন গ্রামের সেচ পাম্প। শুরু হয় সেচ পাম্প দিয়ে ক্ষেত থেকে পানি সরানোর কার্যক্রম।

উত্তর বঙ্গোপ-সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘু চাপে প্রভাবে অব্যাহত রয়েছে প্রবল বর্ষণ, বজ্রপাতসহ ঝড়ো হাওয়া। টানা ৬ দিন চলছে এই মারাত্মক বৃষ্টি। এবার শুরু মহাবিপদ! কোন দিকেই পানি সরানো সম্ভব যাচ্ছেনা। জলাবদ্ধতায় সয়াবিন, মরিচ এবং বাদামসহ অন্যান্য ফসল এখনো ডুবে আছে। খালগুলো সব ভরাট, পানি প্রবাহের জন্য নেই কোন কালভার্ট! চারদিকের কৃষকদের মুখে এখন শুধু শুনা যাচ্ছে হাহাকার। বিত্তবান কিছু কৃষক এখন টাকা দিয়ে সেচ মেশিন দিয়ে দূরবর্তী স্থানে খাল কিংবা খালি পুকুরে পানি সরানোর জন্য ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার স্থিতিস্থাপকতা সূত্র অনুসরণ করে উঁচু স্থান থেকে নিচু স্থানের দিকে পানির প্রবাহ চালু করে ক্ষেতকে পানিমুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। কোথাও কোথাও গ্রামের হাজারো মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি কেটে পানি অসারণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের কৃষক ও চরমার্টিন ইউপি সদস্য মোঃ নুরুল ইসলাম পারভেজ (৩৫) বলেন, যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে, মনে হয় এবার প্রতিজন কৃষক লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। যা কৃষকদের পরিবারে দারিদ্রতা বৃদ্ধি করতে পারে।

স্থানীয় সেচ মেশিন মালিক মোঃ আবদুল গণি (৩৮) জানান, গতকাল থেকে প্রায় ১৫-১৬টা ক্ষেত থেকে পানি অপসারণ করা হয়েছে। এখনো কৃষকরা এসে সেচ পাম্প খোঁজ করছে।

বিষয়টি নিয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী আবুল হোসেন (৪৫) বলেন, তিন দিনের বৃষ্টি নিয়ে আমরা একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছি। লক্ষ্মীপুরে সয়াবিন উৎপাদন হয়েছে ৫০ হাজার ৫’শ হেক্টর জমিতে, বাদাম উৎপাদন হয়েছে ৪হাজার ৮’শ হেক্টর জমিতে এবং মরিচ চাষ হয়েছে ২হাজার হেক্টর জমিতে। লক্ষ্মীপুরেই দেশের ৭০ভাগ সয়াবিনের উৎপাদন হয়। কিন্তু এবার তা বৃষ্টির পানির বিপর্যয়ে কৃষি খাতের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে।

//প্রতিবেদন/২৪০৪২০১৭//


এ বিভাগের আরো খবর...
তৃতীয়বারের মত ডিআরইউ অ্যাওয়ার্ড পেলেন রফিকুল ইসলাম মন্টু তৃতীয়বারের মত ডিআরইউ অ্যাওয়ার্ড পেলেন রফিকুল ইসলাম মন্টু
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় ‘সবুজ উপকূল’ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় ‘সবুজ উপকূল’
সবুজ উপকূল, সাগরপাড়ে আলোর হাতছানি সবুজ উপকূল, সাগরপাড়ে আলোর হাতছানি
‘সবুজ উপকূল’ পড়ুয়াদের সৃজনশীল মেধার বিকাশ ঘটাচ্ছে ‘সবুজ উপকূল’ পড়ুয়াদের সৃজনশীল মেধার বিকাশ ঘটাচ্ছে
‘সবুজ উপকূল’-এর পথে হাঁটছে অসংখ্য সবুজযোদ্ধা ‘সবুজ উপকূল’-এর পথে হাঁটছে অসংখ্য সবুজযোদ্ধা
উপকূল বাঁচিয়ে রাখতে ‘সবুজ উপকূল’ মাইলফলক উপকূল বাঁচিয়ে রাখতে ‘সবুজ উপকূল’ মাইলফলক
উপকূলের তরুণদের প্রকাশের আলোয় আনছে ‘সবুজ উপকূল’ উপকূলের তরুণদের প্রকাশের আলোয় আনছে ‘সবুজ উপকূল’
সবুজ উপকূল, জেগে উঠছে আগামী প্রজন্ম সবুজ উপকূল, জেগে উঠছে আগামী প্রজন্ম
লক্ষ্মীপুরে সকল শিক্ষাঙ্গনে লাইব্রেরি গড়ে তোলার দাবি লক্ষ্মীপুরে সকল শিক্ষাঙ্গনে লাইব্রেরি গড়ে তোলার দাবি
আসুন, ১২ নভেম্বর ‘উপকূল দিবস’ পালন করি আসুন, ১২ নভেম্বর ‘উপকূল দিবস’ পালন করি

লক্ষ্মীপুরে টানা বর্ষণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি!
(সংবাদটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)