ঢাকায় উপকূলের ছবি প্রদর্শনীতে যাচ্ছে রফিকুল ইসলাম মন্টু’র তোলা ছবি

- জুনাইদ আল হাবিব

রফিকুল ইসলাম মন্টু

ঢাকা : রাজধানী ঢাকায় দৃক গ্যালারিতে অনুষ্ঠিতব্য ‘উপকূল বাংলাদেশ চিত্র প্রদর্শনী’তে স্থান পেয়েছে উপকূল-সন্ধানী সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম মন্টু’র তোলা ছবি। ২৬ এপ্রিল ২০১৭ থেকে তিনদিনব্যাপী এ প্রদর্শনীতে জলবায়ু পরিবর্তনে বিপন্ন উপকূলের চিত্র তুলে ধরার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি) এ চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।

বাংলাদেশের উপকূলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিষয়ে এ প্রদর্শনীতে বিশিষ্ট আলোকচিত্রী দীন মোহাম্মদ শিবলী, হাবিব তরিকুলসহ আরও কয়েকজনের ছবি স্থান পাচ্ছে।

প্রদর্শনী শুরুর দিন বিকাল ৫টায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শনীর দ্বার উম্মোচিত হবে। তবে প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

রফিকুল ইসলাম মন্টু বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চল ঘুরে খবর লেখেন, ছবি তোলেন। পূর্ব দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ আর পশ্চিমে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের কালিঞ্চি গ্রাম পর্যন্ত ৭১০ কিলোমিটার সমুদ্ররেখায় তার পদচারণা। সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর কেন্দ্রে তুলে আনাই তার কাজের অন্যতম লক্ষ্য। ১৯টি উপকূলীয় জেলার মধ্যে ১৬টি জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে তথ্য আর ছবি সংগ্রহ করেন তিনি। জেলাগুলো হচ্ছে : চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি, চাঁদপুর, শরীয়তপুর, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা। এইসব অঞ্চল থেকে সংগৃহিত ছবির কয়েকটি স্থান পাচ্ছে দৃক গ্যালারির এ প্রদর্শনীতে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে জনজীবনে। জলবায়ুর পরিবর্তনে মানুষ নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। কখনো ঘূর্নিঝড়, কখনো জলোচ্ছ্বাস, কখনোও-বা অতিবৃষ্টি আর অনাবৃষ্টিতে ফসল ধ্বংসে কৃষকের মাথায় হাত ওঠে। কোথাও লবণাক্ততা, কোথাও বজ্রপাতের হানা, বিপন্ন হয়ে পড়ে উপকূল। কেমন আছে জলবায়ু পরিবর্তনে ছুটে চলা মানুষগুলো? নগরের উপকূলকে সেভাবে বুঝতে পারেন না। উপকূলে গিয়ে প্রকৃত চিত্র দেখার সুযোগও কম। উপকূল নিয়ে রাজধানী ঢাকায় ব্যতিক্রমী এ আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে তারই প্রতিফলন থাকবে।

চিত্র প্রদর্শনী প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম মন্টু বলেন, ‘‘আমার তোলা ছবি প্রদর্শনীতে স্থান পাচ্ছে, এটা তো নি:সন্দেহে আমার জন্য আনন্দের খবর। তবে আমি মনে করি, শুধু আমার জন্য নয়, গোটা উপকূলবাসীর জন্য এটি সুসংবাদ। কারণ এর মধ্যদিয়ে উপকূলের সমস্যা সমাধানের পথ সুগম হবে।’’

তিনি বলেন, ‘‘উপকূলের হাজারো সংকটের খবর সবার অন্তরালেই থেকে যায়। প্রান্তিকে কী ঘটছে, তা কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে না যথাযথভাবে। ফলে সমস্যা সমাধানে ধীরগতি। প্রদর্শনীর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিপন্ন উপকূলের চিত্র এবার রাজধানীর চশমা অাঁটা মানুষগুলোর চোখের সামনে উঠে আসবে। এর মাধ্যমে উপকূলের বহুমূখী সংকটের চিত্র একসঙ্গে সবাইকে দেখানো সম্ভব হবে। উপকূলের এই বিপন্নতার দৃশ্য আমরা কেউই দেখতে চাই না। আমাদের কাম্য সংকটবিহিন বসবাসযোগ্য উপকূল। এই প্রদর্শনীর মধ্যদিয়ে হয়তো সেদিকেই এগোবে উপকূল।’’

//প্রতিবেদন/২৪০৪২০১৭//


এ বিভাগের আরো খবর...
আলোকযাত্রা ভোলা দলের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ আলোকযাত্রা ভোলা দলের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ
সবুজ উপকূল ২০১৭-এর আয়োজন উপকূলের ২০ স্থানে সবুজ উপকূল ২০১৭-এর আয়োজন উপকূলের ২০ স্থানে
স্থানীয় বিশিষ্টজনদের মূল্যায়নে সবুজ উপকূল কর্মসূচি স্থানীয় বিশিষ্টজনদের মূল্যায়নে সবুজ উপকূল কর্মসূচি
সবুজ উপকূল কর্মসূচি উপকূল জুড়ে সাড়া ফেলেছে সবুজ উপকূল কর্মসূচি উপকূল জুড়ে সাড়া ফেলেছে
শিগগিরই শুরু হচ্ছে সবুজ উপকূল ২০১৭ কর্মসূচি শিগগিরই শুরু হচ্ছে সবুজ উপকূল ২০১৭ কর্মসূচি
১৪ বছরের কিশোরীকে বাল্যবিয়ে থেকে বাঁচালো আলোকযাত্রা মহেশখালী দল ১৪ বছরের কিশোরীকে বাল্যবিয়ে থেকে বাঁচালো আলোকযাত্রা মহেশখালী দল
ঈদ আনন্দে কমলনগর মেঘনা বীচে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় ঈদ আনন্দে কমলনগর মেঘনা বীচে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়
ঈদে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর মতিরহাট মেঘনা বীচ ঈদে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর মতিরহাট মেঘনা বীচ
মনপুরার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফুটালো আলোকযাত্রা দল মনপুরার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফুটালো আলোকযাত্রা দল
পর্যটকের ভিড় বাড়ছে লক্ষ্মীপুরের মতিরহাট মেঘনাতীরে পর্যটকের ভিড় বাড়ছে লক্ষ্মীপুরের মতিরহাট মেঘনাতীরে

ঢাকায় উপকূলের ছবি প্রদর্শনীতে যাচ্ছে রফিকুল ইসলাম মন্টু’র তোলা ছবি
(সংবাদটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)