টানা বর্ষন, গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে উপকূলের কৃষক

জোয়ারের পানিতে গবাদি পশু

মনপুরা, ভোলা: ভোলার মনপুরা উপকূলে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে একের পর এক অঞ্চল সহ চরাঞ্চল পানিতে প্লাবিত হয়। এতে মানুষের পাশাপাশি গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দেওয়ায় অর্ধালক্ষাধিক পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে এই উপকূলের কৃষক। একদিকে মাঠে ফসলের ক্ষতি অন্যদিকে গো-খাদ্যের সংকট এনিয়ে দুঃচিন্তায় ভেঙ্গে পড়েছেন কৃষক।

বইশা চরের বাতান (মহিষ ও গরু রাখে যারা) ফরিদ, জুয়েল দাস ও নান্নু জানান, বইশার চরে প্রায় ৫ হাজার মহিষ ও গরু আছে। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে চর প্লাবিত হওয়ায় গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। গত চারদিন পশু ঘাসের পরিবর্তে লোনা পানি পান করছে। এতে অনেকে পশু ডায়রিয়া দেখা দিয়েছে।

সোনারচরের বাতান (মহিষ ও গরু রাখে যারা) আরশাদ ও বাশার জানান, চর জুড়ে শুধু লোনা পানি। গত চারদিন পাঁশ শতাধিক মহিষ জোয়ারের পানি পান করছে। এতে অনেক পশু অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে। একই কথা বলেন বদনার চরের বাতান নশু মিয়া, কলাতলীর চরের বাতান শামসু সহ অনেকে।

উপজেলা প্রাণীসম্পদ সূত্রে জানা যায়, এই উপকূলে গরু রয়েছে ২০ হাজার ৫ শত, মহিষ ১১ হাজার ৪ শত, ছাগল ১২ হাজার ৬ শত, ভেড়া ৪ হাজার ৫ শত।

উপজেলা উপ-সহকারি প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ লোকমান জানান, বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে উপজেলা সহ চরাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অর্ধালক্ষাধিক পশুর চরম গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। ঘাসের পরিবর্তে দানাদার খাবার দেওয়ার জন্য কৃষককে পরামর্শ দিচ্ছি। এছাড়াও অসুস্থ্য পশুদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/২৩০৪২০১৭//

রফিকুল ইসলাম মন্টু

রফিকুল ইসলাম মন্টু

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলের ৭১০ কিলোমিটার জুড়ে তার পদচারণা। উপকূলীয় ১৬ জেলার প্রান্তিক জনপদ ঘুরে প্রতিবেদন লিখেন। পেশাগত কাজে স্বীকৃতি হিসাবে পেয়েছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেকগুলো পুরস্কার।
পাঠকের মন্তব্য