খেসারি চাষে আগ্রহ কম, কৃষক ঝুঁকছে সয়াবিনে

জুনাইদ আল-হাবিব

কমলনগরের সয়াবিন ক্ষেত

কমলনগর, লক্ষ্মীপুর : “খেসারি ডাল” এক সময়ের জনপ্রিয় ফসলের নাম। মানুষের মাঝে ফসলটা সুস্বাদু খাবারও বটে। শীত মৌসুমে আমন ধান উঠে গেলে জমিতে হালচাষ করা ছাড়াই খেসারি বীজ প্রয়োগ করলে তিন মাসের মধ্যেই খেসারির ফসল ঘরে তোলা যায়। এর তেমন একটা যত্নও করতে হয় না, খরচও তেমন বেশি নয়। তবুও লাভ চোখে পড়ে না। আগে দেখা যেত, গ্রামের প্রতিটি কৃষকের ঘরে কিংবা বাড়িতে খেসারিতে ভরে থাকতো। চাষ হতো অনেক বড় ক্ষেতে। এখন তা আর চোখে পড়ে না। হাতে গোনা কয়েকজন কৃষকই কেবল ছোট জমিতে খেসারি চাষ করেন শুধুমাত্র পরিবারের সদস্যদের খাওয়ার জন্য।

খেসারির ফসল জমি থেকে সংগ্রহের কথা শুনলে গ্রামের মানুষ দল বেঁধে ছুটতো খেসারি উঠানোর জন্য। জমির মালিক খেসারি উঠাতে কাজ করা শ্রমিকদের মাঝে খেসারি ভাগ করে দিতেন। প্রত্যহ ভোরে খেসারি ডাল আগুনে গরম করে চাল ভাজার সাথে খেয়ে পানি পান করে কৃষক ছুটতেন কাজের সন্ধানে।

এছাড়া পেঁয়াজু আর খিঁচুড়ির মতো সুষম খাবারগুলো তৈরি হয় খেসারি ডাল দিয়ে। আগে এর জনপ্রিয়তা ছিলো অন্য রকম। তবুও কেন দিনদিন কমছে এর চাষাবাদ? কেনই বা কমছে এরজনপ্রিয়তা? জানতে চেয়েছিলাম কৃষকদের কাছে। তারা জানান, “আমরা খেসারি চাষ করতাম অনেক বেশি। এবং এর চাহিদাও বেশি। কিন্তু, এর দাম আমাদেরকে হতাশায় ফেলে। শুষ্ক মৌসুমে অধিকাংশ কৃষক এখন সয়াবিন, মরিচ, বাদাম চাষে আগ্রহী।

এক বিঘা জমিতে খেসারির চেয়ে অন্যান্য ফসল দ্বিগুন উৎপাদন করা সম্ভব এবং সেগুলোর চাহিদা ও দাম অনেক। খেসারির চেয়ে শুষ্ক মৌসুমের অন্যান্য ফসলগুলোর ওজন বেশি। এজন্য আমরা খেসারি ডালচাষে আগ্রহ হারাচ্ছি।”

আবহাওয়া অনুকূলে হলে সয়াবিন, মরিচ ও বাদামের মতো ফসল চাষে ভালো ফলন পান কৃষকরা। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকরা। নদী তীরবর্তী এলাকার জমিগুলোতে জোয়ারের পানি প্রবেশ করলে পলি জমা হয়। ফলে, এ ধরণের ফসল কৃষকদের মনে সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। সয়াবিনের মতো ফসলগুলোর চাহিদা ও মান এবং বাজারজাতকরণে সহজ ও নায্য মূল্য পাওয়াতে কৃষকরা ভালোভাবেই এইফসলগুলো চাষে ঝুঁকছে।

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের কৃষকমোঃ নুরুল হক ২৮ বিঘা জমিতে খেসারি ডাল চাষ করেছেন। পরিবারে খেসারি ডালের চাহিদা মেটাতে তার এমনটাই প্দক্ষেপ। তিনি আশা রাখেন, চলতি বছরে চাষ করা খেসারি দিয়ে দুই-তিন বছর পেঁয়াজু, খিঁচুড়ি তৈরি করে খাবেন এবং এর কিছু একটা অংশ বিক্রি করবেন।

//প্রতিবেদন/০১০৩২০১৭//


এ বিভাগের আরো খবর...
জনতার প্রিয় মানুষ এমপি মুকুল জনতার প্রিয় মানুষ এমপি মুকুল
একুশে বইমেলায় সাংবাদিক ছোটন সাহার ‘মেঘের আঁধারে’ একুশে বইমেলায় সাংবাদিক ছোটন সাহার ‘মেঘের আঁধারে’
‘সমৃদ্ধশালী মডেল ঢালচর গড়তে চাই’ : আবদুস সালাম হাওলাদার ‘সমৃদ্ধশালী মডেল ঢালচর গড়তে চাই’ : আবদুস সালাম হাওলাদার
কুয়াকাটায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ সমাপ্ত কুয়াকাটায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ সমাপ্ত
তৃতীয়বারের মত ডিআরইউ অ্যাওয়ার্ড পেলেন রফিকুল ইসলাম মন্টু তৃতীয়বারের মত ডিআরইউ অ্যাওয়ার্ড পেলেন রফিকুল ইসলাম মন্টু
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় ‘সবুজ উপকূল’ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় ‘সবুজ উপকূল’
সবুজ উপকূল, সাগরপাড়ে আলোর হাতছানি সবুজ উপকূল, সাগরপাড়ে আলোর হাতছানি
‘সবুজ উপকূল’ পড়ুয়াদের সৃজনশীল মেধার বিকাশ ঘটাচ্ছে ‘সবুজ উপকূল’ পড়ুয়াদের সৃজনশীল মেধার বিকাশ ঘটাচ্ছে
‘সবুজ উপকূল’-এর পথে হাঁটছে অসংখ্য সবুজযোদ্ধা ‘সবুজ উপকূল’-এর পথে হাঁটছে অসংখ্য সবুজযোদ্ধা
উপকূল বাঁচিয়ে রাখতে ‘সবুজ উপকূল’ মাইলফলক উপকূল বাঁচিয়ে রাখতে ‘সবুজ উপকূল’ মাইলফলক

খেসারি চাষে আগ্রহ কম, কৃষক ঝুঁকছে সয়াবিনে
(সংবাদটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)