লক্ষ্মীপুরে শিখনকেন্দ্রে শিখছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা

- মনির হোসেন রবিন

লক্ষ্মীপুরের একটি শিখনকেন্দ্র, ক্লাস শুরুর আগে প্যারেড

রায়পুর, লক্ষ্মীপুর : উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর। এক সময় এই জেলার অনেক গ্রাম গুলোতে শিক্ষার আলো পোঁছায়নি। এ জেলার লক্ষ্মীপুর ও রায়পুর উপজেলায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে শিশু শিখন কেন্দ্র। ২০১৩ সাল থেকে লক্ষ্মীপুরে চালু হয় শিশু শিখন কেন্দ্র। দেশি বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার অর্থায়নে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা  ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের ডাম সি এল সি প্রকল্প এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে।

শিশু শিখন কেন্দ্রে ভর্তি হয়ে বিনামূল্যে পাঠ গ্রহন করে আলোকিত হচ্ছে এখানকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের ডাম সি এল সি প্রকল্পের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মোঃ নাজমুল হোসেন  জানান, রায়পুর ও লক্ষ্মীপুর উপজেলায় ১৬৭ টি শিশু শিখন কেন্দ্র চালু রয়েছে। এর মধ্যে মাল্টিগ্রেট পদ্ধতিতে ১ম শ্রেনী থেকে ৫ম শ্রেনি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা পাঠ দান করে আসছে। এবার ৪৯ জন শিক্ষার্থী  প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরিক্ষায় অংশগ্রহন করছে।

তিনি আরো জানান, প্রতিটি কেন্দ্র পরিচালনার জন্য রয়েছে দুইটি করে পরিচালনা কমিটি।ওই কমিটি সদস্যরা প্রতি মাসে কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য একটি সভা করে থাকেন। আবার অভিভাবকদের সচেতন করার লক্ষ্যে প্রতি মাসে একটি করে অভিভাবক সভা করা হয় এবং শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য স্যাভলন,তুলা ও পরিস্কার পানি পানের জন্য কলসি ও মগ প্রদান করেন। পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, আনন্দ- বিনোদন, বিভিন্ন জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক দিবস পালন করা হয়। সপ্তাহে একদিন ছবি আঁকা, কারুকাজ ও সাংস্কৃতিক ক্লাস নেয়া হয়। নিয়মিত বইয়ের পাশাপাশি শিশুতোষ বই , বিভিন্ন ধরনের গল্পের বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছে শিশুরা, যা শহরের অনেক নামি দামি স্কুলের শিশুরাও পায় না।

এছাড়া নিরক্ষর মায়েদের কাছে মায়ের বই পোঁছিয়ে দিচ্ছেন। তিনি আরো বলেন গ্রামের সাধারন মানুষ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক শিক্ষায় অভিগম্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এলাকার শিক্ষানুরাগীরা নিয়মিত কর্মসূচি পরিদর্শন করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। শিখন কেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখা যায় গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই কেন্দ্রগুলো।

কমিউনিটি কর্তৃক প্রদত্ত একটি উপযুক্ত ঘরে সংস্থা থেকে সরবরাহকৃত উপকরনের মাধ্যমে আনন্দদায়ক পরিবেশে লেখা পড়া করছে ৩০ জন শিক্ষার্থী। প্রতিটি স্কুলে স্থানীয় এলাকা থেকে এসএসসি-এইচএসসি পাস একজন প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত শিক্ষিকা যত্ন সহকারে ক্লাস নিচ্ছেন। সংস্থা থেকে শিশুদের বই খাতা কলম বিনামূল্যে দেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করে শিশুরা পড়ালেকা শিখছে, যা বিচ্ছিন্ন একটি অজপাড়াগাঁয়ে কল্পনা করা যায় না।

অভিভাবকদের সাথে আলাপ কালে তারা জানান, তাদের সন্তানেরা টাকা পয়সার অভাবে লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত ছিল। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের শিখন কেন্দ্রে গিয়ে তারা এখন শিক্ষায় অলোকিত হচ্ছে। তাদের মেধার অনেক বিকাশ ঘটেছে।

এ ব্যপারে রায়পুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ফাতেমা ফেরদৌসী জানান, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনকে আমি ধন্যবাদ জানাই। তারা শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিয়েছে।

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/১১১২২০১৬//


এ বিভাগের আরো খবর...
বরগুনার পুলিশ লাইন স্কুলে দেয়াল পত্রিকা ‘বেলাভূমি’র যাত্রা শুরু বরগুনার পুলিশ লাইন স্কুলে দেয়াল পত্রিকা ‘বেলাভূমি’র যাত্রা শুরু
আলোকযাত্রা ভোলা দলের উদ্যোগে দু’দিনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন আলোকযাত্রা ভোলা দলের উদ্যোগে দু’দিনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় সবুজ উপকূল ২০১৭ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় সবুজ উপকূল ২০১৭ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
কুয়াকাটায় সবুজ উপকূল ২০১৭ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত কুয়াকাটায় সবুজ উপকূল ২০১৭ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
পটুয়াখালীর চরমোন্তাজে সবুজ উপকূল ২০১৭ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত পটুয়াখালীর চরমোন্তাজে সবুজ উপকূল ২০১৭ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
ভোলার চরফ্যাসনে সবুজ উপকূল ২০১৭ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ভোলার চরফ্যাসনে সবুজ উপকূল ২০১৭ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
গাছের চারা লাগিয়ে আলোকযাত্রা বরগুনা দলের বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন পুলিশ সুপার গাছের চারা লাগিয়ে আলোকযাত্রা বরগুনা দলের বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন পুলিশ সুপার
আলোকযাত্রা দলের পাশে আছি, বললেন বরগুনা পুলিশ সুপার আলোকযাত্রা দলের পাশে আছি, বললেন বরগুনা পুলিশ সুপার
আলোকযাত্রা ভোলা দলের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ আলোকযাত্রা ভোলা দলের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ
সবুজ উপকূল ২০১৭-এর আয়োজন উপকূলের ২০ স্থানে সবুজ উপকূল ২০১৭-এর আয়োজন উপকূলের ২০ স্থানে

লক্ষ্মীপুরে শিখনকেন্দ্রে শিখছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা
(সংবাদটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)