খুলনা বিভাগের ৫ জেলায় গম চাষ বন্ধের সিদ্ধান্তে হতবাক কৃষকরা!

- প্রবীর বিশ্বাস

গম ক্ষেত

খুলনা : ছত্রাক জনিত রোগ ব্লাস্ট। এই রোগের সংক্রমণে গেল বছর নষ্ট হয়েছে হাজার হাজার হেক্টর জমির গম। এর থেকে রক্ষায় পুড়িয়ে ফেলতে হয়েছে কৃষকের ঘামে ভেজা ফসল গম। সে কারনে এবছর বøাস্ট সংক্রমণের শঙ্কায় খুলনা বিভাগের পাঁচ জেলাসহ মোট সাত জেলায় গম চাষে বিরত থাকতে বলেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। আগামী দুই বছরের মধ্যে এই জীবাণু দমন করার কৌশল হাতে নেওয়ার পদ্ধতি এটা। আর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ আপাততঃ অন্য ফসল ফলানোর। অপরদিকে হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্তে হতবাক হয়েছে কৃষকরা।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ্য মতে, বিভাগে ১০ জেলায় ২০১২-২০১৩ সালে ৫৫ হাজার ৮৮৪ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হলেও আবাদ হয়েছিল ৬৭ হাজার ৫০৩ হেক্টর জমিতে। আর এক লক্ষ ৫৬ হাজার ৪৭৫ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরিতে উৎপাদন হয়েছিল দুই লক্ষ ৬২ হাজার ৬২৯ মেট্রিক টন। ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে ৬৩ হাজার ৯৬১ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা রাখা হলেও আবাদ হয়েছিল ৬৩ হাজার ৪১৭ হেক্টরে। এক লক্ষ ৯৫ হাজার ৮১ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরিতে উৎপাদন হয়েছিল দুই লক্ষ ৪২ হাজার ৩২০ মেট্রিক টন। ২০১৪-২০১৫ সালে ৬০ হাজার ১৪১ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রায় আবাদ হয়েছিল ৬৯ হাজার ৩৭১ হেক্টরে। উৎপাদন হয়েছিল এক লক্ষ ৮৬ হাজার ৪৩৬ মেট্রিক টনের বিপরিতে দুই লক্ষ ৫৮ হাজার ৪০৭ মেট্রিক টন। আর ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে ৬৭ হাজার ৯০৭ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হলেও আবাদ হয়েছিল ৬৭ হাজার ৫৬৫ হেক্টরে। কিন্তু গত বছর দুই লক্ষ ১৪ হাজার ৪৫৪ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরিতে উৎপাদন হয়েছিল মাত্র এক লক্ষ ৬৮ হাজার ৩৪০ মেট্রিক টন। শুধু মাত্র ব্লাস্ট রোগের কারনে এমন পরিস্থিতি বলে দাবি কৃষি কর্মকর্তাদের।

গেলো বছর শত শত একর জমির ফসলের সাথে পুড়ে ছাই কৃষকের স্বপ্ন। এ দৃশ্য গত মার্চের হলেও, কৃষকদের জীবিকা হারানোর শঙ্কা জেগেছে আবারও। এর এক মাত্র কারণ ব্লাস্ট রোগ। তাই এবছর বিজ্ঞানীদের পরামর্শকে আমলে নিয়ে খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া, যশোর, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা এবং বরিশাল বিভাগের বরিশাল ও ভোলার প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে গমের চাষে বিরত থাকতে বলেছে কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, গেল বছর এই রোগের কারণে ফলন কমেছে ৩০ থেকে শতভাগ পর্যন্ত।

খুলনা অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক (চঃদঃ) মোঃ আব্দুল লতিফ বলেছেন, গমের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ব্লাস্ট রোগ মহামারী হিসেবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কৃষকদের গম চাষ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে। এই রোগে আক্রান্ত গমের ফলন ব্যাপকভাবে কমে যায়। তাই অধিদপ্তর চেষ্টা করছে যেসব জেলায় এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে সেখানে গম চাষাবাদ নিরুৎসাহিত করতে। কৃষকদের এই রোগ মোকাবেলায় উদ্বুদ্ধকরণ সভাসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, কয়েক বছর একই জমিতে গম উৎপাদন বন্ধ রাখলে এই জীবানু নিমূল হওয়া সম্ভব। তাই এই সব জমিতে গম না করে ডাল, তেলজাতীয় শস্য ও ভূট্টাসহ বিকল্প ফসল চাষ করার পরামর্শ দেন তিনি।

এ নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ও প্লান ফটোলজিস্ট মোঃ রেজাউল ইসলাম জানান, মূলতঃ গমের বীজ থেকেই বøাস্টের উৎপত্তি। আক্রান্ত বীজের মাধ্যমে গমের ব্লাস্ট রোগ ছড়ায়। দিনে গরম আর রাতে ঠান্ডা এবং বৃষ্টির কারণে গমের শীষ ১২-২৪ ঘণ্টা ভেজা থাকলে এবং তাপমাত্রা ১৮ সেন্টিগ্রেড বা এর বেশি হলে এ রোগের সংক্রমণ হয়। এই রোগের জীবাণু দ্রুত বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত জমি ও চোরাই পথে আসা বীজ গম সংগ্রহ না করার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া গমের শীষ বের হওয়ার সময় থেকে দুবার ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেন রেজাউল ইসলাম। তার উপর ফসল তুলে প্রতিবছর ক্ষেত পুড়িয়ে নেওয়ার পরামর্শ তাঁর। আর ক্ষেতে আগাছা না থাকলে খঁড়কুটা ফেলে আগুন জ্বেলে দিতেও বলেন তিনি।

বøাস্টের বৈজ্ঞানিক নাম ম্যগনাপোরথি অরাইজি (পাইরিকুলারিয়া অরাইজি)। মেহেরপুর ও যশোর বিএডিসির মাধ্যমে প্রথম এ রোগের প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হয়। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের ক্ষতিকর ছত্রাকজনিত ব্লাস্ট রোগ বাংলাদেশের গম ক্ষেতগুলোতে জেঁকে বসে। যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের ধান ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগের উপস্থিতি থাকলেও তা কখনই তেমন ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারেনি। কিন্তু গম ক্ষেতের ব্লাস্ট চাষিদের স্বপ্নকে ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে। গম উৎপাদনকারী এমন কয়েক জন কৃষক জানান, গত বছর গম ক্ষেত নষ্ঠ হওয়ায় আমরা বড় অংকের ক্ষতির মধ্যে পড়েছি। আর এবছর হঠাৎ করে গম চাষ বন্ধ করায় আমরা গতবাক হয়েছে। তাই বুঝতে পারছিনা এখন কি করবো। এজন্য সরকারি বিশেষ প্রনোদনাসহ অন্যান্য সহযোগিতা চান কৃষকরা।

//প্রতিবেদন/উপকূল বাংলাদেশ/২১১১২০১৬//


এ বিভাগের আরো খবর...
লক্ষ্মীপুরে সকল শিক্ষাঙ্গনে লাইব্রেরি গড়ে তোলার দাবি লক্ষ্মীপুরে সকল শিক্ষাঙ্গনে লাইব্রেরি গড়ে তোলার দাবি
আসুন, ১২ নভেম্বর ‘উপকূল দিবস’ পালন করি আসুন, ১২ নভেম্বর ‘উপকূল দিবস’ পালন করি
বরগুনার তালতলীতে লাউপাড়া স্কুলে দেয়াল পত্রিকা ‘বেলাভূমি’ প্রকাশিত বরগুনার তালতলীতে লাউপাড়া স্কুলে দেয়াল পত্রিকা ‘বেলাভূমি’ প্রকাশিত
টেংরাগিরি সংরক্ষিত বন পর্যবেক্ষন করলো বরগুনার লাউপাড়া স্কুলের পড়ুয়ারা টেংরাগিরি সংরক্ষিত বন পর্যবেক্ষন করলো বরগুনার লাউপাড়া স্কুলের পড়ুয়ারা
শরণখোলার ধানসাগরে উৎসবমূখর পরিবেশে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত শরণখোলার ধানসাগরে উৎসবমূখর পরিবেশে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ফেনীর সোনাগাজীতে উৎসবমূখর পরিবেশে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত ফেনীর সোনাগাজীতে উৎসবমূখর পরিবেশে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে উৎসবমূখর পরিবেশে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে উৎসবমূখর পরিবেশে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
চাঁদপুরের হাইমচরে সবুজের আহবানের ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত চাঁদপুরের হাইমচরে সবুজের আহবানের ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ভোলার তজুমদ্দিনে উৎসবমূখর পরিবেশে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত ভোলার তজুমদ্দিনে উৎসবমূখর পরিবেশে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
ভোলার তজুমদ্দিনে উৎসবমূখর পরিবেশে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত ভোলার তজুমদ্দিনে উৎসবমূখর পরিবেশে ‘সবুজ উপকূল’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

খুলনা বিভাগের ৫ জেলায় গম চাষ বন্ধের সিদ্ধান্তে হতবাক কৃষকরা!
(সংবাদটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)