অভিভাবকহীন আশ্রয়ন প্রকল্প!

- কাজী সাঈদ

আশ্রয়ন প্রকল্প, নির্মাণের পর এভাবেই অবিভাবকহীন পড়ে থাকে

কুয়াকাটা, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ : কুয়াকাটা সংলগ্ন লতাচাপলী ইউনিয়নের নয়ামিশ্রিপাড়া আশ্রয়ন কেন্দ্রটি অভিভাবকহীন হয়ে পরেছে। দীর্ঘদিন  মেরামতের উদ্যোগ না দেয়ায় বসবাসের অনুপযোগী হয়েছে। তবুও জরাঝির্ণ ধ্বংসস্তুপের মধ্যে বসবাস করছে ভিটা-মাটিহীন অসহায় মানুষগুলো। প্রতিনিয়ত বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখে এখানকার বাসিন্দারা। দেড় শতাধিক মানুষ নিয়তির নিকট ভাগ্য পরিবর্তনের ফরিয়াদ জানাচ্ছে প্রতিমুহূর্তে। কর্তাব্যক্তিদের নিকট একাধিকবার মেরামতের আবেদন করেও কোন সুফল মেলেনি। এক যুগেও পায়নি রেজিষ্ট্রি দলিল।

সরেজমিনে জানা গেছে, ২০০৪-০৫ অর্থ বছরে নয়ামিশ্রিপাড়া আশ্রয়ন কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। দুই সারিতে চারটি ব্যারাকে ৪০টি ঘর কক্ষ রয়েছে। আধাঁপাকা টিনসেট আশ্রয়ন কেন্দ্র নির্মাণে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর একটি টিম কাজ করেন। নির্মাণ শেষে ৪০টি কক্ষ এলাকার অসহায় পরিবারকে বরাদ্দ দেয়া হয়। অবশ্য বর্তমানে ১৩টি কক্ষ খালী রয়েছে। অভাবের সাথে যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে উপকূলের বিভিন্ন স্থানে চলে গেছে। এখনও বসবাস করছেন তাদের ভাষ্য যারা চলে গেছেন, তারা ভাল আছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, টিনের চালায় মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। বড় বড় অসংখ্য ছিদ্র হওয়ার কারণে মেরামত করতে পারছেন না বাসিন্দারা। যাদের সামর্থ আছে তারা ঘরের ভিতরে মোটা পলিথিন বিছিয়ে ছাপড়ার নিচে বাস করছে। আর যাদের পলিথিন কেনার সামর্থ নেই, তারা হাড়ি-পাতিলে চালের ছিদ্র দিয়ে পরা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করছে। আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরগুলোর খুঁটি (পিলার) খসে পড়ছে। মাত্রাতিরিক্ত লবনাক্ততার কারণে পিলারগুলো নাজুক হয়ে পরেছে। ঘরগুলো ভেঙ্গে না পরলেও যে কোন মুহূর্তে বড় ধরণের দূর্ঘটনার আশংকা করেছেন এখানকার বাসিনন্দারা।

প্রত্যেকটি ঘরের দরজা, জানালা, বেড়া ভেঙ্গে গেছে। পাটের চট ও পলিথিন দিয়ে কোনমতে চলছে বসবাস। বৃষ্টি হলেই ঘরে থাকা চাল, ডাল, শুকনো খাবারসহ কাপড়-চোপড় ভিজে যাচ্ছে। এক কথায় অভিভাবকহীন আশ্রয়ন কেন্দ্র বসবাসকারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছে।

অভাব অনটনের সংসারে পরিবার পরিজনের ভরণ পোষণ জোগাড় করা তাদের জন্য কঠিন। ভাঙ্গা ঘর মেরামত করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবুও আশ্রয়ন কেন্দ্রেই আশ্রয় নিতে হচ্ছে তাদের। এখানে বসবাসরত দেড় শতাধিক মানুষের জন্য তিনটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। তারমধ্যে দু’টি গত কয়েক বছর ধরে নষ্ট রয়েছে। একটি নলকূপ তাদের বিশুদ্ধ পানির ভরসা। মাঝে মাঝে সেটিও নষ্ট হলে বাসিন্দারা চাঁদা তুলে মেরামত করে। রান্নার পানি আনতে হয় বেড়িবাঁধের ভিতরের লতাচাপলী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই হাওলাদারের পুকুর থেকে।

সরেজমিনে কথা হয় বেল্লাল হোসেন, মঞ্জুমিয়া, ছকিনা বেগম, রাশেদা বেগমসহ অনেকের সাথে। তারা বলেন, ‘মোরা দিন আনি দিন খাই। রোদে পুড়ি বৃষ্টিতে ভিজি। সরকার মোগো আশ্রয়ন কেন্দ্রে আশ্রয় দিয়ে আর খোঁজ খবর নেয় না। ভাগ্যে যা আছিল তা অইতে আছে। কারো প্রতি কোন রাগ নাই, কারো দোষ নাই, দোষ মোগো কপালের।’

রেজিষ্ট্রি দলিল না পাওয়ার বিষয়ে আশয়ন কেন্দ্রের সহ-সভাপতি মোঃ মানিক মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘যখন রেজিষ্ট্রি দলিলের কার্যক্রম শুরু হয় তখন ৩১টি পরিবার এখানে ছিল। পরিবার প্রতি ৫০০ টাকা দিতে হয়েছে কলাপাড়া উপজেলা ভূমি অফিসের কর্তাদের। আমরা শুনেছি অনেক আগে দলিল সম্পাদন হয়েছে। এখন আবার ৫০০ টাকা দিতে হবে বিধায় কেউ আনছে না।’

এ বিষয়ে আশ্রয়ন প্রকল্পের সভাপতি ছলেমান মুন্সী জানান, তিনি এখানকার বসবাসরত মানুষের দুঃখ দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে আবেদন করলেও কোন সুফল আসেনি। শুধু  আবেদনের প্রেক্ষিতে দু’বার মহিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বার বার পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন পর্যন্তই তাদের উদ্যোগ ইতি টানে, আলোর মুখ দেখে না।

এ ব্যাপারে কথা হয় মহিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মোঃ সেলিম খান’র সাথে। তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক (রাজস্ব) পটুয়াখালী মহোদয়ের নির্দেশে সরেজমিনে তদন্ত করেছি। আশ্রয়নবাসী অতি দুঃখ-কষ্টে জীবন যাপন করছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে আবাসনটি মেরামত করার জন্য উধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে।’

কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বীপক কুমার রায় জানান, তারা ইতোমধ্যে লতাচাপলী ইউনিয়নের চারটি আশ্রয়ন প্রকল্প মেরামতের জন্য উধ্বতন কর্তৃপক্ষের অবহিত করেছেন।


এ বিভাগের আরো খবর...
তৃতীয়বারের মত ডিআরইউ অ্যাওয়ার্ড পেলেন রফিকুল ইসলাম মন্টু তৃতীয়বারের মত ডিআরইউ অ্যাওয়ার্ড পেলেন রফিকুল ইসলাম মন্টু
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় ‘সবুজ উপকূল’ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় ‘সবুজ উপকূল’
সবুজ উপকূল, সাগরপাড়ে আলোর হাতছানি সবুজ উপকূল, সাগরপাড়ে আলোর হাতছানি
‘সবুজ উপকূল’ পড়ুয়াদের সৃজনশীল মেধার বিকাশ ঘটাচ্ছে ‘সবুজ উপকূল’ পড়ুয়াদের সৃজনশীল মেধার বিকাশ ঘটাচ্ছে
‘সবুজ উপকূল’-এর পথে হাঁটছে অসংখ্য সবুজযোদ্ধা ‘সবুজ উপকূল’-এর পথে হাঁটছে অসংখ্য সবুজযোদ্ধা
উপকূল বাঁচিয়ে রাখতে ‘সবুজ উপকূল’ মাইলফলক উপকূল বাঁচিয়ে রাখতে ‘সবুজ উপকূল’ মাইলফলক
উপকূলের তরুণদের প্রকাশের আলোয় আনছে ‘সবুজ উপকূল’ উপকূলের তরুণদের প্রকাশের আলোয় আনছে ‘সবুজ উপকূল’
সবুজ উপকূল, জেগে উঠছে আগামী প্রজন্ম সবুজ উপকূল, জেগে উঠছে আগামী প্রজন্ম
লক্ষ্মীপুরে সকল শিক্ষাঙ্গনে লাইব্রেরি গড়ে তোলার দাবি লক্ষ্মীপুরে সকল শিক্ষাঙ্গনে লাইব্রেরি গড়ে তোলার দাবি
আসুন, ১২ নভেম্বর ‘উপকূল দিবস’ পালন করি আসুন, ১২ নভেম্বর ‘উপকূল দিবস’ পালন করি

অভিভাবকহীন আশ্রয়ন প্রকল্প!
(সংবাদটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)