শাহপরীর দ্বীপ বিলুপ্তিতে দায়ী কে?

- আবদুল বাসেদ, টেকনাফ

শাহপরীর দ্বীপের চিত্রটেকনাফ : সত্যিকারের ঘুমন্ত মানুষকে জাগানো যায়, কিন্তু যারা ঘুমের বান করে থাকে তাদেরকে কখনও জাগিয়ে তুলা সম্ভব হয়না। ঠিক তেমনই অবস্থা হয়েছে আমাদের টেকনাফের তিন কর্তা এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবরাং ইউপি চেয়ারম্যানের। টেকনাফের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা শাহপরীরদ্বীপের সমস্যা ও সমাধান তাদের জানা আছে শতভাগ। ঘুমের বানধরা সেই ৩ ব্যাক্তির সামান্য আন্তরিকতা ও পরিকল্পনায় এই শাহ্ পরীর দ্বীপের প্রায় চল্লিশ হাজার মানুষের সমস্যার যথাযত সমাধান হতো।

শাহ্ পরীর দ্বীপের প্রায় চল্লিশ হাজার মানুষ এই দেশের নাগরিক হয়েও ভিনদেশী রোহিঙ্গার মতো জীবন যাপন করছে এই স্বাধীন দেশ ও মাতৃভূমিতে। নিচের ছবি গুলো বিধবস্ত নেপালের ভূমিকম্পের পরিত্যক্ত এলাকার কোনো ছবি নয়। এই ছবি গুলো শাহ্ পরীর দ্বীপের জনম দুখী অসহায় মানুষের নিত্যদিনের দুঃখ দুর্দশার ছবি।

কি অপরাধ ছিল শাহ্ পরীর দ্বীপের জনগনের যারা নিরঙ্কুশভাবে ভোট দিয়ে দুই দুইবার এমপি বানিয়েছে আলহাজ্ব আবদুর রহমান বদি (সি আই পি) কে? জনসমর্থন না থাকা সত্যেও এলাকার ছেলে হিসেবে এক চেটিয়া ভোট দিয়ে দুই দুইবার সাবরাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান করেছে হামিদুর রহমান কে? সর্বশেষ বেড়ীবাঁধ রক্ষার প্রত্যাশা নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে আলহাজ্ব জাফর আহমদ কে গণহারে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে।

দুঃখজনক হলেও সত্য এবং বাস্তবতা এটাই যে, ভোট নামক সোনার হরিণটি আদায় হওয়ার পরে কোন নেতা আর খবর রাখেনা শাহ্ পরীর দ্বীপ বাসীর। প্রয়োজন শেষ হওয়ার পরে শাহ্পরীর দ্বীপ বাসীকে ধবংসের আস্তাকুড়ে বারে বারে নিক্ষেপ করেছে তারা। হয়ত শাহ্পরীর দ্বীপ বিলিন হয়ে অথৈ সাগরের জলের সাথে মিশে যাবে, কিন্তু কি কারণে, কাদের কি স্বাথের কারণে দ্বীপ বিলুপ্ত হয়েছে তা দ্বীপ বাসীর মনের গভীরে পাথরেরমত জমাট বেঁেধ থাকবে। স্মৃতি ও ইতিহাসের কালো অধ্যায়টি লাল কলমে লিখে রাখবে প্রতিটি মানুষ।

আগামী প্রজন্ম জানতে চাইবে- শাহ্পরীর দ্বীপকি সাগরের প্রবল ঢেউর আঘাতে বিলীন হয়েছে, নাকি কতিপয় ব্যাক্তির পরিকল্পিত নীল নকশায় বিলিন করা হয়েছে। একটি প্রশ্নের উত্তর পেতে শাহপরীরদ্বীপের মানুষ কখনো ভূলবেনা, তা হল শাহপরীরদ্বীপ বিলুপ্তিতে দায়ীকে?

বেড়ীবাঁধ রক্ষার নামে এরই মধ্যে কয়েকবার সরকারি কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা ছাড়া সত্যিকারের লোক দেখানোর কাজে কোনো সুফল শাহ্ পরীর দ্বীপ বাসী পায়নি। ইতিমধ্যে শাহপরীরদ্বীপের কয়েকটি গ্রামের কয়েকশত পরিবার এই মাতৃভূমি ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমিয়েছে। অনেকে অর্ধাহারে- অনাহারে অসহায় নিাতিপাত করছে। আর যারা এখনো মাতৃভূমির নাড়ীর টানে শাহপরীরদ্বীপে আছে তাদের অবস্থা নিচের ছবি দেখলেই কিছুটা অনুমান করা যায়।
জোয়ারের সময় পানিতে ডুবে নৌকা নিয়ে চলাচল আর ভাটার সময় শরণার্থীর মতো কাঁদা মাটির উপর দিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করতে হয়।

শাহপরীরদ্বীপে প্রত্যেক নিত্য পণ্যের দাম চড়া যেন আরেক সেন্টমার্টিন। অথচ এমন সময় ছিল যখন আমরা বাড়ির উঠান থেকে গাড়িতে উঠে যোগাযোগ করেছি টেকনাফ সহ অন্যান্য এলাকার সাথে। আমরা কি আর সেই সোনালি সুদিন গুলো ফিরে পাবো না? আমাদেরকেও কি চলে যেতে হবে শৈশবের স্মৃতি বিজড়িত প্রিয় এই মাতৃভূমি শাহপরীরদ্বীপ ছেড়ে?? ঘুম ভাঙবে কখন, আমাদেও সেই ভোট প্রিয় নেতাদের?

বর্তমান সরকারের সময় সারা বাংলাদেশ সহ উখিয়া-টেকনাফে যে রেকর্ড পরিমান উন্নয়ন হয়েছে স্বাধীনতার পর চল্লিশ বছরে এতো উন্নয়ন হয়নি। কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত কারনে,অদৃশ্য অপরাধে আমাদের শাহ্ পরীর দ্বীপ বাসীকে এই সরকারের উন্নয়নের জোয়ার থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে আমাদের নেতৃবৃন্দ। কি অপরাধ শাহ্ পরীর দ্বীপ বাসীর জানতে চাই???? আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে?

শাহ্ পরীর দ্বীপবাসীর আকূল আবেদন আর টালবাহানা না করে অনতিবিলম্বে এই দুঃখ দূর্দশা লাগবের ব্যবস্থা করা হউক।

লেখাটি আবদুল বাসেদ, ছাত্র, টেকনাফ ডিগ্রী কলেজ-এর ফেইসবুক থেকে সংগৃহিত


এ বিভাগের আরো খবর...
২৯ এপ্রিল স্মরণ, উপকূল সুরক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংস্কার দাবি ২৯ এপ্রিল স্মরণ, উপকূল সুরক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংস্কার দাবি
ভয়াল ২৯ এপ্রিল, উপকূলে নিয়ে আসে কষ্ট-বেদনা! ভয়াল ২৯ এপ্রিল, উপকূলে নিয়ে আসে কষ্ট-বেদনা!
উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনী, রফিকুল ইসলাম মন্টু’র ছবির গল্প উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনী, রফিকুল ইসলাম মন্টু’র ছবির গল্প
উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনী শেষ || উপকূল সুরক্ষায় নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ বিশিষ্টজনদের উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনী শেষ || উপকূল সুরক্ষায় নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ বিশিষ্টজনদের
ঢাকার দৃক গ্যালারিতে ৩ দিনব্যাপী উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনীর সমাপ্তি ঢাকার দৃক গ্যালারিতে ৩ দিনব্যাপী উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনীর সমাপ্তি
ঢাকায় উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে রফিকুল ইসলাম মন্টু’র তোলা ছবি ঢাকায় উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে রফিকুল ইসলাম মন্টু’র তোলা ছবি
দৃক গ্যালারিতে চলছে উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনী, আজ শুক্রবার শেষদিন দৃক গ্যালারিতে চলছে উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনী, আজ শুক্রবার শেষদিন
উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনী || উপকূলে নজর বাড়ানোর দাবি দর্শনার্থীদের উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনী || উপকূলে নজর বাড়ানোর দাবি দর্শনার্থীদের
রাজধানীর দৃক গ্যালারিতে ৩ দিনব্যাপী ‘উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনী’ শুরু রাজধানীর দৃক গ্যালারিতে ৩ দিনব্যাপী ‘উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনী’ শুরু
দৃক গ্যালারিতে ‘উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনী’ চলবে শুক্রবার পর্যন্ত দৃক গ্যালারিতে ‘উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনী’ চলবে শুক্রবার পর্যন্ত

শাহপরীর দ্বীপ বিলুপ্তিতে দায়ী কে?
(সংবাদটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)