সুন্দরবনে নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন, খুলনায় প্রতিবাদ

- প্রতিবেদক উপকূল বাংলাদেশ

সুন্দরবনের বৃক্ষ নিধন ও এর প্রতিবাদে মানববন্ধনখুলনা : বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনে নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের প্রতিবাদে ৩ জানুয়ারি রবিবার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্ত্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ফাল্গুনী কুমার মন্ডল, জাহাঙ্গীর আলম, জয় বিশ্বাস, রোমেল বিশ্বাস, সোহাগ প্রমুখ। মানববন্ধনে শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, চোরাকারবারীদের ব্যাপক তৎপরতায় পৃথিবীর একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২১ ও ২২ ডিসেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক ও পিএইচডি ছাত্র মোঃ রবিউল আলম প্রধান বন সংরক্ষক এর অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন পয়েন্টে পিএইচডি কাজের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য যান। রাত আনুমানিক ১০.৩০ টার পর হতে ৪.০০ পর্যন্ত নদী হতে চরে গাছ ফেলতে এবং চর হতে নসিমন/ভটভটি যোগে তা বহন করতে দেখেন। এছাড়া সকালে যখন সুন্দরবনের হাই সাহেবের খাল দিয়ে সুন্দরবনের ভিতর কাজের জন্য প্রবেশ করেন তখন দেখতে পান অসংখ্য গাছের গোড়া ও আগা কাটা। যতো ভিতরের দিকে প্রবেশ করেন ততো দেখতে পান গাছ কাটার দৃশ্য।

তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ শেষে টইল ফাঁড়িতে ফিরে এসে কর্তব্যরত অফিসারের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। উপরোন্ত তারা গ্রামের নিরীহ অভাবী লোকদের দোষারোপ করেন। বন বিভাগের কর্মীদের দায়িত্ব কর্তব্যের অবহেলায় ও এক শ্রেণির অসাধু ব্যাক্তিদের স্বার্থ চরিতার্থের জন্য বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের ক্ষতি কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

উল্লেখ্য, ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের সুন্দরবন উপকুলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা এবং বাগেরহাটের বির্স্তীন জনপদকে ঝড়-জলোচ্ছাস, বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগ হতে রক্ষা করে। বিচিত্র জীববৈচিত্র্যের আধার বাংলাদেশের সুন্দরবন বাণিজ্যিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ১২০ প্রজাতির মাছ, ২৭০ প্রজাতির পাখি, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ সরীসৃপ এবং ৮টি উভচর প্রজাতির আবাসস্থল। সুন্দরবন আমাদেরকে মায়ের মতো দেখভাল করে রাখে। সুন্দরবন ভালো থাকলে আমাদের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক সব কিছুই ভালো থাকবে। প্রাকৃতিক এই সুন্দরবনের জন্য বিশ্বব্যাপী আমাদের অনেক পরিচিতি।

সুন্দরবনকে রক্ষার জন্য দেশের প্রতিটি মানুষের আন্তরিকতার যেমন প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন বন বিভাগের কর্মীদের সততার সাথে দায়িত্ব পালন করা। মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে সুন্দরবনের বৃক্ষনিধনের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানানো হয়। মানববন্ধন থেকে সুন্দরবনকে রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী, বন ও পরিবেশমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

//প্রবীর বিশ্বাস/উপকূল বাংলাদেশ/খুলনা/০৩০১২০১৬//


এ বিভাগের আরো খবর...
২৯ এপ্রিল স্মরণ, উপকূল সুরক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংস্কার দাবি ২৯ এপ্রিল স্মরণ, উপকূল সুরক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংস্কার দাবি
ভয়াল ২৯ এপ্রিল, উপকূলে নিয়ে আসে কষ্ট-বেদনা! ভয়াল ২৯ এপ্রিল, উপকূলে নিয়ে আসে কষ্ট-বেদনা!
উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনী, রফিকুল ইসলাম মন্টু’র ছবির গল্প উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনী, রফিকুল ইসলাম মন্টু’র ছবির গল্প
উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনী শেষ || উপকূল সুরক্ষায় নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ বিশিষ্টজনদের উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনী শেষ || উপকূল সুরক্ষায় নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ বিশিষ্টজনদের
ঢাকার দৃক গ্যালারিতে ৩ দিনব্যাপী উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনীর সমাপ্তি ঢাকার দৃক গ্যালারিতে ৩ দিনব্যাপী উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনীর সমাপ্তি
ঢাকায় উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে রফিকুল ইসলাম মন্টু’র তোলা ছবি ঢাকায় উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে রফিকুল ইসলাম মন্টু’র তোলা ছবি
দৃক গ্যালারিতে চলছে উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনী, আজ শুক্রবার শেষদিন দৃক গ্যালারিতে চলছে উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনী, আজ শুক্রবার শেষদিন
উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনী || উপকূলে নজর বাড়ানোর দাবি দর্শনার্থীদের উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনী || উপকূলে নজর বাড়ানোর দাবি দর্শনার্থীদের
রাজধানীর দৃক গ্যালারিতে ৩ দিনব্যাপী ‘উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনী’ শুরু রাজধানীর দৃক গ্যালারিতে ৩ দিনব্যাপী ‘উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনী’ শুরু
দৃক গ্যালারিতে ‘উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনী’ চলবে শুক্রবার পর্যন্ত দৃক গ্যালারিতে ‘উপকূল আলোকচিত্র প্রদর্শনী’ চলবে শুক্রবার পর্যন্ত

সুন্দরবনে নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন, খুলনায় প্রতিবাদ
(সংবাদটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)