মেয়ের ছবি বুকে আগলে বেঁচে আছেন চাঁদনীর মা

মেয়ের ছবি বুকে আগলে বেঁচে আছেন চাঁদনীর মাজিয়ানগর (পিরোজপুর) : ঘূর্নিঝড় সিডরে নিহত একমাত্র মেয়ে চাঁদনির ছবি বুকে নিয়ে আজও বেঁচে আছে চাঁদনির মা ফিরোজা বেগম (৩৫)। চাঁদনির বয়স তখন মাত্র ৪ বছর। সিডরের রাতে পানির তোড়ে মায়ের কোল থেকে চাঁদনি ভেসে যায়। পরদিন মৃত অবস্থায় তাকে পাওয়া যায় ২ কিলোমিটার দূরের একটি ধানক্ষেতে। মা আজও মেয়ের ছবি বুকে নিয়ে বেঁচে আছেন কোন রকমে।

শুধু চাঁদনি নয়, ঘূর্ণিঝড় ’’সিডর’’ জিয়ানগর থেকে কেড়ে নিয়েছে ৬৫ জনের প্রাণ। ২০০৭ সালের আজকের এই দিনে ঘটে যাওয়া সুপার সাইক্লোন সিডরের ভয়াবহতার কথা স্মরণ করে আজও আঁতকে ওঠেন জিয়ানগরের মানুষ।

প্রকৃতি যে মানুষের উপর এতটা নিষ্ঠুর আচরণ করতে পারে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বরের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ’’সিডর’’ তার নিকৃষ্ট উদাহরন। আজকের এই দিনে দেশের দক্ষিন-পশ্চিম অঞ্চলের ১২টি জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রলয়ংকরী এ ঝড়ে শুধু মানবকুলের অস্তিত্বই নয়, ধ্বংসযজ্ঞে পরিনত হয় গোটা উপকুলীয় এলাকার বিস্তীর্ন জনপথ। প্রকৃতির নিষ্ঠুর আঘাতে সেদিন অসংখ্য প্রানহানী সহ বহু স্থাপনা, রাস্তাঘাট, বেড়িবাঁধ, আবাসস্থল, পশুপাখি, জীবজন্তু, গাছপালা সবকিছুই মাটির সাথে মিশে যায়। ঐ একটি রাত তছনছ করে দেয় অনেকের সাজানো সংসার।

সিডরের মরন ছোবলে ভেঙ্গে খানখান হয়ে যায় খাদিজা, চেহারাভানু, জয়নব বিবি, লালভানুর মত অনেকের লালিত স্বপ্ন।

ঐদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঝড়ের আলামত শুরু হলেও রাত ১১ টার দিকে প্রচন্ড বেগে জিয়ানগর এলাকায় আঘাত হানে সিডরের প্রলয় থাবা। এসময় ৮ থেকে ১০ ফুট জলোচ্ছাসে প্লাবিত হয়ে যায় বিস্তীর্ন এলাকা। হাজার হাজার গাছপালা এবং সহস্রাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ায় গৃহহীন হয়ে পড়ে অসংখ্য পরিবার।

চারিদিকে নদী বেষ্টিত সমুদ্র উপকুলবর্তী এলাকা জিয়ানগরে সেদিন সিডরের হিংস্র থাবায় নারী, পুরুষ, শিশুসহ ৬৫ জনের প্রানহানি ঘটে। আহত হন শতশত নারী পুরুষ। উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের মধ্যে সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় ৩নং বালিপাড়া ইউনিয়ন। শুধু ঐ এলাকায়ই নিহত হয় ৫৭ জন। সিডরের ৮টি বছর পার হয়ে গেলেও এখনো ক্ষত চি‎নহ শুকায়নি অনেক পরিবারের।

পূর্ব চন্ডিপুর গ্রামের জেলে মনির গাজী সেদিনের দু:সহ স্মৃতি মনে করে বলেন, সেদিন বড় ড্যাগের (পাতিল) মধ্যে করে ভাসিয়ে নিয়ে আমার দুই শিশুর প্রান রক্ষা করি।

একই গ্রামের ১২ বছরের শিশু সোহাগ বলেন, সিডরের সময় আমার বয়স তখন ৫ বছর। বাঁচার জন্য সেদিন আমি সহ আরো ৮ জন শিশু তিন ঘন্টা পানির সাথে যুদ্ধ করে একটি আম গাছের ডাল ধরে জীবন বাঁচাই।

বালিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জু বলেন, সিডরে আমার এ ইউনিয়নে অসংখ্য প্রাণহানী সহ গাছপালা, বাড়িঘর ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

//খান মোঃ নাসির উদ্দিন/উপকূল বাংলাদেশ/জিয়ানগর-পিরোজপুর/১৪১১২০১৫//


এ বিভাগের আরো খবর...
বরগুনায় বাণিজ্যিক সূর্যমুখী চাষে লাভবান কৃষক বরগুনায় বাণিজ্যিক সূর্যমুখী চাষে লাভবান কৃষক
পাইকগাছার পড়ুয়ারাদের প্রকৃতিপাঠ, সবুজে গড়ছে জীবন পাইকগাছার পড়ুয়ারাদের প্রকৃতিপাঠ, সবুজে গড়ছে জীবন
উপকূলের উদীয়মান সংবাদকর্মী ছোটন সাহা’র ছুটে চলার গল্প উপকূলের উদীয়মান সংবাদকর্মী ছোটন সাহা’র ছুটে চলার গল্প
কমলনগরে পড়ুয়াদের সবুজ জগত, অনুপ্রেরণায় ‘সবুজ উপকূল’ কমলনগরে পড়ুয়াদের সবুজ জগত, অনুপ্রেরণায় ‘সবুজ উপকূল’
শ্যামনগরে পড়ুয়ারা গড়ে তুলেছে পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন শ্যামনগরে পড়ুয়ারা গড়ে তুলেছে পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন
জনতার প্রিয় মানুষ এমপি মুকুল জনতার প্রিয় মানুষ এমপি মুকুল
একুশে বইমেলায় সাংবাদিক ছোটন সাহার ‘মেঘের আঁধারে’ একুশে বইমেলায় সাংবাদিক ছোটন সাহার ‘মেঘের আঁধারে’
‘সমৃদ্ধশালী মডেল ঢালচর গড়তে চাই’ : আবদুস সালাম হাওলাদার ‘সমৃদ্ধশালী মডেল ঢালচর গড়তে চাই’ : আবদুস সালাম হাওলাদার
কুয়াকাটায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ সমাপ্ত কুয়াকাটায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ সমাপ্ত
তৃতীয়বারের মত ডিআরইউ অ্যাওয়ার্ড পেলেন রফিকুল ইসলাম মন্টু তৃতীয়বারের মত ডিআরইউ অ্যাওয়ার্ড পেলেন রফিকুল ইসলাম মন্টু

মেয়ের ছবি বুকে আগলে বেঁচে আছেন চাঁদনীর মা
(সংবাদটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)