শব্দ দূষণে হুমকিতে সাগরের জীববৈচিত্র্য

- ডেস্ক উপকূল বাংলাদেশ

প্রতীকী চিত্রঢাকা: আন্তর্জাতিক এক বিজ্ঞানী দল দাবি করেছেন, সাগর তলার জীববৈচিত্র্য বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার একটি বড় কারণ শব্দ দূষণ।সম্প্রতি একটি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে তারা এ বক্তব্য তুলে ধরেন।

তদের মতে, শিল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড যেমন- পানিপথে জাহাজে মালামাল পরিবহন এবং সাগরের গভীরতা পরিমাপ ও প্রাকৃতিক উপাদানের সন্ধানে ভূকম্পীয় জরিপের কারণে যে মাত্রাতিরিক্ত শব্দ দূষণ হচ্ছে, তা বন্ধ করতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার ডিউক ইউনিভার্সিটির মেরিন গবেষণাগারের সংরক্ষণ বাস্তুবিদ ডগলাস নোয়াসেক ও নিউইয়র্ক সিটির ওয়াইল্ড লাইফ কনজার্ভেশন সোসাইটির গবেষক হাওয়ার্ড রোসেনবাম গবেষণাটিতে নেতৃত্ব দেন।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, শব্দ দূষণের কারণে সাগর তলার প্রাণীদের প্রথমত শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একদিকে যেমন অতিরিক্ত শব্দ দূষণ, অন্যদিকে সাগরের নিম্ন স্তরে দীর্ঘ সময় নির্দিষ্ট মাত্রার শব্দ। পাশাপাশি এয়ার গান সৃষ্ট প্রতিধ্বনি ছদ্মবেশধারী প্রাণীদের নেভিগেশন তরঙ্গ আদান-প্রদান ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

শব্দের কারণে দীর্ঘ মেয়াদী স্ট্রেসে প্রাণীদের শারীরিক ও প্রজননজনিত সমস্যাও দেখ‍া দিচ্ছে।

মেক্সিকোর উপসাগর থেকে উত্তর সাগর পর্যন্ত গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে, হাঙ্গর থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী শব্দ দূষণের শিকার।

গবেষকদের পরামর্শ, অঞ্চল ভেদে ও প্রাণীদের অবস্থান বিবেচনায় জরিপ চালানোর ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া দরকার। যেসব এলাকায় বিপন্ন প্রাণীর উপস্থিতি টের পাওয়া যাবে, বিশেষত প্রজনন মৌসুমে ওইসব এলাকায় এয়ান গানের ব্যবহার স্থগিত রাখা দরকার। একই সঙ্গে জরিপ অন্তর্ভুক্ত এলাকায় যদি বিপন্ন প্রাণী প্রবেশ করে, সেখানেও জরিপ কাজ বন্ধ করা দরকার।

তারা বলছেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া এ সমাধান সাগর তলার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কতটা কার্যকর, আরও দীর্ঘ পরিসরে এটি গবেষণা করে দেখতে হবে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধ‍ানদের উচিৎ গবেষণা অনুযায়ী সাগর তলায় প্রাণীদের যে আবাস্থলগুলো জৈবিকভাবে সংবেদনশীল, আইন করে সে অঞ্চলে সার্বিক সীমা নির্ধারণ করা।

আধুনিক পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশের সাগর সীমায় কী ধরনের প্রাণীর উপস্থিতি রয়েছে, তাদের প্রজনন মৌসুম ও প্রজনন হার ইত্যাদি সম্পর্কে তথ্য থাকা উচিৎ। এসব তথ্যের ভিত্তিতে সাগরে শিল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড ও জরিপ কাজ চালানো দরকার।

পাশাপাশি পানিপথে অঞ্চল ভেদে জাহাজ চলাচলের গতির উপরও নিয়ন্ত্রণ আনা এখন সময়ের দাবি।

সুদূর ভবিষ্যতের জন্য তেল, গ্যাস সন্ধানে ভূকম্পীয় জরিপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এয়ার গানের ব্যবহার হতে হবে গবেষণা সাপেক্ষে।

একটি ঘটনার উল্লেখ করা যেতে পারে, আটলান্টিক অংশে মার্কিন কর্তৃপক্ষ একাধিক বহুজাতিক কোম্পানিকে জরিপ চালানোর অনুমতি দিয়েছে। অথচ পাশেই উত্তর-পশ্চিম আটলান্টিক অংশে একটি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল কেপ হ্যাটারাস। ওই এলাকায় বারবার পানি পরীক্ষা ও জরিপ চালানো একটি হাস্যকর বিষয়।

ইতোমধ্যে নরওয়ে ‘মাল্টি-ক্লায়েন্ট সার্ভে’ প্রচলন শুরু করেছে। বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানি জরিপের তথ্য পেতে আগ্রহী হলে, সবগুলো আবেদন যেন একসঙ্গে ও একবারই জরিপ চাল‍ানো হয় বলে দাবি গবেষকদের।

সাগর তলার জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে বিশ্বব্যাপী রাষ্ট্র প্রধান ও শিল্পপতিদের এসব বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করার আর কোনো সুযোগ নেই বলেও মনে করেন তারা। সূত্র : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

//ডেস্ক উপকূল বাংলাদেশ/ ২৬০৯২০১৫//


এ বিভাগের আরো খবর...
পর্যটকের ভিড় বাড়ছে লক্ষ্মীপুরের মতিরহাট মেঘনাতীরে পর্যটকের ভিড় বাড়ছে লক্ষ্মীপুরের মতিরহাট মেঘনাতীরে
আলোকযাত্রা দলের উদ্যোগে হাসি ফুটলো কমলনগরের মেঘনাপাড়ের শিশুদের মুখে আলোকযাত্রা দলের উদ্যোগে হাসি ফুটলো কমলনগরের মেঘনাপাড়ের শিশুদের মুখে
‘সবুজ উপকূল’ বদলে দিচ্ছে উপকূলের পরিবেশ ‘সবুজ উপকূল’ বদলে দিচ্ছে উপকূলের পরিবেশ
পাইকগাছায় আলোকযাত্রা দলের উদ্যোগে বিশ্ব বাবা দিবস পালিত পাইকগাছায় আলোকযাত্রা দলের উদ্যোগে বিশ্ব বাবা দিবস পালিত
অভিনয়ের মাঝেই বেঁচে থাকতে চাই | আজম খান অভিনয়ের মাঝেই বেঁচে থাকতে চাই | আজম খান
ঈদের ৪ টেলিফিল্ম, ৩ নাটকে আজম খান ঈদের ৪ টেলিফিল্ম, ৩ নাটকে আজম খান
ওরা সুযোগ চায়, আলোকিত মানুষ হতে চায়! ওরা সুযোগ চায়, আলোকিত মানুষ হতে চায়!
মিজানের বাঁচার আকুতি! মিজানের বাঁচার আকুতি!
হাতিয়া ভাঙ্গন | তামজিদ উদ্দীন হাতিয়া ভাঙ্গন | তামজিদ উদ্দীন
উপকূল সুরক্ষায় ১২ জরুরি বিষয়ে নজর দিন উপকূল সুরক্ষায় ১২ জরুরি বিষয়ে নজর দিন

শব্দ দূষণে হুমকিতে সাগরের জীববৈচিত্র্য
(সংবাদটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)