পরিচিতি

উপকূল বাংলাদেশ

নাম : উপকূল বাংলাদেশ || শুভ উদ্বোধন : ১৪ নভেম্বর ২০১০ || ডোমেইন ক্রিয়েশন : ২৩ অক্টোবর ২০১০ || প্রকাশের স্থান : ঢাকা, বাংলাদেশ || ভাষা : বাংলা ও ইংরেজি || লক্ষ্য : বিচ্ছিন্ন উপকূলীয় জনপদের তথ্য কেন্দ্রে নিয়ে আসা || বৈধতা : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কোম্পানি আইনের অধীনে জয়েন্টস্টক কোম্পানি থেকে রেজিস্ট্রিভূক্ত ‘উপকূল বাংলাদেশ লিমিটেড’এর আওতায় প্রকাশিত। || কর্মক্ষেত্র : পূর্ব-উপকূল (চট্টগ্রাম [আংশিক], কক্সবাজার, লক্ষীপুর, ফেনী, নোয়াখালী জেলা), মধ্য-উপকূল (বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, চাঁদপুর [আংশিক]), পশ্চিম-উপকূল (খুলনা [আংশিক], বাগেরহাট, সাতক্ষীরা)। মোট উপজেলা ৯৪টি, মোট সংসদীয় আসন ৫৬টি, মোট জনসংখ্যা প্রায় ৫ কোটি।

:: আমাদেরকে আরও বিস্তারিত জানুন ::

আমাদের কমিউনিটি

কেন এ উদ্যোগ

কী করতে চাই

আলোকযাত্রা

সমর্থকগোষ্ঠী

সহায়তার আহবান

বিজ্ঞাপন মূল্য

টিম উপকূল বাংলাদেশ

যোগাযোগ

 

উপকূল বাংলাদেশ যাত্রা শুরুর অনুষ্ঠান, ১৪ নভেম্বর, ২০১০প্রতিকূলে উপকূল : দেশের উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকা বাস্তবতার এক কঠিন নিগড়ে বাঁধা। প্রতিনিয়ত তাদেরকে প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজন করে টিকে থাকতে হচ্ছে। উপকূলের দীর্ঘ এলাকা কখনো প্লাবনে ডুবে যায়, কখনো ঝড়-বন্যায় ভেসে যায় মানুষজন কিংবা সম্পদ। এ অঞ্চলের বহু এলাকা এখনো উন্নয়ন সুবিধা পৌঁছেনি। গড়ে ওঠেনি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। রাস্তাঘাট, কালভার্ট, হাসপাতাল কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। দ্বীপ চর কিংবা বিচ্ছিন্ন চরের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।

বিশ্বব্যাপী উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কোন কোন এলাকায় এরইমধ্যে দেখা দিয়েছে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়। নদী-ভাঙ্গণে বিলীন হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো ভাসমান দিন কাটাচ্ছে। জীবিকা নির্বাহ করছে অনাহার-অর্ধাহারে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা অঞ্চলের জীবযাত্রাকে বলতে গেলে অচল করে রাখছে। এরই প্রভাব পড়ছে সমাজের নানা স্তরে। অশিক্ষা-অসচেতনতার কারণে গোটা অঞ্চল অনগ্রসর থেকে যাচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি সেবা পৌঁছাচ্ছেনা সাধারণ মানুষের কাছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বদলে যাচ্ছে দেশের উপকূলের চিত্র। মানুষগুলোকে টিকে থাকতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করে। জলবায়ু পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় পরিবেশ উদ্বাস্তুতে পরিণত হওয়া পরিবারগুলো ভাসমান দিন কাটাচ্ছে। তাদের দিন কাটছে অনাহার-অর্ধাহারে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এ অঞ্চলের জীবযাত্রা প্রায় অচল করে রেখেছে। বহুমূখী প্রতিবন্ধকতায় উপকূলের মানুষগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদেরকে মানিয়ে নিতে পারছেনা।

জলবায়ু পরিবর্তরের প্রভাবে বহুমূখী দুর্যোগে বিপর্যস্থ হয়ে পড়ছে দেশের উপকূলীয় এলাকা। সাম্প্রতিককালে নদী ভাঙ্গণ বেড়েছে। সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। প্রাকৃতিক সম্পদের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। এরইমধ্যে সমূদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার ভয়াবহতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে উপকূল এলাকার মানুষের জীবন জীবিকার ধরন। প্রভাব পড়েছে সুন্দরবনের ওপর। প্রকৃতির রূদ্ররূপ সুন্দরবনের অস্তিত্ব বিলীন করে দিচ্ছে। জোয়ারের পানির প্রভাব বেড়েছে। পানিতে বাড়ছে লবনাক্ততা। আর এর প্রভাব পড়ছে কৃষি ব্যবস্থার ওপর। সমূদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে দেশের উপকূলীয় এলাকার জন্য অপেক্ষা করছে এক ভয়াবহ দুর্যোগের সংকেত। নিচু এলাকা তলিয়ে যাবে। লবনাক্ততা বাড়বে। দেখা দিবে জলাবদ্ধতা। সেই ভয়াবহতার জন্য এখন যেমন আতংক রয়েছে, তেমনি এরই মধ্যে কিছু কিছু প্রভাব দেখা দিয়েছে।গবেষণা সূত্র বলছে, ১৯৬১ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে গড়ে প্রতি বছর তাপমাত্রা বেড়েছে দশমিক ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ১৯৬১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দেশে গড়ে প্রতি বছর তাপমাত্রা বেড়েছে দশমিক ৭২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শেষ দশ বছরে তাপমাত্রা এত বেশি বেড়েছে যে ৪০ বছরের গড় তাপমাত্রার হার দ্বিগুন হয়েছে। গত ১০০ বছরে বাংলাদেশে তাপমাত্রা বেড়েছে পেয়েছে প্রায় দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, একই সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েছে দশমিক ৫ মিটার। দক্ষিণ পশ্চিম খুলনা অঞ্চলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হার রেকর্ড করা হয়েছে ৫.১৮ মিলিমিটার। এইসব তথ্য থেকে দেখা যায়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে অত্যন্ত ধীর গতিতে। এরপরও এ হারে বৃদ্ধির হার অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৮৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে।


পরিচিতি
(পাতাটি ভালো লাগলে কিংবা গুরুত্ত্বপূর্ণ মনে হলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।)
tweet